kalerkantho

রবিবার। ৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২ সফর ১৪৪২

বাসা-বাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট

ভোর থেকে দুপুর নিভু নিভু চুলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোর থেকে দুপুর নিভু নিভু চুলা

ফাইল ছবি

তীব্র গ্যাস সংকটে নগরীর আবাসিক এলাকায় বাসা-বাড়িতে বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সাত-আট ঘণ্টা রান্নার চুলার অবস্থা থাকে নিভু নিভু। আবাসিকের পাশাপাশি গ্যাস সংকটের খেসারত দিতে হচ্ছে শিল্পগ্রাহকদেরও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামনে গ্যাস সংকট আরো প্রকট হতে পারে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে গ্যাসের আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা তিন লাখ ৭০ হাজার। সেই সঙ্গে শিল্পকারখানাসহ দুই হাজার ৭৮৭ বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে। আবাসিক ও শিল্প গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রামে দৈনিক ৪৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। এর বিপরীতে চট্টগ্রামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে দৈনিক গড়ে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। যা চাহিদার অর্ধেকের চেয়েও কম। এই বিপুল ঘাটতির ভুক্তভোগী আবাসিক ও শিল্পখাতের গ্রাহকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুরাদপুর, বিবিরহাট, হামজারবাগ হিলভিউ আবাসিক এলাকা, মোমিন রোড, জামালখান, রহমতগঞ্জ, আন্দরকিল্লা, ঘাটফরহাদবেগ, বৌবাজার, ডিসি রোড, চকবাজার, বড়মিয়া মসজিদ, কাপাসগোলা, কেবি আমান আলী রোড, আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, মধ্যম হালিশহর, মির্জাপুল, চান্দগাঁও ফরিদার পাড়া, বটতল মাজার গেট ও মদুনাঘাটসহ বিশাল এলাকাজুড়ে বাসিন্দারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস থাকে না।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (কাস্টমার অ্যান্ড মেইনটেনেজ) ইঞ্জিনিয়ার অনুপম দত্ত বলেন, ‘চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ সংকট আরো প্রকট হতে পারে। এলএনজি না আসা পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। শুধু আবাসিকে নয় শিল্পকারখানাসহ বাণিজ্যিক সব গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়বেন। গ্যাসের যে চাহিদা, এর অর্ধেকেরও কম জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৪৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ কারণে চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়ে ওঠছে।’

তিনি জানান, চট্টগ্রামে চকবাজার, মেহেদীবাগ, জামালখান, মোমিন রোড, রহমতগঞ্জ, আন্দরকিল্লা, কে বি আমান আলী রোড ও বাকলিয়া এলাকায় সংকট বেশি। কারণ এই এলাকায় গ্রাহক বেড়ে গেছে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বাড়েনি। আগের পাইপলাইন দিয়েই গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এসব এলাকার প্রবেশ মুখের গ্রাহকরা কিছু কিছু পেলেও ভেতরের গ্রাহকরা পাচ্ছেন না।

চট্টগ্রামে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য লিকুফাইড ন্যাচারাল গ্যাসের (এলএনজি) দিকে তাকিয়ে আছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের দিকে কাতার থেকে এই এলএনজি গ্যাস আমদানি শুরু হবে বলে জানান কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে আবাসিকে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিকে চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ করা হচ্ছে। সংকট থাকায় পিডিবির গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে এখন আর গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট আর বেশি দিন থাকবে না। আগামী বছরের এপ্রিল-মের দিকে কাতার থেকে এলএনজি গ্যাস আমদানি শুরু হবে। তখন সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এদিকে গ্যাসের অভাবে প্রতিদিন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না অনেক শিল্পকারখানা। এর ফলে এসব শিল্পকারখানায় উৎপাদন অনেক কমে গেছে। এতে অনেক শিল্প মালিককে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা