kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

হলিউড রিপোর্টারের ফরাসি সমালোচকের দৃষ্টিতে

গদারের সেরা ৫

৯১ বছরের জীবনে ৭০টির মতো ফিচার ফিল্ম বানিয়েছেন জ্যঁ-লুক গদার। সমালোচকরা এর ২০টিকেই মনে করেন মাস্টারপিস। এর মধ্য সেরা পাঁচটি বাছাই করেছেন হলিউড রিপোর্টারের ফরাসি সমালোচক জখদান মিনতজার

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গদারের সেরা ৫

জ্যঁ-লুক গদার (১৯৩০—২০২২)

লা পেটি সোলদা (দ্য লিটল সোলজার) ১৯৬৩

গদারের যেকোনো সেরা ছবির তালিকার শীর্ষে সবাই তাঁর প্রথম ছবি ‘ব্রেথলেস’কে (১৯৬০) আশা করেন। আমি নিয়েছি তাঁর দ্বিতীয় ছবিটি। অভিষেকের পরের বছর এই ছবিটি বানিয়েছেন। যদিও মুক্তি পায় ১৯৬৩ সালে।

বিজ্ঞাপন

ফরাসি সরকারের নিষিদ্ধতা কাটিয়ে সেন্সর পেরোতে সময় লেগে গিয়েছিল। প্রথমবার আনা কারিনা (গদারের প্রথম স্ত্রী) গদারের ছবিতে অভিনয় করেছেন বলে এটি সেরা নয়। বরং ‘ব্রেথলেস’-এ জ্যঁ সেবার্গ আরো ভালো করেছিলেন। আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পর যেসব রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল, ছবিতে গদার সেগুলোর পূর্বানুমান করেছিলেন। এটিই ছবিটি সেরা হওয়ার প্রধান কারণ। গদার তাঁর ক্যারিয়ারজুড়ে এভাবেই রাজনীতিকে দেখেছেন। এটা একটা দারুণ গোয়েন্দা ছবিও, অনেকেই সেটা ভুলে যান।

 

বিবওয়া সা ভি (মাই লাইফ টু লাইভ) ১৯৬২

স্বাধীনচেতা এক তরুণীর পর্যায়ক্রমিক পতনের এই গল্পটি গদার বলেছেন বেশ আকর্ষণীয়ভাবে। দুটি নির্বাক ছবি কার্ল ড্রেয়ারের ‘দ্য প্যাশন অব জোয়ান অব আর্ক’ (১৯২৮) ও জ্যঁ হনওয়ার ‘ন্যনা’ (১৯২৬) থেকে প্রেরণা নিয়েছেন গদার। ‘ন্যনা’র চরিত্রগুলোর নামও ব্যবহার করেছেন। অভিনেত্রী স্ত্রী আনা কারিনার সঙ্গে গদারের সেরা যুগলবন্দি এই ছবি। একই সঙ্গে নিষ্ঠুর ও কষ্টের জীবন গল্পের মেয়েটার। পারিবারিক জীবন ছেড়ে আসার পর প্রবল দারিদ্র্যের কবলে পড়ে পতিতাবৃত্তিতে নামে মেয়েটি। অনেকটাই তথ্যচিত্রের আদলে গল্পের মেয়েটিকে চিত্রিত করেছেন পরিচালক।

 

ল্যু মিপখি (কনটেম্পট) ১৯৬৩

ইতালিয়ান লেখক আলবের্তো মোরাবিয়ার উপন্যাস ‘দিসপ্রেকজো’ অবলম্বনে গদারের বিখ্যাত এই ছবি। অনেকটা হলিউডি স্টাইলে, তবে নিজের মতো করে নির্মাণ করেছেন গদার। যদিও ছবির ভেতরেই তিনি হলিউডি নির্মাণ রীতির সমালোচনা করেছেন। দেখিয়েছেন, কিভাবে একজন স্টুডিওর মালিক নিজের ছবির পরিচালক, এমনকি চিত্রনাট্যকারের সুন্দরী স্ত্রীকেও শোষণ করে। ক্যামেরার সামনে ও পেছনের ঘটনার একটা রাজনৈতিক দিক চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন।

 

দ্যু ত্রোয়া শুজ জ্য স্যে দেল

(টু অর থ্রি থিংস আই নো অ্যাবাউট হার) ১৯৬৭

একই বছর ‘লা শিনইজ’ ও ‘উইকেন্ড’-এর মতো ছবি বানিয়েছেন। ওই বছর দেখা গেল ‘নিউ ওয়েব’ পরিচালক জনরা ও ফর্ম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এসব ছবি দেখে কে বলবে রাজনৈতিক ছবির এই নির্মাতা পরের বছরই বিদ্রোহে (মে, ১৯৬৮) জড়িয়ে যাবেন! প্যারিস শহরের বাইরে গড়ে ওঠা এলাকায় ঘর নেয় এক পতিতা। অবিবাহিত এই মায়ের গল্পের পুরোটাই সিনেমাটিক উপাদানে ভরপুর। চিত্রগ্রাহক ঘাউল কুতার সেটাকে অন্য এক মাত্রা এনে দিয়েছেন। ভোক্তা সংস্কৃতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধসহ সমসাময়িক জীবনের সৌন্দর্য চোখ জুড়িয়ে দেয় দর্শকের।

 

জেএলজি/জেএলজি—সেলফ-পোর্ট্রেট ইন ডিসেম্বর ১৯৯৫

এই কাল্পনিক তথ্যচিত্র তর্কাতীতভাবে নিজেকে নিয়ে গদারের সেরা কাজ। ৬২ মিনিটের তথ্যচিত্রে ৬৪ বছরের গদার নিজের স্বরূপে ধরা দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বাড়িতে বসে তাঁর দীর্ঘ কথোপকথন। বিষণ্ন হাস্যরস আর নিজের নানা প্রতিভার জানান দিয়েছেন গদার। নিজের ক্যারিয়ার, সর্বজনীন চলচ্চিত্র, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ের ওপর কবিতা খুঁজে বেড়ানো, টিভিতে প্রিয় মুভি দেখা, দেয়ালের পেইন্টিং নিয়েও বলেছেন গদার। জ্যঁ পল সার্ত্রের অটোবায়োগ্রাফির সেই বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করেছেন—‘আ ম্যান, নাথিং বাট আ ম্যান, অ্যান্ড হু ইজ ওর্থ নান, অ্যান্ড হোম নান আর ওর্থ। ’



সাতদিনের সেরা