kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

জাফরের প্রার্থিতা নিয়ে কেটে গেল ধোঁয়াশা

কক্সবাজার-১

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাফরের প্রার্থিতা নিয়ে কেটে গেল ধোঁয়াশা

চট্টগ্রাম নগরে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জাফর আলম। ছবি : কালের কণ্ঠ

কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আসন বন্টন এবং চূড়ান্তভাবে দলের প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সব গুজব ও জল্পনা-কল্পনার অবসান হল কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে। এখানে মহাজোটের একক প্রার্থী হিসেবে জাফর আলমকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেন সাধারণ মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, নৌকার প্রার্থী হিসেবে ইতোপূর্বে জাফর আলমকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হলেও মহাজোটভুক্ত জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পাটির দুই নেতাও মনোনয়নপত্র দাখিল করেন নির্বাচন কমিশনে। এতে কেউ কেউ দ্বিধায় পড়েন, আসলে মহাজোটগতভাবে এ আসনে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন।

শুক্রবার রাতে মহাজোটের শরিক দলের সঙ্গে আসন বন্টন শেষে চূড়ান্তভাবে ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় কক্সবাজার-১ আসনে জাফর আলমের নাম থাকায় সকল গুজব ও অপপ্রচারের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এ আসনে চূড়ান্তভাবে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন মহাজোট প্রার্থী জাফর আলমের সঙ্গে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ।

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে থেকেই চূড়ান্ত করা ছিল কক্সবাজার-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের মনোনয়নের চিঠি পেয়ে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু সাধারণ ভোটার ও দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পাটির দুই নেতাও এ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ কারণে অনেকের মধ্যে মহাজোটের একক প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে শরিকদের মধ্যে আসন বন্টনসহ আওয়ামী লীগের ঘোষিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় জাফর আলমের নাম থাকায় সকলেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।’

চকরিয়ায় জাতীয় পার্টিতে কোণঠাসা করে রাখা সিনিয়র কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজারে বিএনপি রাজনীতির নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আঁতাত করে বর্তমান জাতীয় পার্টির এমপি মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ যে কোনো উপায়ে আবারও কক্সবাজার-১ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন বাগিয়ে আনতে বেশ তৎপর ছিলেন। এ জন্য বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঢাকায় অজ্ঞাত স্থানে গোপন বৈঠকও করেছেন তিনি।

তবে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে শেষপর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ইলিয়াছের বিজয় হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় ইলিয়াছকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রামে চকরিয়া-পেকুয়াবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম জানান : মহাজোটে নৌকার প্রার্থী জাফর আলমকে বিজয়ী করতে একজোট হয়ে মাঠে নামবেন চট্টগ্রাম শহরে অবস্থানরত চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার অধিবাসীরা।

শুক্রবার চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি মাঠে মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামে অবস্থানরত সর্বস্তরের পেশাজীবী-রাজনৈতিক কর্মীরা হাত তুলে এ ওয়াদা করেন। সভায় কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতাও উপস্থিত থেকে নৌকার পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার ঘিরে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে এর সুফল চকরিয়া-পেকুয়াবাসীর ঘরে তুলতে মহাজোট প্রার্থীকে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। অনেক বছর পর চকরিয়া আসনে আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থীকে এমপি বানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে; তাই একজোট হয়ে আমাদের জেতাতে হবে।

অনুষ্ঠানে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ১৯৭৩ সালের সংসদ সদস্য ডা. শামসুদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে জেতাতে চকরিয়ার তৃণমূলে এবং তরুণদের মধ্যে গণজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে সেই জোয়ার ঘরে তুলতে হবে।’ 

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘নৌকার পক্ষে গণজাগরণ যে চট্টগ্রামের অধিবাসীর মধ্যে পৌঁছেছে তা আজ আমি সচক্ষে দেখলাম। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কক্সবাজার ঘিরে সরকারের মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন বাস্তবায়িত হচ্ছে সেই সুফল ঘরে তুলতে পারব।’ 

কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য কমরুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি নিজেও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছি। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন আমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার চেয়েছেন তখনই ওয়াদা করেছি নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে সবাই একজোট হয়ে কাজ করব। এখন আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ-দূরত্ব নেই; আমাদের মার্কা নৌকা।’ 

সভায় চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্যানেল মেয়র জাহেদুল ইসলাম লিটু, চকরিয়া পৌরসভার প্রথম মেয়র আনোয়ারুল হাকিম দুলাল, চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (বেপজা) সাবেক মহাব্যবস্থাপক আতাউল হক, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. রেজাউল করিম মন্নু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশিদ দুলাল ও ওয়ালিদ মিল্টন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আবু তাহের, চট্টগ্রামস্থ চকরিয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক হামিদ হোসাইন, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা