kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাংলাদেশের ওয়েব সিরিজে বিভোর ওপার বাংলা

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের ওয়েব সিরিজে বিভোর ওপার বাংলা

কলকাতার দুর্গাপূজায় ‘হইচই’ নিজেদের বিজ্ঞাপনী তোরণে ব্যবহার করেছে ‘মহানগর’-এর ‘ওসি হারুন’রূপী মোশাররফ করিম ও ‘কাইজার’রূপী আফরান নিশোর ছবি। ছবি : তানভীর আনজুম

বাংলাদেশি টিভি নাটকের পর এবার বাংলাদেশের ওয়েব কনটেন্টে বুঁদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। ‘মনোরঞ্জনের পাল্লা কি পূব দিকে হেলিতেছে?’ এত দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনাটা চললেও এবার স্বীকৃতি মিলল ওপারের গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে। অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়ের সুরে সুর মেলালেন  শারমিন নুশি

আগস্টে যখন সৈয়দ আহমেদ শাওকীর ‘কারাগার’-এর টিজার-ট্রেলার প্রকাশ পেল, ফেসবুক-টুইটার-ইউটিউবে বাংলার দর্শকদের মুগ্ধতার পাল্লাটা যেন আকাশ ছুঁয়ে গেল। এমন সিরিজও বাংলায় হতে পারে! সেটা নিয়ে যেমন খুশিতে গদগদ এপার, ওপার বাংলা একটু বেশিই ভাবনায় পড়ে গেল।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্টের মন্তব্যের ঘরে পশ্চিম বাংলার দর্শকরা লিখলেন হতাশার কথা। একের পর এক গোয়েন্দা সিরিজ ও বৌদিদের কেচ্ছা-কাহিনি নিয়ে বানানো নিজেদের সিরিজগুলো নিয়ে টিপ্পনী কাটতে শুরু করলেন তাঁরা। মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, আফরান নিশো, তাসনিয়া ফারিণদের মতো তারকা অভিনেতাদের পাশাপাশি সোহেল মণ্ডলের মতো নতুনদের নিয়েও তাঁদের মুগ্ধতার যেন শেষ নেই! একই কথা প্রযোজ্য আশফাক নিপুণ, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, অমিতাভ রেজা, তানিম নূরদের বেলায়ও।

‘তাকদীর’, ‘মহানগর’, ‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলমেন’, ‘কাইজার’, ‘কারাগার’—হইচই ও জি-ফাইভের সিরিজগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের চরকির ‘জাগো বাহে’, ‘পেট কাটা ষ’, ‘ঊণলৌকিক’ নিয়েও ওপারের দর্শকের মুগ্ধতার শেষ নেই।

কোন রসায়ন পশ্চিমবঙ্গের ওটিটি দর্শকদের বাংলাদেশমুখী করে তুলল? আনন্দবাজার পত্রিকায় ওপার বাংলার জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক অতনু ঘোষ জানালেন, নিজে এখনো সিরিজ না বানালেও তিনি নিয়মিত দেখেন বাংলাদেশের সিরিজ। রীতিমতো ভক্ত বনে গেলেন এপারের সিরিজের।

অতনুর ভাষ্য, “ওপারের [বাংলাদেশের] সিরিজ পরিচালকরা এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন। বিষয়গত অভিনবত্ব না থাকলেও দেখা ও দেখানোর প্রচেষ্টায় এমন কিছু রয়েছে, যা এই বাংলার সিরিজে পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, ওপারের সিরিজে নির্মাণগত জায়গাটি নাটক বা সিরিয়ালের মতো নয়। তা একান্তভাবেই সিনেম্যাটিক। বড় পর্দার ভাষাকেই মুঠোপর্দায় নিয়ে আসছে ‘তাকদীর’ বা ‘কারাগার’। তৃতীয়ত, চিত্রনাট্য লেখার মুনশিয়ানা। এক পর্ব থেকে অন্য পর্বের দিকে যাওয়ার সময়ে এমন এক বা একাধিক কৌশল ব্যবহৃত হতে থাকে, যা ভাবনার ফসল। পর্ব থেকে পর্বান্তরে যাওয়ার সময় ‘মোচড়’ যেকোনো ধারাবাহিকেরই অন্যতম প্রধান উপাদান। বাংলাদেশের সিরিজ এই উপকরণটি নিয়ে প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। কিন্তু কখনোই সেগুলোকে ‘আরোপিত’ বলে মনে হচ্ছে না। তুলনায় এ বাংলার সিরিজ অনেক সময় এমন কিছু করে বসছে, যাকে ‘অবাস্তব’ বলে মনে হতে পারে। ”

‘দুপুর ঠাকুরপো’ বা ‘চরিত্রহীন’-এর নির্মাতা দেবালয় ভট্টাচার্যও বাংলাদেশের সিরিজের ‘মুগ্ধ দর্শক’ বলে জানালেন আনন্দবাজারকে।

বাংলাদেশের নামি নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী বললেন, ‘বাংলাদেশের সিরিজ নির্মাতারা প্রথমেই গুরুত্ব দেন আখ্যানকে। তাকে ভাঙা ও গড়ার মধ্যেই তাঁরা রয়েছেন। হয়তো নিরীক্ষা করতে গিয়ে ভুলও হচ্ছে। কিন্তু সেই ভুল থেকেই আবার নতুন আঙ্গিক, নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা