kalerkantho

সীতাকুণ্ডে গ্রেপ্তার ৫

মহাসড়কে কিশোর ডাকাত

সীতাকুণ্ড ও রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাসড়কে কিশোর ডাকাত

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুরে থানায় মামলা হয়েছে। পরে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মামলার বাদী ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ট্রাফিক ইনচার্জ মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল ডাকাত মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোপন সূত্রে খবর পাই। এর পরপরই আমি ও ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিক আহমেদসহ ফোর্স নিয়ে অভিযান শুরু করি।’ তিনি জানান, অভিযানে প্রথমে ডাকাত আরাফাত ধরা পড়লেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে আরাফাতকে ফাঁড়িতে এনে জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্য সঙ্গীদের নাম বলে। গভীর রাতে ফের অভিযান চালিয়ে একে একে পাঁচ কিশোর ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দা-ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। আসামিদের সবার বয়স ১৫-১৮ বছর।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা হল সীতাকুণ্ডের সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মৃত মো. লিয়াকতের ছেলে মো. আরাফাত, একই এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে সাইফুল ইসলাম রনি, বিমল দাশের ছেলে শুভ দাশ, কোরবান আলী রাজুর ছেলে শরীফ আব্দুর রাকিব সাহেদ ও সন্দ্বীপের সন্তোষপুরের বাসিন্দা (বর্তমানে সলিমপুর) সৈয়দ আহমদ উল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান। শনিবার তাদের সবাইকে কোর্টহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

রাউজান : উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়নের পূর্ব লেলেংগারা গ্রামে এক ব্যবসায়ীকে আহত করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করা হয়েছে। এ ঘটনায় জনতার হাতে ধরা পড়া এক ছিনতাইকারীকে শুক্রবার রাতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

ঘটনার শিকার রাউজান সদরের জলিলনগরের সোহান ভিসিডির স্বত্বাধিকারী উপজেলার পূর্ব লেলেংগার দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরীর বাড়ির শাহ আলমের ছেলে মো. রবিউল হোসেন (৩২)।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এক বছর আগে একলাখ টাকা দিয়ে কেনা ঢায়ান নামের অনটেস্ট মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। বাড়ির কাছে পুকুর পাড়ে আসতেই গাড়ি চালানো অবস্থায় আমাকে অতর্কিতভাবে লাঠি ও কিরিচ দিয়ে হামলা করে চার ব্যক্তি। তাদের হামলায় আমার হাতে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। এ সময় আমি গাড়িসহ পড়ে যাই। এক পর্যায়ে প্রাণে বাঁচতে দৌঁড়ে ঘরে চলে যাই। এর পর পাড়ার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি মোটরসাইকেল নেই। ছিনতাইকারীরা নিয়ে গেছে।’

তিনি জানান, এরপর এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির ওপর সন্দেহ হয় তাঁর। প্রথমে একই পাড়ার ইদ্রিছের ছেলে আজাদের (২৫) কথাবার্তায় সন্দেহ হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার আজাদসহ এলাকার লোকজন শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে আটক করে। এর পর তিনি এলাকাবাসীর কাছে স্বীকার করেন, তাঁর চাচা একই এলাকার আবদু মাঝির ছেলে ইছাকের (৩০) নেতৃত্বে সেলিমের ছেলে মো. শাওন (২৫), এলাকার বাইরের আরো অজ্ঞাত যুবকসহ তাঁরা চারজন এ ঘটনা ঘটায়।

স্থানীয় মেম্বার সরোয়ার আজাদ বলেন, ‘ছিনতাইকারী আজাদকে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার শিকার রবিউল হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে থানায় মামলা করেছেন।’

ব্যবসায়ী রবিউল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য