kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘নিরাপদে গাড়ি চালাই, নিজে বাঁচি অন্যকে বাঁচাই’

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘নিরাপদে গাড়ি চালাই, নিজে বাঁচি অন্যকে বাঁচাই’

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রচার কর্মসূচি নিয়ে গতকাল স্কাউট সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘নিরাপদে গাড়ি চালাই, নিজে বাঁচি অন্যকে বাঁচাই’ স্লোগানে চকরিয়ায় ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক গতকাল সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাড়িচালক, যাত্রী ও পথচারীদের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র (লিফলেট) বিতরণ এবং যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় সাঁটানো হয় স্টিকার। এছাড়া মাতামুহুরী সেতুর কাছে টাঙানো হয় একটি সচেতনতামূলক বিলবোর্ড।

কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষও একাত্মতা ঘোষণা করে। একইসঙ্গে যানবাহন চালকের পাশাপাশি যাত্রী-সাধারণও প্রশাসনের এই প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি দেখে বেশ খুশি। সংশ্লিষ্ট সবার আশা, এর মধ্য দিয়ে অনেকাংশে কমে আসবে সড়ক দুর্ঘটনা। তেমনি করে চালক ও যাত্রীরা সচেতন হবে। এতে অকালেই প্রাণ হারাতে হবে না কাউকে।

কর্মসূচি উদ্বোধন করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। সঙ্গে ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো. আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত, পৌরসচিব মাসউদ মোর্শেদ, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. বশিরুল আইয়ুব, পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিম, ফোরকানুল ইসলাম তিতু, মুজিবুল হক, ইউএনও কার্যালয়ের প্রধান সহকারী রতন পাল ও ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী তপন পাল, নিরাপদ সড়ক চাই চকরিয়ার সভাপতি সোহেল মাহমুদ প্রমুখ। এছাড়া চকরিয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্কাউট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিটের স্কাউট কর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পৌরশহর চিরিঙ্গার বায়তুশ শরফ সড়ক থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে নামি আমরা। প্রথমদিন মাতামুহুরী সেতুর দক্ষিণাংশ থেকে চিরিঙ্গা, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।’

চকরিয়া পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘যেভাবেই হোক সড়ক দুর্ঘটনা একেবারে কমিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে চকরিয়ায় সম্প্রতি যেসব কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ১১ জনের প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, সেই থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন থেকে যানবাহন চালক ও যাত্রী-সাধারণকে সচেতন হতে হবে। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করতে হয়, তা-ই করবো।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে সড়ক দুর্ঘটনা। একজন অদক্ষ চালকের ভুলের কারণেই একসঙ্গে অসংখ্য পরিবার পথে বসছে। এ থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। এজন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ১০ হাজার প্রচারপত্র ও স্টিকার বিতরণের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণের ব্যতিক্রমী এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।’

ইউএনও বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। পাশাপাশি মহাসড়কে যাতে কোনো অবস্থাতেই তিন চাকার যানবাহন ও চার চাকার ম্যাজিক, লেগুনাসহ নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করতে না পারে সেজন্য হাইওয়ে পুলিশকেও আমরা সহযোগিতা দেব।’

এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা ও মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের পৃথক দল মহাসড়কে টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে মহাসড়কে যাতে কোনো ধরনের তিন চাকার এবং চার চাকার লেগুনা, ম্যাজিক ও ছারপোকা গাড়ি চলাচল না করে সেজন্য মাইকিং করে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এতে অনেকটা শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে শুরু করেছে ব্যস্ততম এই মহাসড়ক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা