kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আধখানা অর্ণব আধা আবরার

শায়ান চৌধুরী অর্ণবকে নিয়ে ৭০ মিনিটের মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র ‘আধখানা ভালো ছেলে আধা মস্তান’ বানিয়েছেন আবরার আতহার। ‘চরকি’তে আজ মুক্তি পাবে ছবিটি। অর্ণব-আবরারের কথা শুনেছেন ইসমাত মুমু

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আধখানা অর্ণব আধা আবরার

অর্ণব ও আবরারের মা পুরনো বন্ধু। আবরারের স্ত্রী আনিরের সঙ্গে আবার অর্ণবের বন্ধুত্বটা সেই পিচ্চিকাল থেকে। সম্পর্কে আনুশেহ আনাদিল আনিরের খালাতো বোন। অর্ণব-আনুশেহ-আনির—তিনজনই বড় হয়েছেন একই সঙ্গে। আবরার ড্রামস বাজাতেন। অর্ণবের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বও বহুদিনের। এভাবেই ঘুরেফিরে অর্ণব ও আবরারের চেনাজানা শৈশব-কৈশোরের পুরোটা জুড়ে। অনেকবারই আবরারের মাথায় এসেছে, অর্ণবকে নিয়ে কিছু একটা বানাবেন। অর্ণবের ব্যাকস্টেজের গল্পগুলো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। যতটা হারিয়ে গেছেন, ‘জরুরি খবর’ হয়েছেন খুব কম। শ্রোতারাই বরং তাঁর গানের অপেক্ষায় বসে থেকে অভিমান করেছেন। আবরার যেন সেই অভিমান ভাঙানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। আবরার নির্মাতা, সেলুলয়েডেই বাঁধবেন গল্প। চেনাবেন এক নতুন অর্ণবকে। খ্যাতি আর অর্থকড়ির পেছনে না ছুটে একটু আড়ালের অর্ণবকে দেখানোর তাগিদও অনুভব করেছেন।

‘সে আমার বন্ধু, বড় ভাই। তাকে অনেক দিন থেকে চিনি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে তার আধখানা জানি, চেষ্টা করেছি বাকিটাও জানতে। অর্ণবের মতো কমপ্লিট একজন মিউজিশিয়ানকে নিজে যেমন জানতে চেয়েছি তেমনি অনেকেই জানতে চায় বলে আমার মনে হয়েছে’, বললেন আবরার।

অর্ণবের ‘আধখানা’ গানের লাইন থেকেই ‘আধখানা ভালো ছেলে আধা মস্তান’ নামটি বাছাই করেছেন আবরার। গত বছর লকডাউনে শান্তিনিকেতনে ছিলেন অর্ণব। তখনই আবরারের ফোন। ‘ও বললো চলো একটা ফিল্ম বানাই। আমরা কোথাও যাব, সেখানে গিয়ে তোমার ফ্রেন্ডদের সঙ্গে জ্যাম করলাম। সেটা আমি রেকর্ড করব। তোমার গানগুলো নিয়ে কথাবার্তা হবে। আমারও তখন মনে হলো, সত্যিই তো আমার প্রপার ডকুমেন্টেশন তো কোথাও নেই। প্রপারলি একটা জায়গায় গানগুলোও নেই। গানগুলোর অনেক গল্প বলাও হয়নি। রাজি হলাম’, বললেন অর্ণব।

এটাকে কি ডকুমেন্টারি বলা যাবে? অর্ণব বলেন, ‘না, মিউজিক্যাল ফিল্ম বলতে চাচ্ছি। আমি যে সময়ে দাঁড়িয়ে আছি কী ভাবছি, কিভাবে সময় কাটাচ্ছি, আমার পরিবেশটা কী, ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো কেমন, আমার হ্যাপিনেস, গানগুলোর সঙ্গে কিভাবে নিজেকে রিলেট করি...এসব আমার জায়গা থেকে আমি বলেছি। আবরারও ওর অ্যাঙ্গেল থেকে আমাকে খোঁজার চেষ্টা করেছে। ও আমাকে কিভাবে ভেবেছে, এত দিন ধরে কিভাবে দেখেছে...এসব।’

এখানে ফিকশনাল কিছু নেই, তবে কি এটা বায়োপিক? ‘কোনোভাবেই না’, একসঙ্গেই বললেন দুজন। আবরার বলেন, ‘এটা একটা ফিলোসফিক্যাল জার্নি। অর্ণব আর আমার মধ্যে যে ডুয়ালিটি আছে, সেটাও বলা হয়েছে। আমরা কিন্তু আধখানা ভালো আধা মস্তান। এই ডুয়ালিটি কিভাবে একটা আর্টিস্টের ভেতর কাজ করে সেটাই আমরা এক্সপ্লোর করেছি। গসিপ ছাড়া সব আছে এখানে। ওকে নিয়ে অনেকের অবচেতন মনে যেসব প্রশ্ন তার অনেক উত্তরই আছে। অর্ণবের মা, বাবা, অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের সদস্যরাও থাকবেন নানা ধাপে।’

অর্ণবকে নিয়ে বলতে গেলে শান্তিনিকেতন আসবেই। তবে সেখানে শুটিং হয়নি ছবিটির। কথায় কথায় সেই গল্পও আসবে। ছবিতে কী আছে তা আগেই বলবেন না দুজনের কেউই। অর্ণব চান দর্শক ছবিটা দেখুক, ‘দেখলে মানুষ বুঝবে, মিউজিশিয়ান হয়ে উঠতে গেলে একটা স্ট্রাগল লাগে। কিছু বাধা নিজের কারণেও তৈরি হয়। গান থেকে বারবার সরে যাচ্ছিলাম, সেসবও থাকবে। যেমন আমার একটা স্টুডিও ছিল তখন মনে হয়েছে এটা মেইনটেন করা সম্ভব হচ্ছে না। সেখান থেকে ছুট দিলাম। এই বর্ণনাও আছে ছবিতে।’

ছবিতে অনেক পুরনো গান ব্যবহার হয়েছে, তবে নতুন সংগীতায়োজনে। গানগুলো বেশির ভাগ অর্ণবের সলো অ্যালবামের। তখন একাই মিউজিক করেছিলেন। এখানে অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের সবাই ইনপুট দিয়েছে। অর্ণব বলেন, “প্রথম যখন ‘সে যে বসে আছে’ তৈরি করলাম তখন এক রকম বয়স ছিল। এত বছর পর অনুভূতি বদলেছে। এখন নতুন করে কিভাবে আমরা ইমাজিন করি গানটাকে, সেভাবেই করেছি।”

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় শুটিং হয়েছে ছবিটির। শুটিং করতে গিয়ে এক অন্য রকম উপলব্ধি হয়েছে আবরারের, ‘অর্ণবকে নিয়ে কক্সবাজারে শুটিং করেছি, পাবলিকের খুব একটা ভিড় ছিল না। আমরা যখন বিজ্ঞাপন বানাই তখন আজকালকার অনেককেই কাস্ট করি। উৎসাহী মানুষ ভিড় করে আমাদের পাগল করে দেয়। কিন্তু অর্ণবের ব্যাপারটি অবাক করে দিল! অর্ণব অনেক বড় কিছু, নতুন জেনারেশনের তাঁর সম্পর্কে জানা ও বোঝা উচিত। এই জায়গা থেকেও ফিল্মটা বানানো দরকার ছিল। কারণ অর্ণব একটা জেনারেশনকে ডিফাইন করে।’

অর্ণব অবশ্য ব্যাপারটি দেখেন অন্যভাবে, ‘এটা কিন্তু একদিক দিয়ে ভালোও। আমি আসলে চাইও না সবাই আমার গান শুনুক বা সবার শুনতে হবে। তাহলে আমার ওপর একটা প্রেসার পড়বে। আমি নিজে যেটা চাই সেটা বলতে পারব না। তখন সবার মন জয় করে গাইতে হবে। একটা শ্রেণি আছে, যারা আমার ওপর বিশ্বাস রাখে, আমি যা বানাই তাতেই সন্তুষ্ট হয়। তারা আমার সলিড লিসেনার। যেটুকু শোনে মন দিয়ে শোনে। আমার ফ্যানসংখ্যা যদিও কম, কিন্তু সবাই ডেডিকেটেড। আমার গান নিজের করে নিতে সময় লাগে শ্রোতার। একবার যদি নিজের করে নেয় গানটা থেকে যায়। আমার কখনো মনে হয়নি অনেক বড় হতে হবে, এটা করতে হবে, ওভাবে জনপ্রিয় হতে হবে। আমি যেটা পারি সেটা নিয়ে সামনে আসতে অসুবিধা নেই। যেটা পারি না সেটা নিয়ে সামনে আসতে চাইও না। আমি ছবি আঁকতে পারি, গান গাইতে পারি। সামনে আসতে হলে এগুলো ছাড়াও অনেক কিছু করতে হয়। মানুষকে এন্টারটেইন করতে হয় নানাভাবে। সেটা কোনো দিনই হবে না আমাকে দিয়ে।’

অনেক দিন ধরেই অর্ণব ভাবছেন ব্যান্ডের একটা অ্যালবাম করা উচিত। ‘অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর অ্যালবাম বের হয়েছিল সেই ১০ বছর আগে। তার পরও গান রেকর্ড হয়েছে, কিন্তু প্রকাশ করেনি দলটি। নতুন অ্যালবামে সেসব গান থাকবে। ছবিটা প্রকাশের কিছুদিন পরে বের হবে অ্যালবামটি। এ সময়ে সবাই যেখানে বের করছে সিঙ্গলস, অর্ণব করবেন অ্যালবাম? ‘হ্যাঁ। কারণ একসঙ্গে অনেক দিন অনেকগুলো গান বের হওয়ার রেওয়াজ বন্ধ হয়ে গেছে। আগে একটা অ্যালবামে একটা সময়ের মিউজিকের টাচ পাওয়া যেত। অনেকগুলো গানে ডিফাইন করা হতো। একটা গানে সেটা বোঝানো যায় না। অনেকগুলো গানে বোঝানো যায়।’

অর্ণবকে এখন রেকর্ডিং-কনসার্টে নিয়মিতই পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল তৈরি করছেন। সিনেমার কথাও চলছে।

 



সাতদিনের সেরা