kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চলচ্চিত্র

আবার অভিনয়ে ব্যস্ত হয়েছেন মৌসুমী। হাতে আছে নতুন তিনটি ছবি। গাজীপুরে শুটিং ইউনিটে বসে মুঠোফোনে সুদীপ কুমার দীপকে বললেন চলচ্চিত্র, শিল্পী সমিতির রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয়ে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চলচ্চিত্র

চারপাশে আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

আপনি কি শুটিংয়ে?

হ্যাঁ, গাজীপুর এসেছি। জাহিদ হোসেনের ‘সোনার চর’ ছবির শুটিং করছি এখানে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গল্প, সেভাবেই সেট নির্মাণ করা হয়েছে। আমি এখানে গ্রামের এক খেটে খাওয়া নারী। যুদ্ধকালীন অসহায় মানুষদের সেবা করি।

 

ভাঙন নামে একটি সরকারি অনুদানের ছবির শুটিংও তো করেছেন...

গত সপ্তাহে ছবিটির প্রথম লটের শুটিং করেছি। পরিচালক মির্জা সাখাওয়াতের এই ছবির গল্পও মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। আমি চুড়ি-ফিতা বিক্রেতার চরিত্র করছি, যার সারা জীবন কেটেছে রেলস্টেশনে। দারুণ গল্প ও চরিত্র, নিজের অভিনয় প্রতিভা দেখানোর দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছি।

 

কবি নির্মলেন্দু গুণের উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানের ছবি দেশান্তর-এর আপডেট কী?

এরই মধ্যে পাণ্ডুলিপি হাতে পেয়েছি, সেটি পড়েছিও। এটিও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গল্প। ‘সোনার চর’ ও ‘ভাঙন’ ছবির পরপরই ‘দেশান্তর’-এর শুটিং শুরু হবে। আশুতোষ সুজন ছবিটি পরিচালনা করবেন।  

 

তিনটি ছবির বিষয়বস্তুই মুক্তিযুদ্ধ। চরিত্রে রূপদান করতে সমস্যা হবে না!

তিনটি ছবির প্রেক্ষাপট এক হলেও আমার চরিত্রগুলো ভিন্ন ধরনের। কাছাকাছি সময়ে শুটিং হলেও চরিত্রগুলো নিয়ে আমি যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনা করেছি। পর্দায় সেটা ফুটিয়ে তুলতে পারলে সমস্যা হওয়ার কথা না।

 

বাণিজ্যিক ছবির চেয়ে এখন গল্পনির্ভর ছবিই বেশি করছেন...

আমি সব সময় ভিন্ন ধারার গল্পে কাজ করতে চেয়েছি। ‘সোনার চর’ ছবির পরিচালক জাহিদ হোসেন ভাইয়ের ‘মাতৃত্ব’ ছবিতে অভিনয় করেছিলাম দেড় যুগ আগে। তখন তো নাচ-গানের বাণিজ্যিক ছবি করেছি নিয়মিত। জাহিদ ভাইয়ের প্রস্তাব পেয়ে এককথাতেই রাজি হয়েছিলাম। ব্যবসা করবে কি করবে না, তখনো এসব বিবেচনায় আনিনি।

 

সোনার চর ছবির সেটে জায়েদ খানের সঙ্গে আপনার আর ওমর সানীর কিছু ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। অনেকে বলছেন জায়েদের সঙ্গে আপনার দূরত্ব কমেছে...

জায়েদের সঙ্গে আমার কখনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। ছবিটি ‘সোনার চর’-এর শুটিংয়ে তোলা হয়েছিল। আমরা চলচ্চিত্রের মানুষ, সবাই মিলে একটা পরিবার। এখানে সামান্য কোনো বিষয় নিয়ে বিবাদ হওয়ার কথাই নয়। তা ছাড়া আমিও সব সময় চেষ্টা করি কারো মনে আঘাত না দিয়ে চলার।

 

এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেবেন?

এখনই কিছু বলতে চাই না। তফসিল ঘোষণার পর দেখা যাবে। আমি সব সময় শিল্পীদের পাশে ছিলাম। আগামীতেও থাকব। আর শিল্পী সমিতি একটা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এখানকার নির্বাচন নিয়ে অতটা মাথা ঘামানো অনর্থক। নির্বাচিত না হয়েও শিল্পীদের সেবা করা যায়!

 

সম্প্রতি একটি পাক্ষিক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। কেমন উপভোগ করছেন?

সাংবাদিকতা পেশার প্রতি আমার দুর্বলতা বহুদিনের। যখন পত্রিকাটির জন্য কাজ করার প্রস্তাব পেলাম, সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম। যদিও খুব চ্যালেঞ্জিং কাজ, তার পরও উপভোগ করছি। অফিসের সহকর্মীরাও আমাকে সহযোগিতা করছেন। শুটিংয়ে থাকলেও জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে মতামত দিই।

 

আপনার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন...

একসঙ্গে দুটি ছবি করব ‘কপোতাক্ষ চলচ্চিত্র’ থেকে। ‘বাঘিনী’ আমিই পরিচালনা করব। অন্যটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি, পরিচালনা করবেন কামরুজ্জামান রোমান। করোনার কারণে প্রায় দুই বছর পিছিয়ে গেছি। ডিসেম্বরে শুটিং করব। 

 

তিন দশকের অভিজ্ঞতায় চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন মনে করছেন?

খুব খারাপ সময় পার করেছি। এখন আবার চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সরকারও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। করপোরেট হাউসগুলোও ছবিতে লগ্নি করছে। নতুন বেশ কিছু শিল্পীও তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি আশাবাদী। আগামী দুই বছরের মধ্যেই ভালো একটা সময় দেখতে পাব।



সাতদিনের সেরা