kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

কার পাপ কার পুণ্য

‘মনপুরা’র এক যুগ পর ‘পাপ পুণ্য’ নিয়ে আসছেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী জুটি। আগামীকাল বাংলাদেশসহ কানাডা-আমেরিকার শতাধিক হলে মুক্তি পাবে ছবিটি। পর্দায় চঞ্চলের সঙ্গী হয়েছেন মামুনুর রশীদ, আফসানা মিমি, সিয়াম আহমেদ, ফারজানা চুমকী ও শাহনাজ সুমী। কার পাপ কার পুণ্য? লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



কার পাপ কার পুণ্য

‘পাপ পুণ্য’ ছবির একটি ফ্রেমে ফারজানা চুমকি, আফসানা মিমি, শাহনাজ সুমী ও চঞ্চল চৌধুরী

গ্রামের জীবনযাপন, প্রেম, রাজনীতি, সম্পর্কের নানা সমীকরণে মোড়া ‘পাপ পুণ্য’ ছবির গল্প। চ্যানেল আইয়ের অফিসে প্রথমবার চঞ্চলকে গল্পটা শোনান গিয়াস উদ্দিন সেলিম। একবাক্যে রাজি হলেন চঞ্চল। ২০০৯ সালে সেলিমের ‘মনপুরা’ বদলে দিয়েছিল এই অভিনেতার ক্যারিয়ারের গতিপথ।

বিজ্ঞাপন

টিভি নাটক তো অবশ্যই, সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্টে নানামাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে ‘মনপুরা’। ছবিটি মুক্তির এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে সেলিমের আর কোনো ছবিতে দেখা যায়নি চঞ্চলকে।

চঞ্চল বলেন, “পাণ্ডুলিপি পড়েই সেলিম ভাইকে বলেছিলাম, ‘মনপুরা’র পর ‘পাপ পুণ্য’ বানিয়ে ফেলা উচিত ছিল। ‘মনপুরা’র চেয়ে এটি কোনো অংশে কম তো নয়ই, বরং একটু বেশিই ভালো। ”

‘পাপ পুণ্য’ ছবিতে চঞ্চলকে দেখা যাবে মাথাভরা কাঁচা-পাকা চুল আর ভারি পাওয়ারের চশমায়। চরিত্র রূপায়ণেই আসল চ্যালেঞ্জটা নিতে হয়েছে অভিনেতাকে। “এখানে আমার নাম খোরশেদ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। খুব সহজ-সরল ও সৎ। ঘটনাচক্রে তার জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায়, সেটা নিয়েই ‘পাপ পুণ্য’ ছবির পুরো গল্প। বাস্তবে আমার যা বয়স, খোরশেদের বয়স তার চেয়ে বেশি। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের খোরশেদ হওয়াটাই আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। চরিত্র অনুযায়ী দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপনের জন্য দেড় থেকে দুই মাস পরিচালকের সঙ্গে বসে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। সেলিম ভাইয়ের ওপর আস্থা বা বিশ্বাস ছিল। জানতাম আমাকে প্রস্তুত করেই তিনি শুটিং করবেন”, বললেন চঞ্চল চৌধুরী।

‘মনপুরা’ ছবির সেই ‘গাজী কাকা’ মামুনুর রশীদকেও চঞ্চল পেয়েছেন ‘পাপ পুণ্য’তে। এখানে তিনি প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের চরিত্রে। মামুনুর রশীদ বলেন, “সেলিমের ‘মনপুরা’ করে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছি। তাই সেলিমের সিনেমা শুনেই আর না করিনি। কাজ তো করে ফেলেছি, এখন দর্শকদের দেখার পালা। ”

ছবিতে চঞ্চলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় পর্দায় পাওয়া যাবে এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদকে। তাঁর চরিত্রের নাম আল আমিন। সিয়াম বলেন, ‘আমি শুটিং সেটে ঢোকার সময় চঞ্চল ভাই বলতাম। সিনেমায় তিনি আমার কাকা, পরে বাস্তবেও আমার কাকা হয়ে গেছেন। শুটিং শেষে তিনি আমার পরিবারের একজন হয়েছেন। আমি তাঁকে এখন কাকা বলেই ডাকি। ’

গেল দুই-তিন বছরে সিয়ামকে পর্দায় যেমন দেখা গেছে, সে তুলনায় এখানে একটু মোটা দেখা যাবে। ছবিটির জন্য সাত-আট কেজি ওজন বাড়িয়েছেন। চরিত্রটা একটু হাবাগোবা টাইপের, সহজ-সরল। জিম করা অ্যাকশন হিরো নয়। সিয়াম বলেন, ‘সেলিম স্যার যদি বলতেন তোমাকে টানা রোদে পুড়ে কালো হয়ে এই চরিত্রটা করতে হবে, আমি তাতেও রাজি হতাম। অভিনয়শিল্পীরা যা চান সেলিম স্যারের ছবিতে তার সবটাই পাওয়া যায়। আল আমিন ছেলেটার জন্য আমার খুব মায়া লেগেছে। একটা সময় মনে হয়েছে, ওকে ভালোবাসা যায়। আবার মনে হয়েছে, ও এই কাজটা না করলে পারত। ছবির চরিত্রগুলো তো আর এলিয়েন না, জীবনের কোনো না কোনো বাঁকে তাদের আমরা দেখেছি। ’

চঞ্চলের মতো সিয়ামও প্রস্তাব পেয়েই লুফে নিয়েছেন ছবিটি। নিজের চরিত্র নিয়ে ভেবেছেন পরে। চঞ্চলের কাছে তাঁর চরিত্র মার খেয়ে যাবে কি না সেসব ভাবেননি। সিয়াম বলেন, “আমি ‘মনপুরা’ দেখি বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে। তখন আমি স্কুলবালক। সেই সিনেমার অভিনয়শিল্পী, পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা যে কত স্পেশাল, সেটা বোঝানো যাবে না। এতটুকুই তো যথেষ্ট ছিল আমার জন্য। পরে যুক্ত হলেন আফসানা মিমি। আমরা যারা ‘নাইন্টিজ কিডস’, তাদের কাছে মিমি আপা মানে অন্য রকম কিছু, বিশেষ করে তাঁর হাসি। ”

নব্বই দশকের টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসানা মিমি। ‘দিল’, ‘চিত্রা নদীর পারে’, ‘নদীর নাম মধুমতি’ ও ‘প্রিয়তমেষু’র মতো চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। অনেক দিন হলো নাটক বা চলচ্চিত্রে কোনো মাধ্যমেই অভিনয় করতে চান না তিনি। বরং পরিচালনায় মনোযোগী হয়েছেন বেশি। সেই মিমি এখানে করেছেন ‘পারুল বানু’ নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র। মিমি বলেন, “সেলিম আমার খুব ভালো বন্ধু। ওর প্রথম লেখা ও পরিচালনায় নাটকে অভিনয় করেছিলাম। ‘পাপ পুণ্য’ ছবির মাধ্যমে এই প্রথম তার পরিচালিত ছবিতে কাজ করলাম। আমি যখন ভাবলাম অভিনয়ে আবার নিয়মিত হব, তখনই সেলিম প্রস্তাব নিয়ে আসে। বললাম, ঠিক আছে করব। ও প্রথমে ভেবেছে, আমি কথার কথা বলেছি। ও বলে, সত্যি করবে তো? বললাম, হ্যাঁ সত্যিই করব। ”

চঞ্চল যখন অভিনয়ে এসেছেন, মিমি তখন ক্যামেরার পেছনে চলে গেছেন। একসঙ্গে অভিনয় করেননি তাঁরা। সিয়াম আর মিমি ‘ভালোবেসেছিলে’ নামে অসম প্রেমের একটা নাটকে অভিনয় করেছিলেন। মিমি বলেন, ‘গণভবনে একটা দাওয়াতে এরপর আমাদের আবার দেখা। ডেকে বললাম সিয়াম তোর সঙ্গে আরেকটি কাজ করব। আমি তো তোর নায়িকা হতে পারব না, মা হব। হা হা হা। ’

ছবিতে সিয়ামের নায়িকা শাহনাজ সুমি। জুঁই তেলের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। অভিনয় করেছেন নাটকেও। তাঁর কাছে এই ছবি একটা কর্মশালা। সুমী বলেন, ‘একটা ভালো সিনেমা করব সেই স্বপ্ন ছিল অনেক আগে থেকেই। এখানে যাঁদের সঙ্গে পর্দায় অভিনয় করেছি তাঁরা একেকজন অভিনয়ের প্রফেসর। তাঁদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। অডিশনে ৩০ জনের মধ্য থেকে আমাকে বাছাই করেছিলেন সেলিম স্যার। ’

ছবিতে সুমির নাম সাথী। চঞ্চল চৌধুরী-ফারজানা চুমকির মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চুমকি প্রথমবারের মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

সিনেমাটি কেন দেখবে দর্শক? কার পাপ কারই বা পুণ্য? উত্তরটা দিলেন চঞ্চল। বলেন, ‘ছবিতে পাপ ও পুণ্যের ফলাফল দেখতে পাবে দর্শক। তবে কার পাপ কার পুণ্য, সেটা এখনই বলে দিতে চাই না। ছবি দেখে দর্শক মনে একটা অদ্ভুত বোধ উদয় হবে, এটা বলতে পারি। ’

কাল শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকা ও কানাডায়ও মুক্তি পাবে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘পাপ পুণ্য’। গতকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের ২০, আমেরিকার ৮৪ ও কানাডার সাতটি হলে দেখা যাবে ছবিটি। আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। পরের সপ্তাহে আমেরিকার আরো ২০টি হলে মুক্তি পাবে ছবিটি।



সাতদিনের সেরা