kalerkantho

ঢাকার আদলে চট্টগ্রামেও বইমেলা

উদ্বোধনী দিনে দর্শনার্থীর ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার আদলে চট্টগ্রামেও বইমেলা

নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম চত্বরে গতকাল অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে বড় পরিসরে রাজধানী ঢাকার আদলে অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম চত্বরে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি।

উদ্বোধনী দিনেই মেলায় দর্শনার্থীর ভিড় চোখে পড়ে। ১৯ দিনব্যাপী এই বইমেলা প্রথম দিনেই বেশ জমে ওঠে। চলতি মাসজুড়ে চলবে মেলা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই মেলায় ঢাকা-চট্টগ্রামের সৃজনশীল ও খ্যাতনামা অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে। শুরুতে দর্শনার্থীর পদচারণা দেখে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থাগুলোর মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ এবং চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এই মেলার উদ্যোগ নেন। মেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজক চসিক জানায়।

রবিবার উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। এর আগে বিকেল ৫টায় রংবেরঙের বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চসিকের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন কলেজের ছাত্রীরা।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠানে বইমেলা পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, সচিব সুমন বড়ুয়া, যুগ্মসচিব লেখক-গবেষক জামাল উদ্দীন, মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, আশেক রসুল টিপু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

জানা যায়, অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রামে ঢাকার ৬৫টি এবং চট্টগ্রামের ৫৫ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, অনুপম প্রকাশনী, আগামী প্রকাশনী, আহমদ পাবলিসিং, কাকলী, প্রথমা প্রকাশনী, সময় প্রকাশ, গ্রন্থকুঠির, কালধারা প্রকাশনী, বলাকা প্রকাশন, শৈলী প্রকাশন, আবীর প্রকাশন, প্রজ্ঞালোক প্রকাশন, শব্দশিল্প, অক্ষরবৃত্ত, চন্দ্রবিন্দু, পূর্বা, কালো, আবর্ত, দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লি., অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, খড়িমাটি, বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা ট্রাস্ট অন্যতম।

সিটি করপোরেশন থেকে জানানো হয়, মেলায় প্রতিদিন সংগীতানুষ্ঠান, রবীন্দ্র ও নজরুল উৎসব, বসন্তবরণ উৎসব, ভালোবাসা দিবস, রম্য বিতর্ক, পাঠক সমাবেশ, সাহিত্য আড্ডা, বিতর্ক-সাহিত্য-ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা রবীন্দ্র-নজরুল-লোক সংগীত, সাধারণ নৃত্য, লোক নৃত্য, আবৃত্তি, হামদ-নাদ, উপস্থিত বক্তৃতা, দেশের গান, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় জীবনে যেসব ব্যক্তি কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে থেকে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হবে। মেলায় সিসি ক্যামেরা, ফ্রি ওয়াই ফাইসহ ই-বুক ও সেলফি কর্নারের ব্যবস্থা রাখা হয়। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর স্টল রয়েছে। আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশে ঢাকার পর চট্টগ্রাম দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরই শুধু নয়, বাণিজ্যিক রাজধানীও। কিন্তু চট্টগ্রামে লেখক-প্রকাশক-পাঠক এবং নাগরিক সমাজের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল ভাষার মাসে বইমেলা আয়োজনের। এই আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দুই যুগ আগে থেকে চট্টগ্রাম নগরে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা পরিসরে নানা স্থানে বইমেলা হয়ে আসছে। কখনো একই বছরে একাধিক বইমেলা হয়েছে। তবে এতদিনের এই আয়োজনগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ বইমেলা হয়ে ওঠেনি। সম্মিলিত উদ্যোগে একটি বইমেলার আয়োজন চট্টগ্রামবাসীর আকাঙ্ক্ষা। সে আকাঙ্ক্ষা থেকেই এবার চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, লেখকের সঙ্গে গতবছরের অক্টোবর মাসে প্রথমে মতবিনিময় সভা করে সম্মিলিত উদ্যোগে একটি বইমেলা অনুষ্ঠানের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামে বৃহত্তর পরিসর ও প্রকাশকদের সমন্বয়ে আর কোনো সময় বইমেলা হয়নি। ঢাকার আঙ্গিকে বইমেলা করার জন্য চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ এবং নাগরিক সমাজ, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে মেলায় প্রায় ৮০ হাজার ৩০০ বর্গফুট স্থানজুড়ে ১১০টি স্টল রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা