kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পূজার সেই দিনের কথা...

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পূজার সেই দিনের কথা...

দুর্গার সাজে স্থিরচিত্রে অভিনেত্রী পূজা চেরী ►ছবি : বিশ্বরঙের সৌজন্যে

দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে। শোবিজের হিন্দু তারকারাও এখন ব্যস্ত পূজার কেনাকাটা ও উৎসব উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে। এরই ফাঁকে একটু স্মৃতিকাতর হয়ে উঠলেন পাঁচ অভিনেত্রী, স্মৃতিচারণা করেছেন শৈশবের পূজার, বলেছেন মজার সব ঘটনার কথা—

 

জামা দেখে কেঁদেই ফেললাম

অপু বিশ্বাস

শৈশবের আমার পূজার যত স্মৃতি সব মামাবাড়িকেন্দ্রিক। শুধু দুর্গাপূজা নয়, সব পূজাতেই মামারা এসে আমাদের নিয়ে যেতেন।

বিজ্ঞাপন

মামা আমার জন্য ড্রেস কিনতেন। ছোটবেলা থেকেই লাল রংটা আমার পছন্দ। আমার প্রযোজিত প্রথম ছবির নাম ‘লাল শাড়ি’ রাখার এটাও একটা কারণ। যাহোক, একবার মামা খুব পছন্দ করে আমার জন্য গোলাপি একটি ড্রেস কিনে আনলেন। ষষ্ঠীর দিন সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন। চোখ মুছতে মুছতে প্যাকেট থেকে জামা বের করেই কেঁদে ফেললাম। মামা হকচকিয়ে গেলেন। মা সবই বুঝলেন, মামাকে বললেন, ‘তুই এখনো বুঝলি না! লাল জামা ছাড়া ওর কিছুই পছন্দ না!’ সেদিনই মামা আবার আমাকে নিয়ে দোকানে গিয়ে লাল রঙের জামা কিনে দিলেন। রাস্তায় মামা আমাকে বললেন, ‘তোমার আগের জামাটা তো বেশি সুন্দর। দামও এটার চেয়ে বেশি। ’ আমি বললাম, ‘লালই আমার পছন্দ। এটাই আমার কাছে সেরা। ’

 

অষ্টমীতে কুমারী সেজেছিলাম

অপর্ণা ঘোষ

আমি তখন ক্লাস ফোর বা ফাইভে। এক অষ্টমীতে কুমারী পূজায় আমাকে কুমারী সাজানো হয়েছিল। স্টেজে বসে আছি আর সবাই নিচে থেকে আমাকে প্রণাম করছে। নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে হয়েছিল তখন। দশমীর দিন রং মারামারি হতো। আর যখন দুর্গা মাকে বিসর্জন দেওয়া হতো খুব কষ্ট লাগত। কান্নাকাটি করতাম। দিনগুলো খুব মিস করি।

 

সেদিন মরেও যেতে পারতাম

বিদ্যা সিনহা সাহা মিম

আমার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে। কুমিল্লায় পড়াশোনা করতাম। পূজার সময় রাজশাহীতে থাকতাম। তখন আমার প্রথম ও প্রধান কাজ ছিল সেজেগুজে মণ্ডপে যাওয়া। সারা দিন হৈ-হুল্লোড় করে কাটাতাম। নৌকায় চড়তে আমার ভীষণ ভালো লাগে। একবার তো নৌকা প্রায় উল্টেই যাচ্ছিল। সেদিন হয়তো মরেও যেতে পারতাম। স্মৃতিটা খুব মনে পড়ে। ওই ঘটনার পরও নৌকায় চড়েছি। আমার বেশ ভালো লাগে নৌকায় চড়তে। আর দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের স্মৃতিগুলোও খুব মনে পড়ে।  

 

রিকশা থেকে সোজা ড্রেনে

উর্মিলা শ্রাবন্তী কর

ছোটবেলায় একবার মামাবাড়ির পূজায় ঘুরতে গিয়ে ড্রেনে পড়ে গিয়েছিলাম। রিকশা থেকে সোজা ড্রেনে! নতুন জামা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের পর প্রথম পূজায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। জীবনে প্রথমবারের মতো বাবাকে রেখে ট্রেনে করে কলকাতা যাচ্ছিলাম। শ্বশুরবাড়ির সবাইকে নিয়ে খুব এক্সাইটেড ছিলাম। কিন্তু যখন বর্ডার ক্রস করি এত খারাপ লাগা শুরু হলো চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলাম। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ইমোশনাল হয়ে গেলেন। আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। বাবাকে ছাড়া পূজা, তখনই যে কী কষ্ট হয়েছে! এখন তো বাবা পৃথিবীতেই নেই!

 

ছেলেধরা তুলে নিয়ে গেছে!

পূজা চেরী

আমাদের গ্রামের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় গ্রামে জমজমাট পূজা হয়। আমরা ভ্যান ভাড়া করে পূজা দেখতে বের হতাম। মা-বাবা, দাদু-ঠাকুরমা, কাকা-কাকিরা, এমনকি পিসিরাও আসতেন। দশমীর দিন বাবাকে বললাম আমাকে পূজায় নিয়ে যেতে। বাড়িতে অনেক অতিথি, মা-বাবাও নানা আয়োজনে ব্যস্ত। তাই বাবা রাজি হলেন না। আমার বয়স তখন সাত-আট। পাশের বাড়ির রজনীকে পটিয়ে বের হয়ে গেলাম। আমরা বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরছি তো ঘুরছি। কখন দুপুর হয়েছে খেয়াল নেই। এদিকে বাড়িতে আমাদের খোঁজা শুরু হয়েছে। তখন আবার আমাদের এলাকায় ছেলেধরার গুজব উঠেছে। সবাই ভাবল আমাদের বুঝি ছেলেধরা তুলে নিয়ে গেছে। মা কান্নাকাটি শুরু করেছেন। বাবা-কাকারা বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি শুরু করলেন। পরে পাশের গ্রামের মণ্ডপে আমাদের পেলেন। এরই মধ্যে যে এত কিছু ঘটে গেছে আমরা জানি না। মা এখনো সবার সঙ্গে এই গল্পটা করেন।



সাতদিনের সেরা