kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

যেভাবে ছবি যায় অস্কারে

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেভাবে ছবি যায় অস্কারে

অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম ছবি ‘মাটির ময়না’র দৃশ্য

২০০২ সাল থেকে ২০২২—গত ২০ বছরে ১৮টি চলচ্চিত্র অস্কারে পাঠিয়েছে ‘অস্কার বাংলাদেশ কমিটি’। এবার ‘হাওয়া’ পাঠাবে বাংলাদেশ। কিভাবে ছবি পাঠানো হয় অস্কারে? লিখেছেন শারমিন নুশি

২০২০ সালে ‘বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্ম’ বিভাগের নাম বদলে ‘একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস ফর বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ করেছে একাডেমি অব মোশন পিকচার্স আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের যেকোনো দেশ থেকে প্রতিবছর এই বিভাগে শুধু একটি ছবিই পাঠানো যাবে অস্কার মনোনয়নের জন্য।

বিজ্ঞাপন

‘ওয়ান কান্ট্রি ওয়ান ফিল্ম’ বিদেশি ভাষার ছবির ক্ষেত্রে এই নীতিই মেনে চলে একাডেমি। কিন্তু এমন তো নয় যে একটি দেশে বছরে একটিই ভালো ছবি হয়! একাধিকও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোনটিকে নির্বাচন করা হবে? এ প্রশ্নটি মাথায় রেখেই পৃথিবীর অনেক দেশে সিলেকশন কমিটির উদ্ভব।

প্রতিবছর চলচ্চিত্র আহ্বান করা হয়। যাচাই-বাছাই করে কমিটি সিদ্ধান্ত দেয় কোন ছবিটি অস্কারে পাঠানোর উপযোগী।

যুক্তরাজ্যে এই কাজটি করে ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই দায়িত্ব পালন করে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া। আবার ব্রাজিলের ছবি অস্কারে পাঠানোসংক্রান্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ড দেখভাল করে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশেও এসংক্রান্ত একটি কমিটি আছে—‘অস্কার বাংলাদেশ কমিটি’। ২০০২ সাল থেকে তারা কাজ করছে। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের উদ্যোগে ওই বছর তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশি ছবির অস্কারযাত্রা। গত ২০ বছরে অস্কার মনোনয়নের জন্য ১৮টি ছবি পাঠিয়েছে এই কমিটি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ছবি অস্কারে মনোনয়ন পায়নি।

অতীতে অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা ছবির তালিকায় যেমন প্রশংসিত ছবি ছিল, তেমনি এমন অনেক ছবি ছিল যেগুলো নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ অনেক ছবি বাদ পড়েছিল বিভিন্ন সময়ে। এবারের ‘হাওয়া’ নিয়ে কারো তেমন মতবিরোধ নেই। একই সঙ্গে ব্যবসাসফল ও সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়া মেজবাউর রহমান সুমনের ছবিটি নিয়ে আশাবাদী অনেকেই। তবে ভারতে অস্কার সিলেকশন কমিটির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবারই প্রকাশ্যে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন কয়েকজন নির্মাতা-প্রযোজক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত ‘আরআরআর’ না পাঠিয়ে গুজরাটি ছবি ‘শ্যালো শো’ পাঠানোয় ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া এবারও সমালোচিত হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের অস্কার কমিটি ছবি বাছাইকরণ প্রক্রিয়ায় কতখানি স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছে? হাবিবুর রহমান খান ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু চলচ্চিত্রের প্রযোজক। তিনি শুরু থেকেই অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘এখানে বিতর্কের সুযোগ নেই। প্রতিবছর একাডেমির কাছে আমাদের কমিটির তালিকা পাঠাতে হয়। ওরা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়ার পর আমরা কাজটা করি। ’

‘অস্কার বাংলাদেশ কমিটি’তে কারা থাকেন? এবারও চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খান। সাত সদস্যের এই কমিটিতে আরো আছেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি আব্দুস সেলিম, পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, চিত্রগ্রাহক সমিতির সদস্য পংকজ পালিত, ফিল্ম এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মূসা দেবু ও নির্মাতা শামীমা আক্তার।



সাতদিনের সেরা