kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কর্মী রপ্তানিতে অবদান কমেছে চট্টগ্রামের

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্মী রপ্তানিতে অবদান কমেছে চট্টগ্রামের

দেশের জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ তালিকা থেকে পিছিয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম জেলা। ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত কর্মী রপ্তানিতে প্রথম অবস্থানে থাকলেও সর্বশেষ ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের অবস্থান তিন নম্বরে নেমে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা জেলা। আর চট্টগ্রামকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ২০১৭ সালের জেলাভিত্তিক কর্মী রপ্তানির পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রাম এর আগে কখনোই তৃতীয় স্থানে নামেনি। অথচ প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির বাড়ি চট্টগ্রামে। আর চট্টগ্রাম জনশক্তি অফিস থেকে কর্মী রপ্তানির সব সুবিধা নিশ্চিত করার পরও এই অবনতি ঘটেছে।

কেন এমন হয়েছে জানতে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির সঙ্গে বেশ কয়েকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া না দেওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সহকারী পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৬ সালের চেয়ে ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম জেলা থেকে কর্মী রপ্তানি বাড়লেও তালিকায় একটু পিছিয়ে পড়েছি। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া দ্বিতীয় হলেও এর সঙ্গে চট্টগ্রামের ব্যবধান মাত্র ৩৬ জন।’

তালিকায় পিছিয়ে পড়ার কারণ বিশ্লেষণ করে জহিরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সৌদি আরবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী গেছে। তবে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা অনেক কম। এ জেলা থেকে নারী কর্মী যাওয়ার হারও আগের চেয়ে কমেছে। একই সঙ্গে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নারী কর্মী বেশি যাচ্ছে। আবার সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ওমান এবং কাতারে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অনেক বেশিসংখ্যক কর্মী যাচ্ছে। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুবাইয়ে কর্মী যাওয়ার হার বাড়লে চট্টগ্রাম আবারও শীর্ষে উঠে আসবে।’

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাবে দেশের ৬৪ জেলাভিত্তিক জনশক্তি রপ্তানিতে ২০১০ সালেও চট্টগ্রাম জেলা ছিল শীর্ষে। ওই বছর বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ৪৮ হাজার জন। ২০১১ সালে তা বেড়ে সাড়ে ৭৩ হাজার জনে উন্নীত হয়। ২০১২ সালে তা একটু কমে সাড়ে ৭০ হাজার জনে নামে। ২০১৩ সালে জনশক্তি রপ্তানিতে হোঁচট খায় চট্টগ্রাম। সে সময় চট্টগ্রাম থেকে কর্মী রপ্তানি প্রায় ৩৫ হাজার জনে নেমে আসে, যা এর আগের বছরের তুলনায় অর্ধেক। একই সঙ্গে তালিকার শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়ে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে চট্টগ্রাম। ২০১৩ সালে সাড়ে ৪৫ হাজার কর্মী রপ্তানি করে শীর্ষস্থান দখল করে কুমিল্লা জেলা।

চট্টগ্রাম জেলা ২০১৪ সালে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করলেও কর্মী রপ্তানি আরো কমে ২৮ হাজার জনে নেমে আসে। ২০১৫ সালেও সাড়ে ৩২ হাজার জন কর্মী রপ্তানি করে দ্বিতীয় স্থানে থাকে চট্টগ্রাম। ২০১৬ সালে ৪৫ হাজার ৭৮০ কর্মী রপ্তানি করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল চট্টগ্রাম এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে ৫৮ হাজার ৭৫ কর্মী রপ্তানি করে চট্টগ্রাম তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১০ লাখ আট হাজার কর্মী বৈধভাবে চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছে। এর মধ্যে প্রথমে থাকা কুমিল্লা জেলা থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৮৬ কর্মী গেছে। মোট কর্মী রপ্তানির হিসাবে কুমিল্লার অবদান সাড়ে ১০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদান ৫.৭৬ শতাংশ। আর তৃতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রাম জেলার অবদান ৫.৭ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা