kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কালবেলা এলো, টুটুল নেই

গত বছর সাইদুল আনাম টুটুলের মৃত্যুর পর তাঁর অসমাপ্ত ছবি ‘কালবেলা’ শেষ করেন মোবাশ্বেরা খানম। সঙ্গে পেয়েছিলেন দুই মেয়ে ঐশী আনাম ও অমৃতা আনামকে। সরকারি অনুদান পাওয়া ছবিটি মুক্তি পাবে কাল। ছবিটি নির্মাণের নেপথ্যের গল্প লিখেছেন প্রয়াত নির্মাতার স্ত্রী মোবাশ্বেরা খানম

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালবেলা এলো, টুটুল নেই

ছবির শুটিংয়ে সাইদুল আনাম টুটুলের সঙ্গে তাহমিনা অথৈ ও শিশির আহমেদ

২০১৮ সালের জুনে যখন টুটুল অনুদানের বিষয়টি জানতে পেল তখন আমরা সিলেটে ছিলাম বিসিটিআইয়ের ছাত্রদের নিয়ে। ঢাকায় ফিরেই ও ছবির প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আগের বছরে ও স্ক্রিপ্টটা জমা দিয়েছিল, অনুদান পায়নি। ও মরিয়া হয়ে উঠেছিল ছবিটি করার জন্য, যদিও ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর ওর শরীর খুবই খারাপ ছিল।

বিজ্ঞাপন

শুরু হলো প্রস্তুতিপর্ব। অদৃশ্য ভাগ্যের লিখন কি না জানি না, এবার শুরু থেকেই ও আমাকে ওর কাজে যুক্ত করেছিল, আর আমিও উৎসাহ নিয়ে ওর সঙ্গে যোগ দিলাম। বরাবরই আমার সৃজনশীল কাজে আগ্রহ ছিল, কিন্তু সংসার ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে কখনোই ওর সঙ্গে থাকতে পারিনি। এমনকি আমি ওর প্রথম ছবি ‘আধিয়ার’-এর শুটিংয়েও যেতে পারিনি বড় মেয়ে ঐশীর পরীক্ষা চলছিল বলে। ওকে কিছু স্ক্রিপ্ট করে দিয়েছিলাম, এটুকুই আমার সম্বল ছিল। কিন্তু এবারে প্রথম থেকেই কেন যেন প্রতিটা ব্যাপারে ও আমার মত নিচ্ছিল। শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেব বলে আমিও মহা উৎসাহে ওর সঙ্গী হলাম। শিল্পী নির্বাচন, পোশাক পরিকল্পনা—সবই একসঙ্গে করলাম। টুটুলের কাজ বরাবরই খুব ডিটেইল হয়। অসুস্থ শরীর নিয়েই ও কয়েকবার খুলনা ও কুষ্টিয়ায় গিয়ে লোকেশন দেখে এলো। কত দিন ও এই আনন্দটা পায়নি! ওর চোখ-মুখ দেখে আনন্দটা আমি বুঝতে পারতাম। অক্টোবর-নভেম্বরে আমরা দুই জায়গায় শুটিং করে এলাম। যদিও এর মাঝে ওর শরীর একবার, দুবার খারাপ হয়েছিল, কিন্তু ও সেটা পাত্তা দিতে চায়নি। কিসের একটা তাড়া যেন ওকে ভেতর থেকে অস্থির করে তুলছিল। ও কি বুঝতে পারছিল ওর সময় বড্ড কম! প্রতিটা শট নেওয়ার সময় আমাকে পাশে বসিয়ে রাখত, ঠিক আছে কি না জানতে চাইত। আমি অনেক সময় ঠাট্টাও করেছি এ নিয়ে, আমি কি বুঝি! ভাগ্যের এমন পরিহাস শুটিং পুরো করার পর আমাকেই ও যেন দায়িত্বটা দিয়ে গেল বাকি ছবিটা শেষ করার! আমি জানি না এখানে জীবনের কোন রহস্য কাজ করেছে। ছবির ইউনিট আর আমার মেয়েরা যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই আমাকে শক্তি দিয়েছিল। আমার দুই মেয়ে বাবাকে শেষ বেলায় দেখতে পারেনি, যদিও খবর পেয়েই ছুটে এসেছিল। ওরা অমন শোকের ভেতরেও বলল, ‘আমরা বাবার ছবিটা শেষ করব। ’ ইউনিটের সবাই এগিয়ে এলেন। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি আমাদের সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদকে, যিনি এই করোনাকালে আমাদের ছেড়ে গেছেন। টুটুলের দীর্ঘদিনের সহকর্মী রতন কুমার বর্মণ অভিভাবকের মতো আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি এ ছবির প্রধান সহকারী।

নায়িকা অথৈ ও নায়ক শিশির নতুন মুখ। ওরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সরকারি অনুদান পাওয়া ছবিটির গল্প ২০০১ সালে আইন ও সালিস কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত ‘নারীর ৭১ ও যুদ্ধপরবর্তী কথ্য কাহিনি’ থেকে নেওয়া। মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য নারীর ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।



সাতদিনের সেরা