kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ নভেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুই ছবির লড়াই

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



দুই ছবির লড়াই

‘যাও পাখি বলো তারে’ ছবির গানের দৃশ্যে আদর আজাদ ও মাহিয়া মাহি ছবি : সংগৃহীত

শুক্রবার মুক্তি পাবে নতুন দুই ছবি—মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘যাও পাখি বলো তারে’ ও ইস্পাহানি আরিফ জাহানের ‘হৃদিতা’। ছবি দুটির নতুন দুই জুটি মাহিয়া মাহি-আদর আজাদএ বি এম সুমন-পূজা চেরিকে নিয়ে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপমীর রাকিব হাসান

 

মাহি-আদরের

যাও পাখি বলো তারে

খুব স্পর্শকাতর সময় পার করছেন মাহিয়া মাহি। তিনি অন্তঃসত্ত্বা। চিকিত্সক বলেছেন, এই সময় মোটেও ভারী কাজ করা যাবে না, দৌড়ঝাঁপেও বিধি-নিষেধ।

বিজ্ঞাপন

৪ অক্টোবর মুক্তি পাবে ‘যাও পাখি বলো তারে’, ছবিটিকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই মনে করেন। তাই চিকিত্সকের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ছবিটির প্রচারণায় এখানে-সেখানে ছুটে বেড়াচ্ছেন। ছবির টিমের সঙ্গে গাজীপুরে নিজের রেস্টুরেন্ট ‘ফারিসতা’তেও যোগ দিয়েছিলেন। লাইভে শুনিয়েছিলেন গান। হলে গিয়েও দর্শকের সঙ্গে ছবিটি দেখতে চান মাহি।

বলেন, “ক্যারিয়ারে এমন ছবি সাধারণত পাওয়া যায় না। ‘পোড়ামন’-এর পর আমার ক্যারিয়ারে খাঁটি প্রেমের ছবি বলতে এটিই। দর্শক সব সময় আমার কাছে প্রশ্ন করতেন প্রেমের ছবিতে আবার কবে দেখা যাবে। আমি আসলে উত্তর দিতে পারতাম না। কারণ ‘অগ্নি’র সাফল্যের পর আমার কাছে বেশির ভাগ মারপিটের ছবিই এসেছে। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক স্যার যখন গল্প শুনিয়েছিলেন আমি তাঁর হাত চেপে ধরে বলেছিলাম, স্যার যে করেই হোক ছবিটি আমি করব। এর মধ্যে ছবির দুটি গান মুক্তি পেয়েছে। ইউটিউবে গেলেই বুঝতে পারবেন দর্শক কী পরিমাণ প্রশংসা করেছে। অভিনয়শিল্পীদের কাছে তাঁদের প্রতিটি ছবিই সন্তানের মতো। তবে এ ছবিটি আমার একটু বেশিই প্রিয়। সম্প্রতি আমার আরো দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে, সেগুলো দর্শকের আশা পূরণ করতে পারেনি। কথা দিচ্ছি, এই ছবিটি দর্শককে হতাশ করবে না। ”

ছবিতে মাহির নায়ক আদর আজাদ। ‘তালাশ’ ছবির মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এই অভিনেতা। গত মাসের শুরুতে মাহির সঙ্গে ‘লাইভ’ ছবিতেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। নতুন ছবিটি আদরের কাছে তুরুপের তাস। অভিনেতা বলেন, “আমার ছবির দুটি ট্রাম কার্ড—নির্মাতা মানিক ভাই ও মাহি। ছাত্রজীবনে ‘দুই নয়নের আলো’ দেখে মানিক ভাইয়ের ভক্ত হয়েছিলাম। এরপর তাঁর ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’ ছবিতে অভিনয় করেছি। তখন নিজেই বুঝেছি তিনি কতটা মেধাবী নির্মাতা। অন্যদিকে মাহি এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। একই সঙ্গে ভালো অভিনেত্রীও। আমি কতটুকু কী করতে পেরেছি জানি না তবে আমার বিশ্বাস, মানিক ভাইয়ের পরিচালনা ও মাহির দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকদের বিমোহিত করবে। ”

আগামী বছর এপ্রিলে মা হওয়ার কথা মাহির। চিকিত্সক বলেছেন, সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের মাঝামাঝি ফুটফুটে সন্তান আসবে তাঁর কোলজুড়ে। স্বামী রাকিব সরকার এই মুহূর্তে নতুন ছবি হাতে নিতে নিষেধ করেছেন। মাহিও সেটা মেনে নিয়েছেন। তবে হাতে থাকা কাজগুলো তো শেষ করতে হবে! আর তাই এই মাসের শেষ সপ্তাতে বদিউল আলম খোকনের ‘অফিসার’ ছবির গানের শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দিয়েছেন।

আদর যেমন মাহির প্রশংসা করেছেন, তেমনি মাহিও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘শাবনূর আপু, শাকিব খান ভাইদের চোখ দেখে খুব হিংসে হতো। সংলাপ না বলেও বড় বড় চোখ দিয়ে কী সুন্দর অভিনয় করেন তাঁরা। অথচ আমার চোখ দুটো একদম ছোট। আদরকে দেখেও অবাক হলাম। ছেলেটা ছোট দুটো চোখ দিয়ে যেন দুনিয়ার সব কথা বলে ফেলে! আমি ওর চোখের এক্সপ্রেশন দেখে অবাক হয়ে যাই। আমার ছোট অভিজ্ঞতায় যেটা মনে হয়, ও আগামী দিনের সুপারস্টার। তাঁর নামে ছবি চলবে, দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়বে প্রেক্ষাগৃহে। ’

সুমন-পূজার

হৃদিতা

কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র ‘হৃদিতা’। আনিসুল হকের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় আছে পূজার। তাঁর সম্পাদনায় একটি কিশোর ম্যাগাজিনে মডেল হয়েছিলেন। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা পেতেন আনিসুল হকের।

পূজা বলেন, ‘সাধারণত কোনো ছবির প্রস্তাব এলে ভাবার জন্য দু-এক দিন সময় নিই। এই ছবির ক্ষেত্রে ভাবতে হয়নি। কারণ আমার প্রিয় দুজন লেখকের একজন আনিসুল হক। তাঁর উপন্যাসের নায়িকা হব, এটাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া’

তবে ছবিতে যুক্ত হওয়ার আগে এই উপন্যাস পড়া হয়নি পূজার। পরে কয়েকবার পড়েছেন। ‘নায়িকা হওয়ার আগে একজন পাঠক হয়ে হৃদিতাকে জানা বেশি জরুরি ছিল। পাণ্ডুলিপি পড়ার আগে তাই উপন্যাসটি পড়ি’, বললেন পূজা চেরি।

ছবিতে এ বি এম সুমন আছেন চিত্রশিল্পী কবিরের চরিত্রে। সুমনও আগে উপন্যাসটি পড়েননি। একবার মনে হয়েছে উপন্যাসটা পড়ে নেবেন, কিন্তু তার আগেই পাণ্ডুলিপি চলে এলো হাতে। ‘পাণ্ডুলিপি পাওয়ার পর সে মতোই কাজ করার চেষ্টা করেছি। পরিচালক ভিজ্যুয়ালি কিভাবে দেখতে চান সেটা তাঁর ব্যাপার। উপন্যাস পড়লে হয়তো আমি আরেক চোখে দেখতে চাইতাম। তাই পাণ্ডুলিপির ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস রেখে কাজটি করেছি’, বললেন সুমন।

সুমন এখনো পুরো ছবিটা দেখেননি, ডাবিং করতে গিয়ে যতটা পেরেছেন দেখেছেন। বলেন, “পুরো ছবিটি হলে গিয়েই দেখব। আমার আগের ছবি ‘বিউটি সার্কাস’ও আমি হলে গিয়েই প্রথম দেখেছি। ”

‘বিউটি সার্কাস’ এখনো হলে চলছে। তবে এই ছবির সব ফোকাস জয়া আহসানের ওপর। সুমনের প্রাপ্তি কি কিছুই নেই? ‘এই যে জয়া আপার মতো অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি! এটাই বা কম কী? অনেক কষ্ট করে আমরা ছবিটা করেছি। ’

‘হৃদিতা’র জন্য প্রস্তুতি কেমন নিয়েছিলেন সুমন? ‘মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। যতটা পেরেছি পরিচালকের মতো করে চরিত্রটাকে ভেবেছি’, বলেন সুমন। তবে নাম ভূমিকায় অভিনয় করা পূজাকে বেশ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘অনেকেই উপন্যাসটি পড়েছেন। তাঁরা একেকজন একেকভাবে কল্পনায় হৃদিতাকে এঁকেছেন, ভেবেছেন। সে কারণে চরিত্রটি আমার কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল। আমি কতটা পাঠকের ভাবনার হৃদিতা হতে পারব, এটা একটা বাড়তি চাপ ছিল। ’

আনিসুল হকের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন পূজা। লেখককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি হৃদিতাকে কিভাবে দেখেছেন। পূজাকে আনিসুল হক বললেন, ‘আমি কিভাবে দেখেছি সেটা তুমি ভুলে যাও। গল্পটা যেহেতু সিনেমা হতে চলেছে সেহেতু তোমার ডিরেক্টররা কিভাবে দেখছেন সেটাই বড় কথা। তাঁদের নির্দেশনাই তোমার মেনে চলা উচিত। ’ এরপর নির্মাতাদ্বয়ের কাছে জানতে চাইলেন পূজা। তাঁরা অভিনেত্রীর ওপর ছেড়ে দেন। বলেন, ‘তুমি তোমার মতো করে হৃদিতাকে ফুটিয়ে তোলো। ’

এ বি এম সুমন ও পূজা চেরি এই প্রথম জুটি বাঁধলেন। পূজাকে নিয়ে সুমন বলেন, ‘ও মনে-প্রাণে অভিনয় ভালোবাসে। সে জানে অভিনয়ে কেমন পরিশ্রম করতে হয়। নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করছে। এই প্রস্তুতির ফল দর্শক পর্দায় দেখতে পাবেন। ’ পূজা বলেন, ‘সুমন ভাইয়ের সঙ্গে একটা পার্টিতে প্রথম দেখা হয়েছিল আমার। উনি খুব চুপচাপ মানুষ। ভালো অভিনয় করেন। উনার সঙ্গে কাজ করে বেশ ভালো লেগেছে। ’

সাধারণত বাণিজ্যিক সিনেমায় যেমন পাঁচটা গান থাকে, কয়েকটা মারামারির দৃশ্য থাকে ‘হৃদিতা’ তেমন না। একটা মেয়ে তার ভালোবাসার জন্য কী করতে পারে আর কী না করতে পারে—ছবিতে সেটা দেখতে পাবেন দর্শক।

সমুন বর্তমানে ‘মাসুদ রানা’, ‘অন্তর্জাল’, ‘গিরগিটি’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পর পর দুই ছবি মুক্তি পাচ্ছে, তবু কিছুটা হতাশ তিনি। বলেন, ‘ছবিগুলোর তেমন প্রমোশন নেই। একটা ছবি মুক্তি দিলে দর্শককে যদি হলে আসার জন্য আগ্রহী না করতে পারি তাহলে সিনেমা বানিয়ে কী লাভ! ক্যারিয়ারে আমার মাত্র তিনটা ছবি মুক্তি পেয়েছে। অথচ আমি যখন যেখানে যতটুকু সুযোগ পেয়েছি পরিশ্রম করে আমার কাজটা করার চেষ্টা করেছি। কখনো শুনিনি দর্শক বলেছেন সুমনের অভিনয় বাজে হয়েছে। কিন্তু আমি আসলে কী পাচ্ছি!’

সামনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত পূজাও। ‘মাসুদ রানা’য় আছেন সোহানা চরিত্রে। ‘নাকফুল’-এর শুটিং শেষ করেছেন।



সাতদিনের সেরা