kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মুম্বাইমুখী টলিউড এবং শূন্যস্থান পূরণ

ওটিটির উত্থান, পর্যাপ্ত কাজের অভাবসহ নানা কারণে ওপার বাংলার অনেক তারকাই এখন মুম্বাইমুখী। প্রায় কাছাকাছি কারণে টালিগঞ্জ ছুটছেন বাংলাদেশি তারকারা। লিখেছেন লতিফুল হক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুম্বাইমুখী টলিউড এবং শূন্যস্থান পূরণ

বিমল রায়, হৃষিকেশ মুখার্জি, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় থেকে কিশোর কুমার—বলিউডে বাঙালি পরিচালক, সংগীত পরিচালক, গায়কের ঐতিহ্য অনেক দিনের। তবে গেল দুই দশকে শুধু গায়ক ও সংগীত পরিচালক অরিজিৎ সিং ও প্রীতম চক্রবর্তী ছাড়া প্রথম সারির খুব বেশি বাঙালি প্রতিনিধি নেই। পরিচালক দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুরাগ বসু, সুজিত সরকার, প্রদীপ সরকার, সুজয় ঘোষরা থাকলেও বেশির ভাগই প্রবাসী বাঙালি। শেষ কয়েক বছর ধরে অবশ্য সমানে বাঙালি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কলকাতা ছেড়ে মুম্বাই পাড়ি জমাচ্ছেন। ওটিটির উত্থানে সেটা আরো বেড়েছে। কারণ এত এত প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রয়োজন নতুন মুখ। তাই অনেক প্রযোজক-পরিচালকই আঞ্চলিক অভিনেতাদের ওপর নির্ভর করছেন। গেল কয়েক বছরে বাংলা থেকে বলিউডে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও টোটা রায়চৌধুরী। ‘বরফি’, ‘পিকু’, ‘মণিকর্ণিকা’, ‘মর্দানি ২’, ‘শকুন্তলা’য় ছোট-বড় চরিত্র করার পর ‘অন্তিম’-এ খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে যীশুকে। যে ছবির নায়ক সালমান খান। এ ছাড়া যীশু ব্যাপক ব্যস্ত তেলেগু ছবি নিয়ে। গেল বছর সেখানে খল হিসেবে দুটি হিট ছবি [বিশমা ও অশ্বথামা] করার পর একে একে করেছেন ‘আচার্য’, ‘শ্যাম সিংগা রয়’ ইত্যাদি ছবি, হাতে আছে আরো কয়েকটি। নেটফ্লিক্স ও সনি লিভের দুটি ওয়েব সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেও ছিলেন। সর্বশেষ দেখা গেছে ‘থ্যালাইভি’তে। অ্যামাজনের নতুন সিরিজ ‘দ্য গার্ল’-এ যীশুর সঙ্গে আছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও। পরমও ‘কাহানি’র পর থেকে বলিউডে প্রচুর কাজ করছেন। গেল এক বছরে তাঁর ‘রামপ্রসাদ কি তেরভি’ সিনেমা আর ওয়েব সিরিজ ‘বুলবুল’ প্রশংসিত হয়েছে। এ ছাড়া আনুশকা শর্মার পরের প্রযোজিত ছবিসহ আরো অন্তত তিনটি নতুন হিন্দি প্রজেক্টে যুক্ত অভিনেতা। এ দুজনের মতোই ব্যস্ত স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’সহ হিন্দিতে বেশ কয়েকটি কাজ করলেও গেল বছর ‘পাতাললোক’ দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা পান। আনুশকা শর্মা প্রযোজিত নতুন সিরিজে দেখা যাবে তাঁকে। নেটফ্লিক্সের আরেকটি বড় বাজেটের সিরিজে যুক্ত তিনি। বলিউডে নিয়মিত কাজ করছেন টোটা রায়চৌধুরীও। সিনেমা-সিরিজ মিলিয়ে গেল এক বছরেই গোটা পাঁচেক কাজ করেছেন। এখন ব্যস্ত করণ জোহর প্রযোজিত নতুন ছবি নিয়ে। মুম্বাইতে কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বলিউডে এখন শারীরিক গঠন, নাচাগানা পেছনের সারিতে। বিষয়নির্ভর কাজ হচ্ছে। যার জন্য বাংলার খ্যাতি বরাবরই। তাই ঘুরেফিরে আমাদের ডাক আসছে।’ ‘কাহানি’খ্যাত শাশ্বতও নিয়মিত কাজ করছেন। ‘দিল বেচারা’র পর ‘ধড়ক’ করেছেন, আছে অনুরাগ কাশ্যপের নতুন ছবিও।

