kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বন্ধু এবার শত্রু

গেল বছর হইচইয়ে ‘তাকদীর’ মুক্তির পর দারুণ জনপ্রিয় হয় চঞ্চল চৌধুরী-সোহেল মণ্ডলের রসায়ন। ঠিক এক বছর পর একই প্ল্যাটফর্মের নতুন সিরিজ ‘বলি’তে দেখা যাবে তাঁদের। চঞ্চল-সোহেল জুটি ও ‘বলি’ নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বন্ধু এবার শত্রু

‘তাকদীর’ সিরিজের দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী ও সোহেল মণ্ডল। ‘বলি’তে দেখা যাবে তাঁদের দ্বৈরথ

‘তাকদীর’-এ ছোট ভাই, বন্ধু মন্টুর মৃত্যুর পর কেঁদে বুক ভাসিয়েছিল তাকদীর। আট পর্বের সিরিজে তাকদীর-মন্টুর রসায়ন এতই জমে গিয়েছিল যে সিক্যুয়ালের দাবি ওঠে জোরেশোরে। সেটা না হলেও তাকদীর-মন্টু ওরফে চঞ্চল চৌধুরী-সোহেল মণ্ডল অবশ্য ফিরছেন। ঠিক এক বছর পর পর্দায় তাঁদের হাজির হওয়া অবশ্য অন্য রূপে। এবার বন্ধুত্বের বদলে তাঁদের দ্বৈরথই দেখা যাবে ‘বলি’তে। চঞ্চল চৌধুরী অবশ্য ঠিক সিরিজটিকে ‘তাকদীর’ জুটির পুনর্মিলন বলতে নারাজ, “ওই সিরিজ আর এই সিরিজে আমাদের চরিত্র একেবারেই আলাদা, দর্শক সেটা দেখলেই বুঝতে পারবে। তার সঙ্গে (সোহেল মণ্ডল) আমার জুটি না বলে বরং বলা যায় সহকর্মী, যে আগের সিরিজে ছিল, এখানেও আছে। ‘বলি’তে আরো অনেকে আছে যাদের সঙ্গেও আগে কাজ করেছি।”

একই রকম উত্তর দিলেন সোহেল। সঙ্গে অবশ্য যোগ করলেন চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে কাজের আনন্দের কথাও, “উনার সঙ্গে কাজ করলে আসলে কোনো চাপ থাকে না। চঞ্চল ভাই বন্ধু বলেন, ঘরের মানুষ বলেন—সব কিছু। একসঙ্গে রিহার্সাল, শুটিং, অনেক দিন ধরে সময় কাটানো মিলিয়ে অন্য রকম এক রসায়ন তৈরি হয়। ‘বলি’ আমাদের তৃতীয় কাজ। প্রথমটি ‘হাওয়া’ (মেজবাউর রহমান সুমনের মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবি)। সেই ছবির শুটিংয়ে একসঙ্গে ৪০ দিন কাটিয়েছি।”

তবে কি ‘বলি’তে চঞ্চল-সোহেলের অভিনয় একেবারেই কাকতালীয়? ‘তাকদীর’-এর সাফল্যের কোনো যোগ নেই? এ প্রশ্নের সবচেয়ে ভালো উত্তর জানার কথা পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্তর। তিনি বললেন, ‘একেবারেই নেই। আমরা প্রতিটি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আগে স্কেচ করেছি, ঠিক করেছি চরিত্রগুলোকে কিভাবে দেখতে চাই। সে অনুযায়ী অভিনেতা নির্বাচন করেছি। তাদের দুজনকেও (চঞ্চল চৌধুরী ও সোহেল মণ্ডল) এভাবেই নেওয়া। তবে সোহরাব-রুস্তম চরিত্রে তাদের নাম প্রস্তাবের পর হইচই উৎসাহ দেখায়। কারণ আগে তাদের জুটি দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।’

‘বলি’তে সোহরাব হয়েছেন চঞ্চল, রুস্তম হয়েছেন সোহেল। নামটাও কি কাকতালীয়? নাকি ফেরদৌসীর বিখ্যাত মহাকাব্য ‘শাহনামা’র সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে? পরিচালক বললেন, সরাসরি কোনো সম্পর্ক না থাকলেও সোহরাব-রুস্তমের লড়াইয়ে মহাকাব্যের কিছুটা প্রেরণা তো আছেই।

