kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুবর্ণ জয়ন্তীতে ‘ওরা ১১ জন’

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুবর্ণ জয়ন্তীতে ‘ওরা ১১ জন’

‘ওরা ১১ জন’ ছবির পোস্টার

১৯৭২ সালের ১১ আগস্ট মুক্তি পায় ওরা ১১ জন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কাহিনীচিত্রটির পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হলো আজ। ছবিটি নিয়ে লিখেছেন  সৈকত সালাহউদ্দিন

যুদ্ধের সিনেমা বলতে আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে ‘দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই’, ‘টোরা টোরা টোরা’, ‘ওয়াটারলু’, ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’, দ্য পিয়ানিস্ট’সহ বাইরের দেশের নানা সিনেমার কথা। কোনোটির বিষয় যুদ্ধের ভয়াবহতা, আবার কোনোটিতে রয়েছে মানবিক বিপর্যয়ের গল্প।

বিজ্ঞাপন

তবে সদ্যঃস্বাধীন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে নির্মিত ‘ওরা ১১ জন’ নানা বিষয়ে পৃথিবীর অনেক সিনেমা থেকেই আলাদা। একই সঙ্গে কঠিন সংগ্রাম আর আবেগে টইটম্বুর আখ্যান। এখানে পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণাঙ্গনের যোদ্ধারা। এটা বিরল এক ঘটনা। সিনেমার নাম ওঠার সময় ব্যবহার করা হয়েছে ছয়বার কামান দাগার শব্দ। প্রতীকীভাবে মনে করিয়ে দেয় আমাদের স্বাধীনতার পটভূমি তৈরিতে ঐতিহাসিক ছয় দফার ভূমিকার কথা।

ছবির শুরুতে দেখা যায় এক যুবক গ্রামবাংলার অপার সৌন্দর্য দেখছে মুগ্ধ চোখে। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া যুবকটি বাড়িতে এসেছে মাকে দেখতে। আবহসংগীতে ভেসে আসছে ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’। দেশ তখন অস্থির একটা সময় পার করছে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ শোষিত সব দিক থেকেই। এরই মাঝে আছে সবার মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাপুরুষোচিত আক্রমণ শুরুর পর মানুষগুলো ছত্রভঙ্গ হলেও স্বপ্নগুলো ১১ জন মুক্তিকামী যুবককে এক করে। কেউ মুসলমান, কেউ হিন্দু বা অন্য ধর্মের। কেউ ছেড়েছে মায়ের আঁচল, কেউ নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু সবার লক্ষ্য এক—স্বাধীন দেশ। তাদের সঙ্গে আছে পেশাজীবীদের ত্যাগের গল্প। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করে ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার। আছে এক মায়ের গল্প যে কিনা এক সন্তানকে যুদ্ধে হারিয়েও আরেক কিশোর সন্তানকে তুলে দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। ছবির শেষভাগে ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ গানের আবহে দেখা যায় যুদ্ধ জয়ের পর চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ত্যাগের নমুনা। যুবকের সঙ্গে যে তরুণী বিয়ের স্বপ্ন দেখেছিল, পাকিস্তানি ক্যাম্পে নির্যাতনের পর স্বাধীন দেশে তরুণী দেখে সেই যুবকের মুখখানি। এরপরই ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। যে চিকিৎসক পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে সম্ভ্রমহানির কষ্ট বয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়েছে, সেও ভাবে প্রেমিক তাকে গ্রহণ করবে তো? আসলে পরিচালক এই প্রশ্নটা করেন সমাজকে। ছবিতে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ। ছবিটি হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য দলিল।

১১ যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন খসরু, মুরাদ, বেবী, মনজু, সিদ্দিক জামাল নান্টু, আবু, আলতাফ, কাজী ফিরোজ রশীদ, অলিন, আতা ও হেলাল। পেশাদার অভিনেতাদের মধ্যে আছেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, সৈয়দ হাসান ইমাম, রওশন জামিল, খলিল, মেহফুজ, রাজসহ আরো অনেকে। তারকাশিল্পীরা কেউই পারিশ্রমিক নেননি। ছবির বেশির ভাগ শুটিং হয় জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্টে। আর্মি মুভমেন্ট, অস্ত্র, গোলাবারুদ সবই ছিল সত্যিকারের। তবে শুটিংয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

‘ওরা ১১ জন’ নিবেদন করে জাগ্রত কথাচিত্র। পরিবেশনায় স্টার ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটর্স। নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকার একটু বেশি। পরিবেশকদের সঙ্গে চুক্তি ছিল, ছবির খরচ ওঠার পর বাকি টাকার ৮০ শতাংশ পাবেন প্রযোজক, ২০ শতাংশ পরিবেশক। প্রযোজক সূত্রে জানা যায়, প্রথম সপ্তাহেই খরচ উঠে গিয়েছিল।



সাতদিনের সেরা