kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বরিশাল কলোনি

মাদক নির্মূলের স্থায়ী পথ!

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদক নির্মূলের স্থায়ী পথ!

আখড়ার স্থানে মাদরাসার কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম নগরের বহুল আলোচিত ‘বরিশাল কলোনি’। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠা এ কলোনিতে মাদকের বীজ রোপিত হয়েছে ১৯৮২ সালে। বিগত ৩৬ বছর তথা তিন যুগে নগরে মাদকের সবচেয়ে বড় আখড়া হিসেবে কুখ্যাতি পায় এটি। কিন্তু তিন যুগ পর ওই কলোনির মাদক ‘সম্রাট’দের পতন হয়েছে। রেলওয়ের মালিকানাধীন সেই কলোনির ভূমিতে এখন মাদক নেই!

পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রির আখড়া খালি করে দেওয়ার পর সেই জমিতে এখন গড়ে উঠেছে মাদরাসা, এতিমখানা, হেফজখানা ও মসজিদ। রেলওয়ে কলোনি ও স্টেশন কলোনিসহ আশপাশের এলাকার মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ পড়বেন, এলাকার শিশুরা কোরআন শিক্ষা অর্জন করবেন। এ ছাড়া এতিমশিশুদের ঠিকানাও হবে এটি।

মাদকের আখড়া উচ্ছেদের পর সেই ভূমিতে মসজিদ-মাদরাসা গড়ে তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নেজাম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৯৮২ সাল পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের শীর্ষ মাদকের আখড়া হিসেবে কুখ্যাতি ছিল বরিশাল কলোনির। গত এপ্রিল-মে মাসের পর ওই কলোনি ঘিরে অভিযান জোরদার করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে মাদক পাচারকারীর মৃত্যু হয়। এরপর দুই শতাধিক আখড়া গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ। উদ্ধার হয় অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদক। সর্বশেষ অভিযানে ২০ মামলায় ৫০ জনের বেশি আসামি গ্রেপ্তার হয়। এরপরই মাদকসেবী ও পাচারকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদকের আখড়ায় ব্যবহৃত ভূমি খালি হওয়ার পর পুলিশ সেখানে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করে যাতে পুনরায় মাদকের আস্তানায় পরিণত না হয়। শেষে বরিশাল ও স্টেশন কলোনির বাসিন্দারাই এগিয়ে আসেন মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠায়। স্থানীয়রা মনে করছেন, মাদক নির্মূল হওয়ার পর যদি রেলওয়ের ওই জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে, তাহলে পুনরায় মাদকের আখড়ায় পরিণত হতে পারে। ওই ভূমিতে মসজিদ-মাদরাসা হলে সেখানে নিয়মিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসল্লিদের আনাগোনা থাকবে। তাহলে মাদকসেবী ও বিক্রেতারা পুনরায় আখড়া করতে পারবে না।’

স্থানীয়দের এমন উদ্যোগের বিষয়টি পুলিশ কর্মকর্তারা জানার পর ইতিবাচক মত দেন। কারণ, তিন যুগেও এই আখড়া নির্মূল করা যায়নি। এখন যদি অন্য কেউ ভিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান করেন, সেই ক্ষেত্রে মাদক ফিরে আসার আশঙ্কা আছে। তাই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবাই একমত হয়। বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরেও আনা হয়। শেষে মাদরাসা-মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয়।

গত শুক্রবার ‘তাওহীদুল উম্মাহ মাদরাসা’র শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জহির আহম্মদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আতাউল্লাহ চৌধুরী, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি জহির উদ্দিন আহম্মেদ, মাওলানা আলী আশরাফ নিজামপুরী, মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রকিবুল আলম সাজ্জি প্রমুখ।

মাদকের আখড়া উচ্ছেদের পর ওই ভূমিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর জহির আহম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘তিন যুগ ধরে মাদকের আখড়া হিসেবে এ ভূমিকে ব্যবহার করেছে মাদক পাচারকারীরা। এখন পুলিশ সেই ভূমি খালি করে দিয়েছে। মাদক নেই। পুনরায় যে মাদক ফিরে আসবে না, সেই নিশ্চয়তাও নেই। এমতাবস্থায়, ওই ভূমিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে দিয়ে মাদক ঠেকানোর স্থায়ী বন্দোবস্ত করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা