kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেনীতে দুই শিশুসহ মা খুন

২১ মাসেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেনী শহরের পশ্চিম উকিলপাড়ায় দুই শিশুকে হত্যার পর মাকে খুন করার ঘটনার ২১ মাসেও ক্লু উদঘাটন হয়নি। প্রধান সন্দেহভাজন বিদেশ চলে যাওয়ায় আলোচিত এ মামলা হিমাগারে চাপা পড়ে আছে। সিআইডি পুলিশ ও মামালার বাদী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বিকেলে ফেনী সদরের পশ্চিম উকিলপাড়ার আবদুর রউফ ভূঁঞা নিবাসে নিজ শয়নকক্ষে গৃহবধূ মর্জিনা আক্তার মুক্তা (২৭), শিশু সন্তান, ফেনী সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তাসনিম আহমেদ (৮) ও ফাহিম আহমেদকে (৪) হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ঘটনার এক বছর পর ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করে পুলিশ। ঘটনা প্রথমে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও পরে নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ভিসেরা প্রতিবেদনে দেখা যায়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতদের শরীরে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। হত্যায় তৃতীয় পক্ষ জড়িত ছিল বলে নিশ্চিত করে সিআইডি পুলিশ।

মামলার বাদী, নিহত মুক্তার ভাই আনোয়ার হোসেন মাছুম জানান, ঘটনার পর ২১ মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত কর্মকর্তারা ক্লু উদঘাটনে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার পর মুক্তার স্বামী, ইতালি প্রবাসী স্বামী তারেক আহম্মদ তাঁর ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও লাইভ ভিডিওতে স্ত্রী-সন্তানের আত্মহত্যার বিষয়টি নাকচ করেন। তিনি এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিক’সহ দুজনকে দায়ী করেন।

তিনি কালের কণ্ঠের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে বলেন, ‘১০ বছর আগে জনৈক সাইফুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে কথা বলার কারণে আমরা সবাই আমার স্ত্রীকে বকাঝকা করেছিলাম। আমার শাশুড়ি, মামাশশুর ও শ্যালকরা সবাই জানে। ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর বকাঝকার পর ১০ ও ১১ ডিসেম্বর আমার স্ত্রী বাসার দরজা বন্ধ করে সিঁড়ির নিচে গিয়ে কার সঙ্গে যেন কথা বলে। প্রেমিক ইমন এবং তার বন্ধু আলমের সঙ্গে জীবনেও কথা বলবে না বলে মুক্তার ওয়াদা ছিল।’ কিন্তু ভেতরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ করেন স্বামী তারেক। তিনি বলেন, ‘তারাই আমার স্ত্রী-সন্তানকে খুন করেছে।’ ইমন মুক্তার মামাদের আত্মীয় বলে জানান তারেক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী সিআইডির এসআই (উপ-পরিদর্শক) তারেক মাহমুদ বলেন, ‘মোবাইলের কল লিস্ট ধরে তদন্ত চলছে।’ তিনি আসামির নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘খুনের প্রধান সন্দেহভাজন বিদেশ চলে যাওয়ায় মামলার অগ্রগতি কিছুটা থেমে গেছে। তবে আসামি শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর বগাদানা ইউনিয়নের কুটিরহাট এলাকার ইতালি প্রবাসী তারেক আহম্মদের সাথে ১৪ বছর আগে শহরের পশ্চিম রামপুর এলাকার উজির আলী ভূঁঞা বাড়ির মৃত আলী আহম্মদের মেয়ে মুক্তার বিয়ে হয়। ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর পশ্চিম উকিলপাড়ার পানির ট্যাংক সংলগ্ন কমিশনার মোশাররফ হোসেনের পুরাতন বাড়ির আবদুর রউফ ভূঁঞা নিবাসের নিচতলায় তালাবন্ধ বাসার দরজা ভেঙে দুই শিশু সন্তানসহ প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা