kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নবমীতে দশমীর আলাপ

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নবমীতে দশমীর আলাপ

চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ নবমী কাল দশমী। এবার পূজায় কে কী করছেন? জানিয়েছেন শোবিজের চার বাসিন্দা

 

‘বিল্ডিংভিত্তিক’ হয়ে আছি

বাপ্পা মজুমদার গায়ক-সুরকার

পূজা এলে আমার সময়টা খারাপ যায়। আসলে মা চলে যাওয়ার পর প্রতি পূজায় আমার এই অবস্থা হয়। কোনো কিছুই উপভোগ করতে পারি না। কিছু করতে বা খেতে ইচ্ছা হয় না। মাকে খুব করে মনে পড়ে। পূজা মানেই তো মা। শৈশবের পূজাগুলোও খুব মিস করি। বাড়িতে বড় আয়োজন করতেন মা-বাব। হিন্দু-মুসলিম সব ভাই-বন্ধু পরিচিতরা আসতেন। কাউকে বলতে হতো না যে পূজায় আমাদের বাড়িতে আসবেন। আমাদের বাড়িতে আসতেই হতো, এটাই ছিল নিয়ম। সেই সৌহার্দ্য এখন আর নেই। আমরা ক্রমাগত রুমে বন্দি হয়ে যাচ্ছি, ‘বিল্ডিংভিত্তিক’ হয়ে আছি। গানে আমার ভালোই ব্যস্ততা যাচ্ছে এখন। নারী শিল্পীদের নিয়ে একটা গানের প্রজেক্ট করছি। সেগুলোর ভিডিওর কাজ করছি। ছবির গানেরও কাজ আছে। নবমীতে না হোক দশমীতে হলেও একবার পূজামণ্ডপে যাব। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়েও বারবার শৈশবের সময়টা মিস করব।

 

দশমীতে উল্লাসটা একটু বেশিই

মৌটুসী বিশ্বাস অভিনেত্রী

দুই দিন হলো খুলনায় বাবার বাড়ি এসেছি পূজা উদযাপন করতে। এসে পরদিন সকালেই মণ্ডপে গেলাম। বাড়ির পাশেই মন্দিরে বড় আয়োজনে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। আমার মেয়ে তো নেচে-গেয়ে অস্থির! পূজায় প্রতিবছর হয় ঢাকায় থাকি, নয়তো গ্রামের বাড়ি আসি। এবার ঢাকার মণ্ডপেও গেছি, আবার হুট করে গ্রামে চলে এলাম। গ্রামের পূজা এক রকম হয়, শহরের পূজা অন্য রকম। গ্রামে সব পরিচিত মুখ। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়, এটা অন্য রকম ভালো লাগার দিক। দশমীর দিন সিঁদুর খেলা হয়। মা দুর্গা দশমীতে ফিরে যাবেন তাই উল্লাস আয়োজনটা অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি হয়। মাটি দিয়ে তৈরি হয় মায়ের মূর্তি। আবার পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। মাটিতেও মিশে যায়। এটা আমার কাছে খুব ইন্টেরেস্টিং লাগে। মহালয়া থেকে তো অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। দশমীর দিন মা দুর্গার বিজয় হয়। সেদিন তিনি বধ করেন অসুরকে। দশ দিন একটা লম্বা যুদ্ধের শেষে বিজয়, সে জন্যই বিজয়া। আমরা এভাবে সেলিব্রেট করি যে এই দশ দিনের যুদ্ধের সময় মা বাপের বাড়ি মর্ত্যলোকে আসেন, দশ দিন যুদ্ধ করেন। বিজয়া উদযাপনের পর তিনি ফিরে যান কৈলাসে। তাই দশমীটা আমাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ।

 

আমাকে দেখতেও আসছেন

বিদ্যা সিনহা মিম মডেল-অভিনেত্রী

সব ধরনের শুটিং থেকে বিরতি নিয়ে ১০ অক্টোবর রাজশাহী এসেছি। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি, এর চেয়ে সুন্দর সময় তো আর হতে পারে না। সারা দিনই ব্যস্ত এখানে। গণমাধ্যমকর্মীরা ফোন করছেন বারবার, রিসিভ করার সময়ও পাচ্ছি না। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আমাকে দেখতেও আসছেন। তাঁদেরও সময় দিতে হচ্ছে। রাজশাহীতে আমার দাদা ও নানাবাড়ি। পূজায় এখানে আসতেই হয়। আমাদের বাড়িতেই বড় আয়োজনে পূজা হচ্ছে। আশপাশের মণ্ডপেও যেতাম আগে। যেভাবে মানুষ ভিড় করছেন আমাদের মণ্ডপে, জানি না এবার অন্য মণ্ডপে যেতে পারব কি না। কাল দশমীর মহাযজ্ঞ। মাকে বিসর্জন দিতে হবে। খুব ধকল যাবে। দশমীর পরপরই ভারতে যাব। অক্টোবর শেষ হওয়ার আগেই ফিরব। মা-বাবার চেক আপ করাব, তাঁদের নিয়ে ঘুরবও। 

 

মণ্ডপে বাজছে নিজের গান

সিঁথি সাহা গায়িকা

এবার পূজায় প্রকাশ পেয়েছে আমার গানচিত্র ‘গড়েছি মা’। উৎসবের আমেজে নির্মিত হয়েছে গানচিত্রটি। প্রকাশের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে বাজছে গানটি। মণ্ডপ ঘুরে ঘুরে খেয়াল করলাম অনেকেই আমার গানের তালে তালে নাচছেন, বিষয়টা ভালোই লাগছে। এবার পূজায় তাই একটা অন্য রকম উদ্দীপনা পাচ্ছি। প্রতিবছর পূজায় সিরাজগঞ্জ আসি। পরিবারের সদস্যরা আগেই এসেছেন, ব্যস্ততার কারণে আমি এসেছি ১২ অক্টোবর বিকেলে। আমাদের বাড়ির দুর্গাপূজার নামডাক বেশ। আমার দাদুর দাদু তাঁরও দাদু আগে থেকে এই আয়োজন করে আসছেন। নিজেদের বাড়িতে পূজা, তাই সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। দশমীতে সেই ব্যস্ততা আরো বেড়ে যাবে। মাকে বিদায় দিয়ে তবেই হব শান্ত।



সাতদিনের সেরা