২৩ নভেম্বর ‘বলি’র ট্রেলার মুক্তির পর ‘তাকদীর-মন্টু’র বন্ধু থেকে শত্রু বনে যাওয়া ছাড়াও নজর কেড়েছে সিরিজটির নির্মাণ ধরন। ওয়েস্টার্ন ঘরানার সিরিজ বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে। কেউ বলছেন পরিচালক ষাটের দশকের প্রখ্যাত ওয়েস্টার্ন নির্মাতাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত। শঙ্খ নিজে ব্যাখ্যা করলেন কেন ‘বলি’ ওয়েস্টার্ন ঘরানায় বানানো অপরিহার্য ছিল, ‘এটা আসলে সমুদ্র-তীরবর্তী বিচ্ছিন্ন এক জনপদের গল্প, যেখানে আইন-কানুনের কোনো বালাই নেই। এই ভাবনা থেকেই ওয়েস্টার্ন ঘরানায় বানানোর কথা মাথায় আসে। মনে হয়েছে গল্পটা এ ঘরানাতেই ভালো মানাবে। হইচইও সেটা খুব পছন্দ করে।’

চঞ্চল চৌধুরী অবশ্য ঘরানার চেয়েও মনোযোগী ভালো কাজে। মনে করেন তিনি ক্যারিয়ারের যে পর্যায়ে পৌঁছেছেন, সেখানে তাঁর কাছ থেকে এমন অনেক কাজ দর্শকদের পাওনা হয়ে গেছে, ‘রুটি-রুজির কারণে নাটকে একই ধরনের কাজ মাঝেমধ্যে করতে হয়, কিন্তু ওয়েব বা সিনেমায় একই ধরনের চরিত্র করতে চাই না, দর্শককে চমকে দিতে চাই। দুই যুগের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছি। এখন তো দর্শককে ভালো কিছুই দিতে হবে।’ তবে নিজে ভালো কাজের প্রতিশ্রুতি দিলেও মনে করিয়ে দিলেন দর্শকের দায়িত্বের কথাও, ‘ওয়েবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, কিন্তু দর্শক যদি বিনা মূল্যে ইউটিউব কনটেন্ট দেখার অভ্যাস থেকে বের হয়ে না আসে, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম সাবস্ক্রাইব না করে—তাহলে এই প্ল্যাটফর্মও নষ্ট হবে। একসময় টিভিতে ভালো কাজ হতো। সস্তা জিনিস বানিয়ে, ভিউয়ের পেছনে ছুটে আমরাই সেটা ধ্বংস করেছি। ভালো কনটেন্ট হলে দেশের বাইরে পুরস্কৃত হয়, কিন্তু আমাদের দর্শকদের অনেকের সেটা ভালো লাগে না। কারণ তাদের রুচি আমরাই নষ্ট করে দিয়েছি।’

‘বলি’তে অভিনয়ের জন্য শারীরিক-মানসিক ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে সব পাত্র-পাত্রীর। সেপ্টেম্বরে সিরিজের শুটিং হয় কুয়াকাটাসহ পটুয়াখালীর বিভিন্ন লোকেশনে। পরিচালক জানালেন, ঢাকার বাইরে নামমাত্র সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও কাজটি ঠিকঠাক শেষ করতে পেরেছেন সব কলাকুশলীর আন্তরিকতা ও পেশাদারির কারণে। শুটিংয়ের কথা উঠতেই সোহেল মণ্ডল তো বলতে শুরু করলেন কী কঠিন শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাঁকে, ‘সিরিজে সর্বশেষ চূড়ান্ত হয়েছি আমি। এরপর জানলাম চরিত্রের জন্য ছয় কেজি ওজন বাড়াতে হবে! ১ সেপ্টেম্বর আমি চুক্তিবদ্ধ হই, ১৫ তারিখ থেকে শুটিং। শুরুতে ১১ দিন সাত ঘণ্টা করে জিমে কাটাতাম, সঙ্গে চলত ওজন বাড়াতে খাওয়া-দাওয়া। অস্ত্র চালানো শেখা, অ্যাকশনের জন্য প্রচুর খাটতে হয়েছে। সিরিজটি খুবই র ধাঁচে তৈরি হয়েছে, দর্শক দেখলেই বুঝতে পারবে।’



সাতদিনের সেরা