kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অবশেষে মিশন এক্সট্রিম

করোনার আগেই মুক্তির জন্য প্রস্তুত ছিল ‘মিশন এক্সট্রিম’। মহামারির দুই ঈদে মুক্তি পেতে পেতেও পায়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাল একযোগে চার মহাদেশের ১৪টি দেশে মুক্তি পাবে ছবিটি। ছবির নায়ক আরিফিন শুভ ও নায়িকা জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর সঙ্গে কথা বলেছেন ইসমাত মুমু

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অবশেষে মিশন এক্সট্রিম

আরিফিন শুভ ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী

১৮ নভেম্বর থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের ক্যাম্পে ঢুকেছেন আরিফিন শুভ। ক্যাম্প থেকে শুটিং স্পট, স্পট থেকে ফের ক্যাম্প—এর মধ্যে একবারও যাওয়া হয়নি বাসায়। ডিসেম্বরে শুটিং শেষ হওয়ার আগে যাওয়াও হবে না। ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে শুভর বহু প্রতীক্ষিত ‘মিশন এক্সট্রিম’। দীর্ঘদিন দর্শক অপেক্ষা করে আছে ছবিটির জন্য। করোনার কারণে দুই ঈদে মুক্তি পেতে পেতেও পায়নি। তবে শুভর জন্য এই ছবি জীবন-মরণের প্রশ্ন। ছবিতে নিজের লুক তৈরির জন্য পরিশ্রম করতে গিয়ে পড়েছিলেন পায়ের ইনজুরিতে। প্রায় দুই বছর ধরে ভুগছেন। শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন কিছুদিন। মাঝখানে অস্ত্রোপচার করলেও ভোগান্তি কমেনি। চিকিৎসকরা লাইফস্টাইলের নিয়ম-কানুন তৈরি করে দিয়ে সেটা মেনে চলতে বলেছেন। ওজন বাড়লেই সমস্যা বাড়বে শুভর। কারণ পায়ের ওপর ভরটা বেশি পড়বে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর জন্য ওজন বানিয়েছিলেন ৮২ কেজি। ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের প্রয়োজনে ওজন বাড়িয়ে করেছেন ৯৫ কেজি। কারণ, শুভর কাছে ‘কোনো ঝুঁকিই বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের ঊর্ধ্বে নয়।’

টানা শুটিং চলছে বঙ্গবন্ধুর। এর মধ্যে ছবি মুক্তি। কিভাবে ম্যানেজ করছেন সব কিছু? ‘আমি হয়তো ফিজিক্যালি সময় দিতে পারছি না, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শককে হলে আসার জন্য নানাভাবে বলছি। ৩ তারিখে আমার ছুটি নেওয়া আছে। সেদিন আমি দর্শককের সঙ্গে বসে ছবিটা দেখব।’

ছবিটা নিয়ে বহুবার বলেছেন শুভ। তবু যেন ক্লান্তি নেই তাঁর। বলেন, ‘একটা অ্যাকশন ফিল্ম বানানোর জন্য আমাদের রিসোর্সের স্বল্পতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছি। বলছি না আমরা একদম বিশ্ববিখ্যাত ছবি বানিয়ে ফেলেছি। শুধু এটাই বলছি, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছি। দর্শক যাতে হলে বসে প্রতারিত বোধ না করে। এটা যেন মনে না করেন, আমরা মিথ্যা বলে তাদের হলে নিয়ে গেছি। আগামীকালই দর্শক প্রমাণ পেয়ে যাবে। আমরা সত্য ঘটনা অবলম্বনে একটা গল্প বলতে চেয়েছি, নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সেটা লিখেছেন আমাদের পুলিশ প্রশাসনেরই একজন। এখানে এমন কিছু নেই যেটা দর্শক রিলেট করতে পারবে না।’

নায়িকা হিসেবে এ ছবিতে অভিষেক হচ্ছে ‘মিস বাংলাদেশ ২০১৮’ মুকুটধারী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর। প্রথম ছবি মুক্তির আগে নায়িকা ভীষণ এলোমেলো, ‘কী করব বলুন! গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রমোশনে গিয়েছিলাম। ফিরতে অনেক রাত হলো। খুব ভোরে উঠেই অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে বসে গেলাম, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এভাবেই দিন চলছে। তবে ছবি মুক্তির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে আমার হাত-পা ততই অবশ হয়ে যাচ্ছে।’ নিজের প্রথম ছবি, তাই উচ্ছ্বাসটাও বেশি। প্রথম শো তো দেখবেনই, এর পরও হলে গিয়ে বারবার দেখতে চান। ঐশীর প্রশংসা করলেন শুভও, ‘ওর মধ্যে প্রচণ্ড চেষ্টা আছে। ও শুধু নিজের সৌন্দর্য দেখিয়ে পার পেতে চায় না। সে বোঝে, অভিনয় দিয়েই মানুষের মনে জায়গা করে নিতে হবে।’

শুভ এমন প্রশংসা করেছেন—এটা বিশ্বাসই করতে চাইলেন না ঐশী, ‘সে তো সারা দিন আমাকে বকাঝকা করে। আমার সামনে প্রশংসা একদমই করে না।’

শুটিংয়ে বেশ কষ্ট সইতে হয়েছে ঐশীকেও। তবে শুভর কষ্টের বিপরীতে এসব নাকি কোনো কষ্টই না! ‘এই যেমন আমরা শুটিংয়ে গরুর কালোভুনার মতো মজার মজার খাবার খেয়েছি। আর বেচারা বলতে গেলে ঘাসপাতা খেয়েই বেঁচেছিল’, বললেন ঐশী।

ছবিতে অভিনয়ের জন্য নিজের শরীরে যে পরিবর্তন এনেছেন, তার প্রতিটি ধাপ নিয়ে একটা তথ্যচিত্র বানিয়েছেন নায়ক নিজেই। অনেক তরুণই সেটি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। প্রশ্ন হলো, এই যে শারীরিক পরিবর্তন, এর জন্যই কি পরিচালক শুভকে কাস্ট করেছেন? “তা নয়। তখন সবে ‘আহারে’ শেষ করলাম। ওই ছবির জন্য আমার ওজন বাড়াতে হয়েছিল। ফিজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন না করেও কিন্তু ছবিটি করতে পারতাম। ৯ মাস অন্য কোনো ছবি না করে যে ত্যাগটা করলাম, সেটা করেছি শুধু দর্শককে হলে আনার জন্য। প্রমাণ করতে চেয়েছি, সৎ ইচ্ছে থাকলে আমাদের দেশেও এমন অ্যাকশন ছবি সম্ভব”, বলেন শুভ।

একের পর এক ছবি নির্মিত হলেই ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির লাভ হবে, শুভ এটা বিশ্বাস করেন না। তাঁর মতে, ‘হাজারটা মানহীন ছবি করলে ইন্ডাস্ট্রি আরো ডুববে। ছবিতে নতুন কিছু যোগ করতে পারলাম কিনা সেই চেষ্টাটা থাকতে হবে সবার মধ্যে।’

চার মহাদেশে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। এটা বাংলা ছবির জন্য প্রথম। ‘আমাদের একটা ছবি প্রথম দিনেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ দেখতে পাবে, এটা ভীষণ গর্বের। এই উদ্যোগ আমাদের সিনেমার পথ সহজ করে দেবে। ইচ্ছে আছে দেশের বাইরে গিয়ে দর্শকের সঙ্গে ছবি দেখব। এবার না পারলেও দ্বিতীয় কিস্তি মুক্তির সময় অবশ্যই বিদেশে যাব। নব্বইয়ের দশকে দেশে এক হাজার ২০০ হল ছিল। এখন ঠিকঠাক চল্লিশ-পঞ্চাশটিও হল নেই। এ রকম ছবি নির্মিত হলে হল বাড়বে। এক হাজার ২০০ না হোক অন্তত ৫০০ হল ফিরিয়ে আনতে পারলেই নিজেকে সফল মনে করব। তখন আমাদের সিনেমা জগতটা আবার জেগে উঠবে’, বলেন শুভ।

প্রথম কিস্তি মুক্তির আগেই দ্বিতীয় কিস্তি তৈরি করে রেখেছেন পরিচালকযুগল সানী সারোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ। দুই কিস্তিতেই আছেন শুভ ও ঐশী। আরো আছেন তাসকিন রহমান, সাদিয়া নাবিলা, সুমিত, ফজলুর রহমান বাবু, মিশা সওদাগর, শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, ইরেশ যাকের, মনোজ প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা