kalerkantho

ডাক্তার-ব্যাংকার দম্পতির সংসারে অশান্তির আগুন

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডাক্তার-ব্যাংকার দম্পতির সংসারে অশান্তির আগুন

ডাক্তার স্ত্রী এবং ব্যাংকার স্বামী। দুজনের সুখের সংসারে একদিন হানা দেয় আগুন! ফেসবুকের মাধ্যমে অন্য নারীর সঙ্গে স্বামী গড়ে তুললেন সম্পর্ক। এক পর্যায়ে ওই নারীর প্রতারণা-চাঁদাবাজির শিকার হয়ে বেশ কিছু নগদ টাকাও চলে যায় ব্যাংকারের পকেট থেকে।

ঘটনা চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকার। গেল আগস্ট মাসের এ ঘটনায় মামলাও হয় কোতোয়ালী থানায়। প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ আদায় করায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। এ রহস্য উম্মোচন করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আবু বকর ছিদ্দিক।

গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের (ছদ্মনাম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে উঠে তানিয়া (ছদ্মনাম) নামে এক নারীর সঙ্গে। তানিয়া বিবাহিতা। তাঁর স্বামী একটি খুনের মামলার আসামি।

শরিফুল-তানিয়া যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্র ধরে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তখন বিষয়টি বোঝতে পারেননি ডাক্তার হোসনে আরা বেগম (ছদ্মনাম)। কিন্তু দিনে দিনে ব্যাংকার-ডাক্তারের দাম্পত্য জীবনে ভাটা দেখা দেয়। শরীফুলের অনাগ্রহী ভূমিকার কারণে সন্দেহ করেন হোসনে আরা। শেষের দিকে স্বামীর পরকীয়ার কথা জানতে পারেন তিনি। পরিবারে শুরু হয় অশান্তি। এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব বাড়ে। ওদিকে তানিয়া শুরু করেন প্রতারণা।

তানিয়ার স্বামী খুনের মামলার আসামি হওয়ায় তাঁর টাকার প্রয়োজন ছিল। এ কারণে তিনি ব্যাংকার শরীফুলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক শুরু করেন। আর নির্বিঘ্নে সম্পর্ক চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনে শরীফুল নগরের জামালখান এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। ওই বাসায় থাকেন তানিয়া। প্রায়ই তানিয়ার বাসায় যান শরীফুল। এভাবে তাঁদের দিন কাটছিল। শারীরিক সম্পর্কের ছবি ধারণ করে রাখেন তানিয়া।

পরবর্তীতে তানিয়া নানা সময়ে শরীফুলের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। যদিও বাসা ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় টাকা তানিয়াকে স্বাভাবিক নিয়মেই দিতেন শরীফুল। কিন্তু তানিয়ার বাড়তি টাকার দরকার। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। তর্কের জের সম্পর্কে অবনতি দেখা দেয়।

একপর্যায়ে তানিয়া হুমকি দেন, তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তোলা ছবি পাঠিয়ে দেবেন ডাক্তার হোসনে আরার কাছে। এতে ক্ষিপ্ত হন শরীফুল। ক্ষিপ্ত হলেও তানিয়াকে টাকা না দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না শরীফুলের। কারণ টাকা না দিলে তানিয়া ছবিগুলো ফেসবুকের ইনবক্সে ডাক্তার হোসনে আরা বেগম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিয়ে শরীফুলের সম্মানহানির হুমকি দিয়েছিলেন। এভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে থাকেন তানিয়া। শেষের দিকে এক সঙ্গে দুই লাখ টাকা দাবি করেন তানিয়া। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফুল গোয়েন্দা কার্যালয়ে যান। সেখানে গোয়েন্দাদের সমস্যার বিষয়ে অবহিত করেন।

গোয়েন্দারা তানিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে তানিয়ার মোবাইল ফোন থেকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি জব্দ করা হয়। তানিয়া স্বীকার করেন, তাঁর বাড়তি টাকার দরকার। এই কারণে শরীফুলকে চাপ দিয়ে টাকা আদায় করেছিলেন। শেষে শরীফুল বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন।

 

এ প্রসঙ্গে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আবু বকর সিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তানিয়ারা তিন বোন পারিবারিক অনুশাসনের মধ্যে বড় হননি। এ কারণে তিনি এমন পথে গেছেন। ব্যাংকারকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার আগেই তানিয়া ঠান্ডা মাথায় টাকা আদায় করেছিলেন। এমন কি ব্যাংকারকে জবাই করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তানিয়া।’

তিনি আরো বলেন, ‘মামলায় তানিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তানিয়ার বাসার সব মালামাল বাবার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরকীয়া প্রেম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিজের সংসার রেখে পরকীয়ায় জড়ালে দাম্পত্যজীবন, সাংসারিক

সুখ-শান্তি বিনষ্ট হয়। সেই সঙ্গে মানসম্মানও হানি হয়। তাই প্রত্যেকের উচিত সৎ চরিত্রবান হওয়া। অনৈতিক পথে পা বাড়ালেই পদে পদে অপেক্ষা করে বিপদ।’

মন্তব্য