kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এক অবরুদ্ধ শহরের গল্প

নূরুল আলম আতিক পরিচালক

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক অবরুদ্ধ শহরের গল্প

বাবার কাছে শহরের বাইরের একটা জায়গার বিভিন্ন গল্প শুনতাম। কিন্তু আমার কখনো যাওয়া হয়নি সেখানে। সেই শহরের একটা ছোট্ট গল্প থেকে অনুপ্রাণিত ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। ঘটনাটা শুনেছি বীরপ্রতীক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহিরের কাছে।

বিজ্ঞাপন

‘গেরিলা’ ছবির শুটিংয়ের সময় নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাইয়ের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে পরিচয়। ঘটনাটা ঘটেছিল সৈয়দপুর এয়ারপোর্টকে ঘিরে। তবে অবিকল গল্প নয়, ছবিটা একটা ফিকশন। নির্দিষ্ট কোনো শহরকে বিবেচনা করিনি। কোনো এক শহরের সূত্র ধরে পুরো দেশের মুক্তিকামী মানুষের মুক্তিযুদ্ধের কথা শোনাতে চেয়েছি।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়ার পর আমরা শুটিং শুরু করেছিলাম ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে। প্রথমে যেভাবে শুটিংয়ের ডিজাইন করেছিলাম, বেশ বড় অঙ্ক খরচ হতো। অন্য প্রযোজকও পাচ্ছিলাম না। তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের নিয়ে চিন্তিত, আমরাও চিন্তিত। কিছু শুটিং করার পর ছবির ভবিষ্যৎ নিয়েই সন্দিহান হয়ে পড়ি। প্রথম সমস্যা অর্থ। দ্বিতীয়ত, যত সময়ই লাগুক যেনতেনভাবে কমপ্লিট করতে চাইনি। একটা লম্বা সময় গেছে শুটিংয়ে ও অর্থ সংগ্রহে। অনুদান পেয়েছি ৩৫ লাখ টাকা। বাকি অর্থ মাতিয়া বানু শুকুসহ ঘরের এবং কাছের বন্ধুদের সহযোগিতায় জোগাড় হয়েছে। আমি আর শুকু দুজনই তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে কৃতজ্ঞ, তারা আমাদের সময় ও সুযোগ দিয়েছে।

আমি এর আগে কয়েকটা মুক্তিযুদ্ধের ছবির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। তারেক মাসুদের ‘মুক্তির গান’ দেখানো থেকে শুরু করে ‘মুক্তির কথা’ ছবির গবেষণা সহকারী ছিলাম। আফসান চৌধুরীর ‘তাহাদের যুদ্ধ’ ছবির ইউনিটে কাজ করেছি। ‘গেরিলা’ ছবির গবেষণার কাজ করেছি। কাজগুলো করতে গিয়ে এক ধরনের কৌতূহল হচ্ছিল যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের জন্য যেমন বিশাল, তেমনি সিনেমার জন্যও গল্পগুলো অভাবনীয় সম্ভাবনার। সম্মুখযুদ্ধের বাইরেও যুদ্ধের নানা অনুষঙ্গ আছে। আমার গল্পটা তেমনই।

ছবির নাম ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’, মোরগের ডাক যেমন বার্তা দেয় অন্ধকার কেটে ভোর আসবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটাও আমাদের কাছে তেমনি এক বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছিল। আবার ছবির গল্প একটা অবরুদ্ধ শহরের। এখানে এয়ারপোর্ট মেরামত করতে আসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। শহরের মূল জনগোষ্ঠী বিহারি। সেখানে কয়েকটা বাঙালি পরিবার আছে, মিলিটারি আসার পর তাদের মধ্যে সম্পর্কটা কিভাবে পাল্টে যাচ্ছে, সেটাই ছবির গল্প।

অভিনয়শিল্পীরা খুবই ভালো করেছেন। অনেক জায়গায় বরং মনে হয়েছে আমি আরো ভালো স্পেস দিতে পারতাম। সাধারণত দেখা যায়, একজন অভিনেতা দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিতে দুজন মিলে একটা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আশেক, মাশেক দুজন যমজ ভাই। তাঁরা দুজনই অভিনয় করতে চান। দুজন মিলেই সাবু নামের চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন। আরো অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল, অশোক ব্যাপারী, শিল্পী সরকার অপু, স্বাগতা, জয়রাজ, লায়লা হাসান প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা