kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পর্দার চন্দ্রাবতী

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পর্দার চন্দ্রাবতী

মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য তিন নারী কবির একজন চন্দ্রাবতী। তাঁকে নিয়ে এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’ ছবিটি মুক্তি পাবে আগামীকাল। পর্দার চন্দ্রাবতী দিলরুবা হোসেন দোয়েলকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

‘চন্দ্রাবতী কথা’ দোয়েলের দ্বিতীয় সিনেমা। এর আগে মুক্তি পেয়েছিল নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘আলফা’। ‘‘তখন ‘আলফা’ সিনেমার শুটিং করছিলাম। সেটে এই ছবির পরিচালক আমাকে গোপনে দেখতে এসেছিলেন। দেখেই সিদ্ধান্ত নিলেন, চন্দ্রাবতীর চরিত্রে আমাকেই নেবেন। অবশ্য আমি এসব শুনেছি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর”, ছবিটিতে যুক্ত হওয়ার কথা প্রসঙ্গে বললেন দোয়েল।

বাংলা সাহিত্যে প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতী। ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানে তিনি অমর হয়ে আছেন। মধ্যযুগে রচিত ‘মনসামঙ্গল’-এর অন্যতম রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতী। ‘মলুয়া’, ‘দস্যু কেনারামের পালা’, ‘রামায়ণ গীতিকা’ তাঁর লেখা। কিশোরগঞ্জের পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারিয়া ছিল তাঁদের নিবাস। তবে তাঁর সৃষ্টির চেয়ে ঢের বেশি নাটকীয় এবং একই সঙ্গে বিয়োগান্তক তাঁর নিজের জীবন। ষোড়শ শতকের অসম্ভব প্রতিভাবান ও সংগ্রামী এই নারীকে নিয়ে এন রাশেদ চৌধুরীর ছবিটি। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে কেমন ছিল প্রস্তুতি? দোয়েল বলেন, ‘প্রস্তুতি বলতে রাশেদ ভাইয়ের সঙ্গে স্ক্রিপ্ট পড়া আর বিভিন্ন সময়ে রিহার্সাল করেছি। তবে আমি জানতাম না ওই সময়ে তাঁরা কী রকমের পোশাক পরতেন। তাঁদের গহনা কেমন ছিল। আর ছবিটা মৈমনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে, তাই আমাকে পুরো ছবিতে ময়মনসিংহের ভাষায় কথা বলতে হয়েছে। আমি রংপুরের মেয়ে, ময়মনসিংহের ভাষা রপ্ত করতে আমাকে বেশ কসরত করতে হয়েছে।’

এমন বিষয় নিয়ে ছবির নির্মাণের কৃতিত্বের পুরোটা রাশেদকে দিতে চান দোয়েল। বলেন, ‘ছবিটা ভালো টিমওয়ার্কের ফসল। আসলে রাশেদ ভাইয়েরই সব ক্রেডিট, কারণ তিনিই টিম লিডার। উনার এত জানাশোনা, ডেডিকেশন বা প্যাশন ছিল বলেই আমরা সবাই কাজটা করতে পেরেছি।’

চন্দ্রাবতীর জন্মস্থান কিশোরগঞ্জ ছাড়াও ময়মনসিংহ, নেত্রকোনায় বিভিন্ন ঋতুতে শুটিং হয়েছে। পোস্ট প্রডাকশনের কাজ হয়েছে ভারতে। সংগীত পরিচালনা করেছেন কলকাতার সাত্যকি ব্যানার্জি। ২০১৫ সালে সরকারি অনুদান পায় ছবিটি। মুক্তি পেতে এত সময় লাগার কারণ বললেন দোয়েল, ‘ছবিটি পিরিওডিক্যাল। পরিচালক ধরে ধরে সময় নিয়ে করতে চেয়েছেন। শুটিংয়ের জন্য গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতকাল দরকার ছিল। হিসাব মিলিয়ে শুটিং শেষ করতে করতে করোনা চলে এলো। দুই বছর আগে কলকাতা উৎসবে প্রিমিয়ার হয়, এরপর বাংলাদেশের সেন্সরে আটকে ছিল এক বছর। যদিও পরে আনকাট সেন্সর পেয়েছে।’

দোয়েলের সঙ্গে ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরো অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, গাজী রাকায়েত, ইমতিয়াজ বর্ষণ, আরমান পারভেজ মুরাদ, কাজী নওশাবা আহমেদ ও মিতা রহমান।

এই ছবির পর দোয়েলের মুক্তির অপেক্ষায় আছে নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। তানিম পারভেজের ওয়েব সিরিজ ‘সিক্স’-এও দেখা যাবে তাঁকে।



সাতদিনের সেরা