kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘উন্নয়ন ইস্যুতে’ এক হলেন নাছির ও ছালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘উন্নয়ন ইস্যুতে’ এক হলেন নাছির ও ছালাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল বৈঠক শেষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন ইস্যুতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সঙ্গে বৈঠক করল আওয়ামী লীগ। চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনভোগান্তি ও দুর্ভোগ দূর করার লক্ষ্যে নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধান দুই সেবা সংস্থার প্রধান একসঙ্গে বসলেন। গতকাল সোমবার দুপুরে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল ও প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, সেবা সংস্থাগুলোর উন্নয়নমূলক কাজে ‘সমন্বয়হীনতার’ কারণে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ হচ্ছে। বর্তমান সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অর্থ বরাদ্দ দিলেও ‘যে যার মতো’ কাজ করে আসছে। ফলে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থেকে যথাযথ সুফল আসছে না বলে অনেকের অভিমত।

এ অবস্থায় গতকাল ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হল। সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চসিকের সম্মেলন কক্ষে ওই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ‘উন্নয়ন ইস্যুতে’ এক হলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ওই দুই প্রভাবশালী নেতা। এর মধ্যে সিটি মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিডিএ চেয়ারমান একই কমিটির কোষাধ্যক্ষ।

জানা যায়, গতকালের বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সব সেবা সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে নগর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারের অংশ বিশেষ। নগরবাসী যাতে নগরে চলমান উন্নয়নের সুফল ভোগ করে সে লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরকারের চলমান উন্নয়ন বার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রামের সকল আসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়ে সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার সুযোগ সৃষ্টিতে আমাদের এই উদ্যোগ। এই নির্বাচন আমাদের অগ্নিপরীক্ষা। বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত হবে? নাকি স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক চেতনায় পরিচালিত হবে-এখনই সময় তা উপলব্ধির। জনগণের মাঝে এই অমোঘ বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।  সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র জনগণের মাঝে তুলে ধরতে হবে।’

সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘আজকের সভায় আমার সুস্পষ্ট বার্তা চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা সদাসর্বদা প্রস্তুত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম উন্নয়নের যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা রক্ষাকল্পে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম ওয়াসা, পিডিবি, কর্ণফুলী গ্যাস, টানেল নির্মাণসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। যার পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।’

চলমান কর্ণফুলী টানেলের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে ৫০ বছর এগিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যানকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এমন কাজ করতে হবে যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনাম অক্ষুণ্ন থাকে।’

নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন সিটি মেয়রকে উন্নয়নকাজের জন্য সাময়িক বন্ধ থাকা আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের এক পাশ জনগণ ও যান চলাচলের সুবিধার্থে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। 

নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু এক্সেস রোড উঁচু করার ক্ষেত্রে ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ সিস্টেম ব্যবস্থা ঠিক করার পরামর্শ দেন।

জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে জনভোগান্তি, দুর্ভোগ দূর করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী সকল সেবা সংস্থার কর্মপরিকল্পনা সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মযজ্ঞ পরিচালনার বিষয়টি আলোচনায় ওঠে আসে। এই প্রেক্ষিতে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, চউকের প্রধান প্রকৌশলী জসীম উদ্দীন ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী কাদের নেওয়াজ, আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, আবদুল রশিদ, নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মশিউর রহমান, চন্দন ধর, হাসান মাহমুদ চৌধুরী শমসের, দিদারুল আলম, আবদুল আহাদ প্রমুখ।

নগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার সিটি মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠক সফল হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওয়াসা, বিদ্যুত্, গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করব। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনের আগে যেসব প্রকল্প শেষ করা সম্ভব তার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা হবে। মানুষের যাতে দুর্ভোগ না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্ষক্রম হলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা