kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কার্যকর বক্স অফিস কত দূর?

সেই ছোট্ট ঘরের পর্দা ফাঁস করা এখন সময়ের দাবি

দাউদ হোসাইন রনি   

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



কার্যকর বক্স অফিস কত দূর?

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের সামনে পাশাপাশি এ সময়ের আলোচিত দুই ছবি ‘পরান’ ও ‘হাওয়া’র বিলবোর্ড ছবি : সংগৃহীত

ছবি দেখতে হলে ছুটছে দর্শক। পাচ্ছে ‘হিট’, ‘সুপারহিট’ তকমা। কিন্তু কার্যকর বক্স অফিস না থাকায় প্রযোজকের লাভের গুড় খেয়ে নিচ্ছে অন্যরা। হলিউড-বলিউডের মতো বক্স অফিস পদ্ধতি থাকলে বাঁচবে প্রযোজক, বাঁচবে ঢাকাই ছবি

দেশীয় সিনেমায় এসেছে নতুন জোয়ার।

বিজ্ঞাপন

রোজার ঈদে ‘শান’ ও ‘গলুই’, কোরবানির ঈদে ‘পরান’ এবং পরে ‘হাওয়া’—চারটি ছবি দেখতেই দর্শকের উপচেপড়া ভিড়। মুখে মুখে ছবিগুলো ‘হিট’ কিংবা ‘সুপারহিট’। কিন্তু কার্যকর বক্স অফিস সিস্টেম না থাকায় প্রযোজক ন্যায্য অর্থ পাচ্ছেন না। ২০১৬ সালে ‘আয়নাবাজি’ ছবিটিও এভাবেই দেখেছিল দর্শক। ছবির পরিচালক অমিতাভ রেজা পরে জানালেন, মাল্টিপ্লেক্সের বাইরের হলগুলো থেকে কত আয় করেছে ছবিটি তার সঠিক চিত্র তাঁদের কাছে নেই। এমনকি আয়ের যে অঙ্কটা দেখানো হলো, সে অনুযায়ী অর্থও প্রযোজক পাননি। বক্স অফিসের এই অস্বচ্ছতার সুযোগে অনেকেই নিজের ছবির আয় বাড়িয়ে বা কমিয়ে বলেন, কারণ তাঁরা জানেন সেটাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য কারো হাতে নেই।

হলিউড বা বলিউডসহ বিশ্বের অনেক দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশে ‘বক্স অফিস’ খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোন ছবি কোন শোতে কত আয় করল, সেটা মুহূর্তেই জেনে যান ছবি সংশ্লিষ্টরা। বৈদ্যুতিক বিলবোর্ডে টিকিট বিক্রির পুরো তথ্যই প্রদর্শিত হতে থাকে। সাধারণ দর্শকও খবরটা পেয়ে যায়। কেন্দ্রীয়ভাবে সেই তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে দিনশেষে কত আয় করল ছবিটি, গণমাধ্যমে সেটা চলে আসে।

বক্স অফিসে নিজের ছবি খারাপ করলে হলিউড-বলিউড ছবির শিল্পী-কলাকুশলীরা ব্যর্থতা স্বীকার করে নিতে মোটেও সময় নেন না। উল্টো চিত্র বাংলাদেশে। কোনো ছবি ফ্লপ করলেও শিল্পী-কলাকুশলীরা নিজের ছবিটিকে নির্লজ্জভাবে ‘হিট’ বলে গণমাধ্যমে প্রচার কুড়ান। আবার কোনো ছবি হয়তো বিভাগীয় শহরে খুব ভালো চলছে, নিন্দুকদের কেউ মফস্বলের দর্শকশূন্য প্রেক্ষাগৃহের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে বলেন, ছবি তো কেউ দেখছে না। বক্স অফিসের প্রতিবেদন পেলে তখন অন্যরা বিভ্রান্ত হতেন না।

বাংলাদেশে বক্স অফিস নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা। হল মালিকরা যে তথ্য দেন, সেটাকেই মেনে নিতে বাধ্য হন প্রযোজক-পরিচালকরা।

প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহের এক কোণে থাকে টিকিট কাউন্টার, সেই ছোট্ট ঘরটাকেই বলা হয় ‘বক্স অফিস’। এই ঘরের পর্দা ফাঁস করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন দেশীয় চলচ্চিত্রের মন্দা ব্যবসার পর দর্শক ফের হলে আসতে শুরু করেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আধুনিক ও কার্যকর বক্স অফিস পদ্ধতি চালু করার কোনো বিকল্প নেই। চলচ্চিত্র শুধুই শিল্পমাধ্যম নয়, এর সঙ্গে বাণিজ্য হাত ধরাধরি করে চলে। বাণিজ্যের জায়গাটা ধোঁয়াশায় রেখে শিল্পের উন্নতিও বাধাগ্রস্ত হয়।

 


সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

বক্স অফিস একটা পর্যায়ক্রমিক ব্যাপার

দীপংকর দীপন

[চলচ্চিত্র পরিচালক। ‘ঢাকা অ্যাটাক’খ্যাত নির্মাতা]

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প একটা বড় ঝুঁকির মধ্যে চলে এসেছিল। একের পর এক হল বন্ধ হচ্ছিল। নতুন করে হল তৈরির কথা কেউ ভাবতে পারছিল না। সারভাইভ করাটাই বড় ব্যাপার হয়ে উঠছিল। এখন সিনেমা আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বক্স অফিস তৈরি হওয়াটা একটা পর্যায়ক্রমিক ব্যাপার। অনেক হল যখন তৈরি হয়ে যাবে, নিয়মিত সিনেমা মুক্তি পাবে, টিকেটিং সিস্টেমটাও সুন্দর হয়ে যাবে। তখন বক্স অফিস রিপোর্টটা পাওয়া সম্ভব হবে। বক্স অফিস রিপোর্ট পাওয়ার প্রথম বাধা তথ্যের অসত্যতা। যে তথ্য হল মালিকরা আমাদের দেন, ওটাকে যাচাই-বাছাই বা বিশ্বাস-অবিশ্বাস করার কোনো উপায় থাকে না। এই ধরনের তথ্যের ওপর কখনো বক্স অফিস দাঁড়াবে না। বক্স অফিস দাঁড়াতে হলে তথ্যের নিশ্চয়তা, সুরক্ষা, স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এটি আনার জন্য যে কারিগরি মান দরকার, সেটা যখন সিনেমাহলগুলো সারভাইভ করবে, তখন হবে। যখন একজন হল মালিক সারাক্ষণ ভাবছেন হল বন্ধ করে দেবেন, তখন আপনি তাঁকে বলতে পারেন না সিনেমা হল সংস্কার করেন বা টিকিট সিস্টেম ডিজিটাল করেন। তখনই তাঁকে এই চাপ দেওয়া যাবে যখন তিনি ব্যবসাটা করতে চাইবেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুটি সিনেমা ম্যাসিভ হিট হওয়ার কারণে সিনেমা হল নিয়ে মালিকদের ধারণা বদলাচ্ছে। পরিচালক মালেক আফসারীকে সনি সিনেমা মালিক হাসতে হাসতে বলেন, পপকর্ন বেচতে বেচতেও তো সিনেমা হলের খরচ উঠে যাচ্ছে। যার মানে দীর্ঘদিন পর সিনেমা হল লাভের মুখ দেখছে। এ ধারাটা যদি চালু থাকে তাহলে পর্যায়ক্রমে সব সিস্টেমই উন্নত করা সম্ভব হবে। বক্স অফিসের একটা বড় বিষয় হচ্ছে, শুধু আমরা কত টাকার টিকিট বিক্রি করলাম তা নয়। এর বাইরেও কিন্তু একটা বড় চেহারা আছে। একটা টিকিট বিক্রি করে কত টাকা প্রযোজক পাবেন, কত টাকা হল পাবে, সরকার পাবে। এখন যে প্রক্রিয়াটা চলছে, সেটা একেবারেই প্রযোজকবান্ধব নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে চালু আছে ১০০ টাকার টিকিট থেকে ৪০ টাকা সিনেমা হল পায়, ৪০ টাকা প্রযোজক, ২০ টাকা ট্যাক্স বাবদ পায় সরকার। এটা মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম।

টিকেটিং সিস্টেমটা যখন ডিজিটাল মাধ্যমে চলে আসবে তখন ট্র্যাক করা সম্ভব কী পরিমাণ টিকিট বিক্রি করছে। এটা সব মাল্টিপ্লেক্সেই আছে। মুশকিল হলো সিঙ্গেল স্ক্রিনে এখনো ই-টিকেটিং সিস্টেম চালু হয়নি। পুরো ভারতে চার-পাঁচটি ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল সিনেমাটা নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন আইনক্স। এর আওতায় অনেক বড় সিনেমা হল আছে। এর মাধ্যমে একদম রিমোট এরিয়া ছাড়া মোটামুটি চেহারা পাওয়া সম্ভব।

আমরা যখন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ কানাডায় মুক্তি দিই তখন শোয়ের দিনই জানতে পেরেছিলাম কী পরিমাণ টিকিট বিক্রি হয়েছে। শুধু সার্ভারের একটা সাবস্ক্রিপশন ফি লাগত। এই ফি দিয়ে লগইন করে আমরা জানতে পারতাম। হিসাবও করে ফেলতাম কী পরিমাণ টাকা আমরা পাচ্ছি।

 

প্রযোজকরা সঠিক তথ্য জানাতে চাইবেন না

ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ

[প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি। ঢাকার ‘মধুমিতা’ হলের কর্ণধার]

আমরা এখন হিসাব রাখি—কয়টা শো হলো, কয়টা টিকিট বিক্রি হলো, কয়টা সিট খালি গেল। একটা সিনেমা হলে কত কত প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে, সেটা কল্পনারও বাইরে। কিন্তু তার জন্য অর্থের জোগান দরকার। ‘দিন—দ্য ডে’ থেকে সিনেমা হলে লোক আসা শুরু করছে। এরপর ‘পরান’ ও ‘হাওয়া’ দুর্দান্ত চলছে। এভাবে মাসে একটা সিনেমা পেলেও আমরা হলের অনেক সংস্কারের পরিকল্পনা করতে পারি। বক্স অফিসও করতে পারি, তবে প্রযোজকরাও সঠিক হিসাবটা জানাতে চাইবেন কি না সেই প্রশ্ন রয়েছে। এটা তাঁদের ব্যাবসায়িক পলিসি। সিনেমা হলে প্রদর্শন করে আমরা পারসেন্টেজ পাই। আমরা কত লগ্নি করলাম বা ব্যবসা করলাম, সেখানে তো কারো আয়-ব্যয় নেই। আমি বক্স অফিস তৈরি করলাম, কিন্তু দেশের সব সিনেমা হল মালিকরা করতে চাইবেন কি না সেই প্রশ্নও রয়েছে।

আসলে সিনেমা দিনকে দিন এমন খারাপ অবস্থায় যাচ্ছিল, এই বক্স অফিস নিয়ে কেউ ভাবেননি। তবে কোন ছবির কত টিকিট বিক্রি হয়, এর একটা হিসাব প্রযোজককে আমরা দিই।

 

এটা বিশাল অরাজকতা

খোরশেদ আলম খসরু

[চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি]

প্রায় সব প্রযোজকই সিনেমা মুক্তির পর বলেন সুপারহিট। এটা  প্রচারণারও একটা অংশ হয়ে গেছে। বক্স অফিস কনসেপ্টটা যদি চালু হয় তাহলে অনেক পেশার মানুষেরই অংশগ্রহণ লাগবে। বিশেষ করে সাংবাদিক, তাঁরা কিন্তু হল ধরে ধরে হিসাব করে রিপোর্ট করতে পারেন। হল মালিক, প্রডিউসার সবার মতামত নিয়েই বক্স অফিস রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।

তবে প্রযোজকরা ব্যবসার হিসাবটা সঠিকভাবে দেবেন বলে মনে হয় না। সেটা হয়তো ব্যাবসায়িক পলিসি। কত আয়-ব্যয় হলো সেটা বলতে গেলেও অনেক সমস্যা আছে। ‘এক কোটি ২০ লাখ পাঁচ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে’, অঙ্কে না বলেও গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা হিট, ফ্লপ ভার্ডিক্ট দিতে পারেন। প্রযোজক লগ্নি করে কত টাকাই বা ফেরত পান। যাবতীয় চার্জ কাটার পর আমরা একটা লভ্যাংশ পাই। ১০০ টাকার টিকিটে সব কেটেকুটে প্রযোজক হয়তো পান ১০ টাকা। অনেক হলে এসি চার্জ কাটা হয়, কিন্তু সেখানে এসি নেই। এটা বিশাল অরাজকতা। এখন এই জায়গাগুলো কারা ধরবে? এসব ধরার জন্য প্রযোজকদের শক্তিশালী প্ল্যাটফরম লাগবে। সেই প্রযোজক সমিতি বহুদিন ধরে মৃত। বক্স অফিস কার্যকর করতে হলে অনলাইন টিকেটিংটা আমাদের আনতে হবে। একটা সার্ভার থাকবে, সেখান থেকে সারা বাংলাদেশের হিসাব নেওয়া যাবে।

 

বক্স অফিস বানাতে ছয় মাসও লাগবে না

অশোক ধানুকা

[ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী প্রযোজক। এসকে মুভিজের প্রতিষ্ঠাতা। যৌথ প্রযোজনায় ‘শিকারি’, ‘নবাব’, ‘ডুব’সহ বেশ কিছু ছবি করেছেন]

বাংলাদেশের এত বছরের সমৃদ্ধ সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি অথচ বক্স অফিস নেই, এটা সহজ বা সাধারণ কথা নয়। সংশ্লিষ্টরাই চান না বক্স অফিস হোক। কারিগরি দিক দিয়ে বক্স অফিস বানাতে ছয় মাসও লাগবে না। টিকেটিং সিস্টেমটা প্রযুক্তিনির্ভর করলেই হয়। সিনেপ্লেক্সে আছেও, কিন্তু আপনি জানবেন না কয় টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। সিস্টেমটা তো ঠিক থাকতে হবে। বাংলাদেশে সিনেমা মুক্তি দিতে গেলে একজন প্রযোজককে প্রচুর ঝামেলা পোহাতে হয়। ঝামেলা পোহানোর পর প্রযোজক দেখেন তাঁর লগ্নীকৃত টাকা অন্যদের মধ্যে ভাগ হচ্ছে। তিনি কিছুই করতে পারেন না। আমাদের দেশ ভারত কেন, সারা বিশ্বে বক্স অফিস আছে, স্বচ্ছতা আছে। বাংলাদেশে সিনেমা মুক্তির ক্ষেত্রে নেই। বাংলাদেশে যাঁদের মাল্টিপ্লেক্স আছে, তাঁরা সরকারের অনেক কাছের লোক। তাঁরা যেমন ইচ্ছে তেমনভাবে প্রফিট শেয়ার করেন। আমাদের এখানে (ভারতে) ফিফটি ফিফটি শেয়ার হয়। বাংলাদেশে মনে হয় ২০ শতাংশও পান না প্রযোজক। এবার আপনি সিনেমা মুক্তি দিলে দেন, না দিলে না। সিনেমা মুক্তি দেওয়ার তো খুব বেশি অপশন নেই প্রযোজকের। কে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাবেন? আর কী সব কৌশলে তারা টাকা নেয়! এসি বিল, ঝাড়ুদার বিল, এই বিল, সেই বিল করে নিজেরা দেখায় হয়তো ২০ শতাংশ নিচ্ছে। আর প্রযোজককে ২০ শতাংশ দিচ্ছে। কিন্তু বাকি যে মেইনটেন্যান্স বিল নেয়, সেটাও কিন্তু প্রযোজকের টাকা থেকেই। এটা কোনো কথা! আপনি দোকান দিয়েছেন, আমি বিস্কুট বিক্রি করব আপনার দোকানের কারেন্ট বিল দিয়ে? আপনারও যেমন ইনভেস্ট আছে, সিনেমায় একজন প্রযোজকেরও ইনভেস্ট আছে।

শুনছি কিছু সিনেমা বাংলাদেশে ভালো চলছে, শুনে সত্যিই আমার খুব ভালো লেগেছে। এই প্রযোজকরা নিয়মিত সিনেমা তৈরি করুন, তাঁদের পথটা কিন্তু তৈরি করে দিতে হবে। সিনেমার ভালো সময়, খারাপ সময় থাকবে, সব ইন্ডাস্ট্রিতে আছে। বলিউডেরও খারাপ সময় যাচ্ছে, কিন্তু তারা হতাশ হচ্ছে না। কারণ তারা লস খেলেও জানছে যে দর্শক সিনেমাটা দেখছে না। তাদের মধ্যে এ ভয়টা নেই যে দর্শক দেখছে, তবুও একটা মধ্যস্বত্বভোগীর জন্য আমি লস খাচ্ছি।

 

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের কথা অনুলিখন করেছেন মীর রাকিব হাসান



সাতদিনের সেরা