kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

‘শিমরাজ্যে’ ভালো নেই শিমচাষিরা

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘শিমরাজ্যে’ ভালো নেই শিমচাষিরা

‘শিমরাজ্য’ সীতাকুণ্ডের শিমচাষিরা ভালো নেই। এ মৌসুমে তাঁরা সবাই লোকসানের শিকার হবেন বলে আশঙ্কা করছেন। শীতের শুরুতে অসময়ের টানা বৃষ্টি তাঁদের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসদরের শিমভাণ্ডারখ্যাত নুনাছড়া এলাকার শিমচাষি মো. আবুল কাসেম বলেন, ‘এবার শীতকালেও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বৃষ্টিতে লাভজনক হাইব্রিড শিমের চারাগুলো পচে গেছে। ফলে নতুন করে দেশি বীজ রোপণ করতে হয়েছে। গাছ বড় হয়ে শিম ধরেছে। কিন্তু অনাবৃষ্টির প্রভাব এসব শিমেও পড়েছে। এ কারণে অধিকাংশ শিম ও ফুলে পচন ধরে ঝরে পড়ছে তাই এবার আমরা লাভের মুখ দেখব কিনা সন্দেহ।’

বংশ পরম্পরায় দীর্ঘদিন ধরে শিমচাষ করে আসছেন আবুল কাসেম। এখানকার কৃষকদের কাছে শিমচাষ বেশ জনপ্রিয়। প্রায় সব কৃষক শিমচাষ করে লাভবান হন। কয়েক প্রকার শিমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয় ছুরি ও কার্ত্তিকোডা জাতের শিম। এছাড়া বাটা, পুঁটি ও লইট্টা শিমেরও আবাদ হয়।

কাসেম এবার প্রায় ১২০ শতক জমিতে ছুরি ও কার্ত্তিকোডা (লাল শিম) জাতের শিমচাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চাষের সরঞ্জাম বীজ, কীটনাশক, বাঁশের কঞ্চি, সার, শ্রমিক মজুরিসহ সব ধরনের খরচ এখন অনেক বেড়ে গেছে। অক্টোবর মাসে বীজ রোপণ থেকে এখন পর্যন্ত জমিতে শিমচাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।’

চাষিরা জানান, বাজারে এতদিন যেসব শিম বিক্রি হয়েছে সেগুলো হাইব্রিড জাতের। সীতাকুণ্ডের স্থানীয় শিম বিক্রি শুরু হচ্ছে এখন। কিন্তু এবার ফলনে চাষিরা বেশ হতাশ। অধিকাংশ শিম, ফুল ও গাছের পাতায় পচন ধরেছে। ঝরে পড়ে যাচ্ছে। এর মধ্য থেকে যে পরিমাণ শিম বিক্রির মতো আছে তা বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা খরচ তোলা যাবে কিনা সন্দেহ আছে তাঁদের।

শিমচাষ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন কাসেমের ছেলে মো. নাছির উদ্দিন ও পূর্ব লালানগর গ্রামের মো. রকিব উদ্দিন। রকিব তাঁর শিমক্ষেত ঘুরে গাছে পচে ঝুলতে থাকা শিমগুলো দেখিয়ে বলেন, ‘শীতকালের অনাবৃষ্টি আমাদের শেষ করে দিয়েছে। এবার ৪০ শতক জমিতে শিমচাষ করেছি।এতে বীজ, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রতিবছর ভালো ফলন হলে এ জমি থেকে ৮০-৯০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করি। অর্থাৎ প্রতি মৌসুমে শিমচাষে তিনগুণ লাভ হয়।’ কিন্তু এবার যেভাবে ফলন পচে যাচ্ছে তাতে খরচ ওঠানো নিয়েও সংশয় রয়েছে।’

এলাকার সব কৃষকের একই অবস্থা জানিয়ে রকিব বলেন, ‘জমিতে শিম তুলতে এসে মনটা খারাপ হয়ে যায়। বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিমাণ শিমও পাচ্ছি না। আগামী কয়েক মাস কমবেশি শিম বিক্রি করা যাবে। গাছে যে ফুল আছে সেগুলো থেকে যদি কিছু ভালো শিম পাওয়া যায় তবে লাভ না হোক অন্তত লোকসান এড়ানো যাবে। না হয় চরম ক্ষতির শিকার হবেন হাজার হাজার কৃষক।’

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার সীতাকুণ্ডে তিন হাজার হেক্টর জমিতে ১৮ হাজার ২৫০ জন কৃষক বিভিন্ন প্রকার শিমের আবাদ করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ বলেন, ‘আমাদের এবারের লক্ষ্যমাত্রা হেক্টরপ্রতি ২২ মেট্রিক টন। এখানে ছুরি, লইট্টা, বাটা, পুঁটি ও কার্ত্তিকোডা প্রজাতির শিমচাষ হয়ে থাকে। প্রতিবছর কৃষক লাভবান হয়।’ তবে এবার বৃষ্টিতে মৌসুমের প্রথমে কিছুটা ক্ষতি হলেও পরে সেটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা বলেন, ‘শীতকালীন অনাবৃষ্টিতে কৃষকের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে একথা ঠিক। কিন্তু এখনো যথেষ্ট সময় আছে। সবে শিম বিক্রি শুরু হচ্ছে। আরো কয়েক মাস ফলন পাওয়া যাবে। এ সময় ক্ষতি পুষিয়ে তাঁরা লাভবান হবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা