kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

‘এম এন লারমার আদর্শচ্যুতরা এখনো পাহাড়ে সক্রিয়’

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘এম এন লারমার আদর্শচ্যুতরা এখনো পাহাড়ে সক্রিয়’

খাগড়াছড়িতে এম এন লারমার ভাস্কর্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি। ছবি : কালের কণ্ঠ

এম এন লারমাপন্থী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, এম এন লারমার নীতি ও আদর্শচ্যুত পাহাড়িদের একটি অংশ এখনো পাহাড়ে সক্রিয় রয়েছে। তারা জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এরাই জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামকে শেষ করতে ১৯৮৩ সালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে হত্যা করেছিল। সেই অশুভ চক্র ও চুক্তি বিরোধীদের প্রতিহত করতে হলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আন্দোলনকে গতিশীল করার বিকল্প নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এম এন লারমা) ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শনিবার খাগড়াছড়িতে স্মরণসভায় এ কথা বলেন জনসংহতি সমিতির নেতারা। চেঙ্গী স্কোয়ারে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে মহাজনপাড়ায় ওই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন প্রফুল্ল কুমার চাকমা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক বিভূ রঞ্জন চাকমা। আরো বক্তব্য দেন জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, জেলা কমিটির সভাপতি অরুধ্যাপাল খীসা, সাধারণ সম্পাদক সিন্ধু কুমার চাকমা, ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, যুব সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দীপু চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমোধ চাকমা ও বিশিষ্ট পাহাড়ি নেতা রবি শংকর তালুকদার।

বক্তারা বলেন, ঐক্য না থাকার সুযোগে রাষ্ট্রযন্ত্র কৌশলে পাহাড়ে নির্যাতন, নিপীড়নসহ নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে আরো সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপকহারে বাঙালি পুনর্বাসন ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের নামে ভূমি অধিগ্রহণ করার কাজ চলছে।

তাঁরা একই সঙ্গে ইউপিডিএফকে চুক্তি বিরোধী অভিহিত করে বলেন, ইউপিডিএফ নামের সংগঠনটি পাহাড়ে সশস্ত্র সংঘাত জিইয়ে রেখে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তাদের খুন, অপহরণ, রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে জুম্ম জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা ইউপিডিএফকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা) ছিলেন পাহাড়িদের মধ্যে নির্বাচিত প্রথম সংসদ সদস্য। এই গেরিলা নেতা ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ভগবানটিলা সংলগ্ন ‘ইজারা’ নামক গ্রামে একদল বিভেদপন্থীর হামলায় নিহত হন। জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনীর মধ্যকার অন্ত:কোন্দল ও বিরোধের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

মন্তব্য