kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক

অর্ধশত মরা গাছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্ধশত মরা গাছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে অর্ধশত মরা গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ছবিটি চন্দ্রঘোনা এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদাসীনতার শেষ নেই! ভোগান্তির অপর নামে পরিণত হয়েছে সড়কটি। সারাবছর উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়কের এমনিতেই বেহাল দশা। এ ছাড়া সড়কের উপর বসে বাজার। অটোরিকশা স্ট্যান্ড, সড়ক ও ফুটপাত দখলসহ নানা কারণে সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এতে নিত্য যানজট ও দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

এর সঙ্গে নতুন সমস্যা হিসেবে যুক্ত হয়েছে সড়কের পাশ ঘেঁষে থাকা অর্ধশত মরা গাছ। গাছগুলোর কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। সামান্য বাতাসেও গাছগুলোর ডালপালা ভেঙে পড়ে চলাচলরত যানবাহনের উপর। এতে যাত্রীরা জখম হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলে আসলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের লিচুবাগান থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অর্ধশত মরা গাছ রয়েছে। ফুলগাছ, ইউক্লিপটাসসহ নানা প্রজাতির বিশাল আকৃতির এসব গাছ পাতাবিহীন মরা ডালপালা ছড়ানো অবস্থায় রয়েছে। বাতাস না থাকলেও অনেক সময় জীর্ণ গাছগুলো সড়কে ভেঙে পড়ছে। অন্যদিকে সামান্য বাতাসেও বিশাল আকৃতির গাছগুলো সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের উপর ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মারাত্মক জখম হয় যাত্রী সাধারণ।

জানা যায়, সম্প্রতি রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় সড়কের একটি মরা গাছ ভেঙে পড়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের উপর। এতে দুমড়ে মুচড়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি। ঘটনায় গুরুতর আহত হয় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ড্রাইভার মোহাম্মদ আলী (৩৫) ও ভেতরে থাকা রোগীর স্বজন মো. সোহেল (২২)। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ নিজ উদ্যোগে রাঙ্গুনিয়াবাসীর সেবার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেন ওই অ্যাম্বুলেন্সটি। দুর্ঘটনার পর থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে পড়ে আছে।

অ্যাম্বুলেন্সচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদাসীনতায় আমরা দুর্ঘটনার মুখে পড়েছি। তারা যদি মরা গাছগুলো যথাসময়ে কেটে নিত তাহলে দুর্ঘটনাটি ঘটত না। আমরা তো মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছি। তারা যদি এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে হয়ত আবার কোনো সময় মরা গাছ ভেঙে পড়ে প্রাণহানি ঘটবে।’

রোয়াজারহাট এলাকার অটোরিকশাচালক নুরুল আজিম মনু বলেন, ‘সড়কের পাশের মরা গাছগুলোর কারণে গাড়ি চালাতে গিয়ে ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। আর বাতাস এলে তো এগুলোর ডালপালা নিশ্চিত ভেঙে পড়ে গাড়ির উপর। এতে প্রায়ই গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। গাড়ির সমস্যা হয়। গাড়িতে থাকা চালক-যাত্রীরাও আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাই এসব মরা গাছ কেটে ফেলা জরুরি। এমনকি নিয়মিত অন্য গাছের ডালপালা কাটাও প্রয়োজন।’

মরিয়মনগর চৌমুহনী এলাকার অ্যাডভোকেট জয় বড়ুয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মরিয়মনগর চৌমুহনী থেকে লিচুবাগান পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২০-৩০টি মরাগাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব গাছ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। অথচ এগুলো কেটে নিতে সওজ কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।’

সড়কপথের নিয়মিত যাত্রী মো. ফারুক বলেন, ‘সড়কের যাত্রীর কল্যাণের কথা ভাবে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মরা গাছ কাটতেও কেন তাদের এতো অবহেলা! তাদের উদাসীনতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাঙ্গুনিয়ার সুপারভাইজার রাসেল দেওয়ান বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও বিভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করে সড়কের গাছ কাটা যায়। নিয়ম অনুসরণ করতে সময় লাগছে বলে এগুলো এখনো কাটা হয়নি।’ তবে অতি দ্রুত এগুলো কাটা হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা