kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকের শিল্পীদের নির্বাচন

কী ভাবছেন তারকা ভোটাররা

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



কী ভাবছেন তারকা ভোটাররা

ছবি : সংগৃহীত

আগামীকাল একই দিনে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি ও টিভি নাটকের অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচন। শিল্পীদের এই দুই নির্বাচন ঘিরে রীতিমতো উৎসবের আমেজ শোবিজ অঙ্গনে। শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠন কতটা জরুরি? শিল্পীদের সংগঠন কেমন হওয়া উচিত? কী ভাবছেন তারকা অভিনয়শিল্পী ভোটাররা? শুনেছেন ইসমাত মুমু

 

আমি শিল্পীদের নির্বাচনের পক্ষে নই

চঞ্চল চৌধুরী

অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্য আমি। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য এখনো হইনি।

বিজ্ঞাপন

অনেকবার সদস্য হওয়ার জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো না কোনো কারণে হতে পারিনি। একত্র থাকার জন্য সংগঠন দরকার। যেকোনো সংকটে ব্যক্তির চেয়ে সংগঠন অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সব পেশাজীবীর ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তবে শিল্পীদের সংগঠন যদি অন্য আট-দশটা পেশাজীবী সংগঠন থেকে আলাদা না করা যায় তাহলে বিপদ। শিল্পীর পরিচয় তাঁর কর্মে। শিল্পীদের উদার হতে হয়। সাধারণ মানুষও জানে যে শিল্পীরা একটু অন্য রকম। ধরুন, একজন শিল্পীর গাড়িতে একটা সিএনজি এসে ধাক্কা লাগাল। সাধারণ অনেক মানুষ সেই সিএনজিওয়ালাকে বকাঝকা করবে। কোনো শিল্পীর গাড়ি যদি অন্য কারো গাড়িতে ধাক্কা দেয় তখন কিন্তু পুলিশ এসেও বলবে, ‘আপনার কাছ থেকে তো এটা আশা করিনি। ’ মানে শিল্পীকে সবাই ভিন্ন চোখে দেখে। সেই জায়গা থেকে শিল্পীদের নির্বাচন নিয়ে পত্রপত্রিকায় নেতিবাচক যে বিষয়গুলো দেখি, সেটা অবশ্যই কাম্য নয়। শিল্পীদের নির্বাচনের পক্ষে আমি নই। আমাদেরও যদি ট্র্যাডিশনাল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হয়, সেটা কেমন দেখায়! সাধারণ নির্বাচনগুলোতে যেসব কাদা ছোড়াছুড়ি হয় তার প্রভাব শিল্পীদের নির্বাচনেও এসে পড়ে। আমার মতে, শিল্পীদের আলাদা একটা সম্মেলন হবে। বছরে দু-একবার সবাই জমায়েত হবে। সেখানে শিল্পীরা একজন আরেকজনের নাম প্রস্তাব করবে। বয়োজ্যেষ্ঠ বা দায়িত্ববান ব্যক্তি যাঁরা থাকবেন তাঁদের উপস্থিতিতে কণ্ঠভোট বা অন্য উপায়ে নেতা নির্বাচিত হবেন। একাধিক যোগ্য ব্যক্তি থাকলে নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নেবে, এবার অমুক, পরেরবার তমুক। আমাদের সংগঠনের ৪১ জন যদি প্রায় এক হাজার ২০০ ভোটারকে প্রতিদিন কল বা মেসেজ করে, কী অবস্থা হয় তখন! এগুলো অপ্রয়োজনীয়। এর ফলে দলাদলি হয়, দলের মধ্যে দল হয়। এই রাজনীতি শিল্পীদের সংগঠনে দেখতে চাই না।

 

যিনি সবার শ্রদ্ধার পাত্র আমরা তাঁকে নির্বাচিত করতে পারি

আফরান নিশো

আমি যতটুকু জানি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই শিল্পীদের গিল্ড আছে। সাংগঠনিকভাবে যারা শিল্পীদের হয়ে কথা বলবে। শিল্পীদের সুখ-দুঃখে এগিয়ে আসবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে একটা সমস্যায় পড়লাম, সেটা গিয়ে সংগঠনের দুজন সিনিয়রের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি পরামর্শ দিতে পারেন। এর জন্য সাংগঠনিক মানুষ দরকার হয়। আমি মনে করি, যিনি সবার শ্রদ্ধার পাত্র তাঁকে আমরা নির্বাচিত করতে পারি। নির্বাচন হবে, এটা তো একটা মিলনমেলাও। কিন্তু সেটা ঘিরে কোনো রকম খারাপ কিছু যেন না ঘটে। যাঁরা অভিনয়ে অনেক ব্যস্ত, তাঁরা সব সময় সাংগঠনিক সব বিষয় মেইনটেন করতে পারেন না। সাংগঠনিক দক্ষতা যাঁদের আছে তাঁদের যুক্ত করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ভোটের বিবেচনাটাও সে রকম হওয়া উচিত।

 

শিল্পীদের সংগঠন খুবই প্রয়োজনীয়

জাকিয়া বারী মম

আমি ভোট দিতে যাব। আমার সহকর্মীরা নির্বাচন করছেন, আমার তো খুবই এক্সাইটেডই লাগছে। অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচন ঘিরে কখনো তেমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেখিনি। আমাদের দেশে, বিশেষ করে টেলিভিশন নাটকের সংগঠনগুলো শেপ পেতে আরো সময় লাগবে। ইন্ডাস্ট্রির বেড়ে ওঠার সঙ্গে অবশ্যই একটা সাংগঠনিক অবস্থান থাকতে হয়। এলোমেলো চলার সুযোগ নেই। নির্বাচন শব্দটার সঙ্গে রাজনৈতিক একটা ব্যাপারও চলে আসে। শিল্পীদের জন্য ব্যাপারটা কমফোর্টেবল নয়।

আমি যখন নতুন ছিলাম তখন অনেক সমস্যায় পড়েছি। হয়তো নিজের জন্যই পড়েছি। তখন মনে হয়েছে, কথা বলার মতো একটা সংগঠন থাকা উচিত ছিল। একটা ভুল-ত্রুটির জন্য তো আমরা থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারি না। পরিবার থাকলে সেখানে নানা বিবাদও হবে। আর সেই বিবাদের মীমাংসার জন্যই সংগঠন বা তার কার্যকরী সদস্যও থাকতে হয়। এ ধরনের সংগঠন বিচক্ষণ ও সঠিক মানুষদের দ্বারা সংগঠিত হওয়া উচিত। সব শিল্পী যেন সেটাকে সম্মান জানিয়ে নিজের কথাগুলো বলতে পারেন।

 

 

শিল্পীরা যেন একে অন্যের বিরুদ্ধে না যায় 

ইয়ামিন হক ববি

নির্বাচনে শিল্পীদের কোনো লাভ-লোকসান আছে বলে আমার মনে হয় না। সমিতিটা মিনিমাম একটা নিয়ম-শৃঙ্খলা ধরে রাখে। নির্বাচন হওয়া জরুরি কি না, সেটা আমি জানি না। কিন্তু শিল্পীরা যেন একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে না যায়। আমি আজ ইন্ডাস্ট্রির একজনের বদনাম করলাম, সেটা কোনো না কোনোভাবে ঘুরে কিন্তু আমার ঘাড়েই এসে পড়বে। নির্বাচনটা এত লোভনীয় কি না, সেটাও আমি জানি না। যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁদের জন্য শুভ কামনা। কিন্তু যাঁরা নির্বাচিত হবেন না, তাঁরা আর এফডিসিতে আসবেন না, এটা কোনোভাবেই হওয়া যাবে না। যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁদের প্রথম দায়িত্বই হলো সবাইকে সংগঠিত রাখা।

সংগঠন আছে বলেই শিল্পীদের একটা বসার জায়গা আছে, এটাও আমার কাছে কম কিছু নয়। এর বাইরে অতীতে অনেক বড় কিছু হয়েছে বলে শুনিনি বা আমার চোখে পড়েনি। অবশ্য কভিডের সময় সংগঠনের ভূমিকা দেখেছি। অনেক শিল্পী বিপদে পড়েছেন, তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন নেতারা। ব্যক্তিগতভাবে সাহায্যের চেয়ে সাংগঠনিক সাহায্য পেলে ভালো হয়। শিল্পীরাও ভাবতে পারেন যে আমাদের বিপদে মাথা গোঁজার ঠাঁই আছে।

 

নির্বাচন শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে

বাপ্পী চৌধুরী

সংগঠনের ভূমিকা অনেক ধরনের হতে পারে। সেটা শুধু নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। বরং আমার মনে হয়, নির্বাচন শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে। এক টার্মে যারা বিজয়ী হয়, তারাই ক্রিকেট খেলে, পিকনিকে সক্রিয় থাকে, পরাজিত দলের কেউ এসবে থাকতে চায় না। অথচ আমরা সবাই একসঙ্গে চলতে চাই। এখন সিনিয়র জুনিয়র একে অন্যকে আক্রমণ করে কথা বলছি। সংগঠনের প্রতিনিধি সিলেকশন করা যেতে পারে। সিনিয়ররা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। কেউ যদি মনে করেন, এই পদে তিনি ভালো করবেন, নিজের পরিকল্পনা জানাবেন। ধরুন, একজন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হলেন। তাঁর কাজটা কী, সে সম্পর্কে তো তাঁকে অবগত হতে হবে। গেল কয়েকটা নির্বাচনের পর সংগঠনের দু-একজন ছাড়া কারো কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। আলোচনা-সমালোচনা সেই দু-একজনকে ঘিরেই। তাহলে এত পদই বা কেন! নির্বাচনে নাকি অনেক খরচও করতে হয়। এই খরচ কেন করতে হয়, এতে কে লাভবান হয়, সেটাও আমি নিশ্চিত নই।

 

শিল্পীরা দুস্থ, সেটা কেন ঢাকঢোল পিটিয়ে জানানো হবে! শিল্পীদের নিরাপত্তার জন্য বীমার ব্যবস্থা থাকতে পারে। অভিনয়ের মানোন্নয়নে কাজ করতে পারে সংগঠনগুলো। আমরা আর কত বিচ্ছিন্ন হব! সবাই মিলে বসে আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারি, কিভাবে ছবির নির্মাণ বাড়তে পারে, সেটা নিয়ে আলোচনা করতে পারি।



সাতদিনের সেরা