kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

সাতকানিয়া

শিশুকে পাশবিক নির্যাতন খুন করে মাটিচাপা

যুবক গ্রেপ্তার

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর গলাটিপে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়েছে বখাটে যুবক। নিহতের নাম তৌহিদুল ইসলাম সায়েম (৯)। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গহিন পাহাড়ি এলাকা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত বখাটে যুবক মো. শাকিলকে  গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের গহিন পাহাড়ি এলাকা বটতলিয়া আনিকার ঝিরি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকাল ১০টা থেকে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা আবদুল মান্নানের শিশুছেলে তৌহিদুল ইসলাম সায়েমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকা ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজখবর নেন। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত সায়েমের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে সন্ধ্যার দিকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আশপাশের কয়েকজন লোক জানায় সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সায়েমকে প্রতিবেশী শাকিলের সাথে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখেছে। তখন সবাই মিলে শাকিলকে খুঁজে বের করে শিশু সায়েম কোথায় জানতে চায়? বখাটে শাকিল প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তার সাথে যাওয়ার কথা স্বীকার করে এবং পাহাড় থেকে আবার তার সঙ্গে ফিরে এসেছে বলে জানায়।

শাকিলের কথায় সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানোসহ নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে শাকিল জানায়, শিশু সায়েম সকালে তার সাথে পাহাড়ে গিয়েছিল। সায়েমকে সে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়েছে।

পরে তার দেখানো মতে, মাদার্শার গহিন জঙ্গলে বটতলিয়া আনিকার ঝিরি নামক স্থান থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। এরপর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সাথে বখাটে যুবক ও মাদার্শা আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকার মো. ইউনুচের ছেলে মো. শাকিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মাদার্শা ইউপি চেয়ারম্যান আ ন ম সেলিম বলেন, ‘বখাটে শাকিলের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সে জানিয়েছে, পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে শিশু সায়েমকে তার সঙ্গে নিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে শাকিল শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। পরে শিশুটি নির্যাতনের কথা ফাঁস করে দেওয়ার ভয়ে শাকিল তাকে গলাটিপে হত্যা করেছে।’

সাতকানিয়া থানার এসআই মাহামুদুল করিম জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকে শিশু তৌহিদুল ইসলাম সায়েম নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সবদিকে খোঁজ-খবর নেওয়ার পরও সায়েমের সন্ধান পাচ্ছিল না বলে জানায় তার পরিবার। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, সায়েমকে সকালে বখাটে শাকিলের সাথে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখেছে। এরপর এলাকার লোকজন শাকিলকে আটক করে সায়েমের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে পুরো ঘটনা স্বীকার করে নেয়। পরে তার দেখানো স্থান থেকে শিশু সায়েমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এসআই মাহামুদুল করিম আরো জানান, গহিন পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে শিশু সায়েমকে হত্যার পর প্রথমে গর্তে ফেলে বালিচাপা দেয় এবং উপরে গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে দেয়। পুলিশ শিশু সায়েমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বখাটে যুবক মো. শাকিলকে ঘটনার দিন রাতেই গ্রেপ্তার করেছে। নিহত শিশুর বাবা আবদুল মান্নান বাদী হয়ে গতকাল শনিবার সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. শাকিলকে আজ রবিবার আদালতে পাঠানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা