kalerkantho

শহীদ এ টি এম জাফরের নামে কক্সবাজারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহীদ এ টি এম জাফরের নামে কক্সবাজারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

কক্সবাজারের রামুতে গতকাল শহীদ এ টি এম জাফর আলম মাল্টিডিসিপ্লিনারি একাডেমির একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। ছবি : কালের কণ্ঠ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে বর্বর হানাদার বাহিনীর হাতে প্রথম শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র এ টি এম জাফর আলমের নামে কক্সবাজারে যাত্রা করল একটি বহুমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শহীদ জাফর আলম ছিলেন তদানীন্তন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা।

গতকাল শনিবার শহীদ এ টি এম জাফর আলম মাল্টিডিসিপ্লিনারি একাডেমি (শাজমা) নামে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং শহীদ পরিবারের সন্তান মো. শফিউল আলম। শহীদ এ টি এম জাফর আলম ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের বড় ভাই।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বলিপাড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি করার জন্য সরকার ১৫৪ একর খাস জমি বরাদ্দ দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বলেন, ‘দেশে কারিগরি শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বহুমুখী কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম পাঠশালা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। স্বল্প খরচে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে এলাকাবাসী বিদেশে গিয়ে ভালো উপার্জন করতে পারবে। তবে এই বিশাল জায়গায় একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও স্থাপন করার জন্য স্থানীয়দের দাবি বিবেচনায় আনা হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম আরো বলেন, ‘আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যরা এ প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সরকার প্রতিষ্ঠানটি করার জন্য জমি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।’ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমার বড় ভাই ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ছাত্র। তিনি সর্বশেষ পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি) মেধাভিত্তিতে উত্তীর্ণ হন। একাত্তর সালের পঁচিশে মার্চের কদিন পরে প্রশাসন বিভাগে তাঁর যোগদানেরও কথা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) ৩০৩ নম্বর রুমের এই মেধাবী ছাত্র সরকারি চাকরির চেয়ে দেশমাতৃকার জন্য লড়ে যাওয়াকেই অধিক শ্রেয় মনে করেছিলেন।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ, মো. শাহ আলম প্রমুখ।

মন্তব্য