বলিউডে নিয়মিত কাজ করছেন বাঙালি পরিচালকরাও। ‘অন্তহীন’, ‘অপরাজিতা তুমি’খ্যাত অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী প্রথম হিন্দি ছবি ‘পিংক’ দিয়েই তাক লাগিয়ে দেন। এরপর আর বাংলা ছবি করেননি। সম্প্রতি ইয়ামি গৌতমকে নিয়ে করেছেন দ্বিতীয় হিন্দি ছবি। প্রথম হিন্দি প্রজেক্ট ‘বেগমজান’ ডাহা ফ্লপ করলেও ‘রে’ হিট হওয়ায় সৃজিত আছেন ছন্দে। তাপসী পান্নুকে নিয়ে করছেন ‘সাবাস মিঠু’। বিরসা দাশগুপ্ত, দেবালয় ভট্টাচার্যও বড় স্ট্রিমিং সাইটের জন্য কাজ করছেন। সম্প্রতি টলিউড শিল্পী-কলাকুশলীদের বলিউডযাত্রা নতুন মাত্রা পেয়েছে প্রযোজক মহেন্দ্র সোনির টুইটের পর, ‘পুরো টলিউড মুম্বাই চলে যাচ্ছে...ভাবছি আমরাও শিফট করি।’ শোনা যাচ্ছে সোনির শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস হিন্দিতে কাজের কথা ভাবছে।

যীশু, পরম ছাড়াও সম্প্রতি বলিউড ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ওপার বাংলার অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রুক্মিণী মৈত্র, চূর্ণী গাঙ্গুলিরা। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিম বাংলার ছবিতে তৈরি হয়েছে তারকা-সংকট। সে জায়গা সম্ভবত নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। ২০১৩ সালে ওপার বাংলায় ‘আবর্ত’ মুক্তির পর জয়া আহসানের ১৩টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। তাঁর অসাধারণ সব কাজ অন্য বাংলাদেশিদের পথ তৈরি করে দিয়েছে। মুম্বাইমুখী টলিউডযাত্রা সে পথকে করেছে আরো ত্বরান্বিত। মাস দু-একের মধ্যে কলকাতার চারটি ছবিতে যুক্ত হয়েছেন মিথিলা। ‘বিবাহ অভিযান’-এর পর কলকাতার আরো দুই ছবিতে আছেন নুসরাত ফারিয়া [ভয় ও বিবাহ অভিযান ২]। ওপারে কাজ করেছেন শাকিব খান, বিদ্যা সিনহা মিম, জ্যোতিকা জ্যোতি, সোহানা সাবাও। অঞ্জন দত্তের নতুন সিরিজ করবেন চঞ্চল চৌধুরী। কভিডের কারণে দীর্ঘদিন ভারত-বাংলাদেশে সীমান্ত ও বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। না হলে হয়তো আরো বাংলাদেশি অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ওপার বাংলার সিনেমায় দেখা যেত। ‘হইচই’তে বাংলাদেশি সিরিজের জনপ্রিয়তাও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে। পরিচালক শামীম আহমেদ রনিও টালিগঞ্জের স্থানীয় চারটি ছবি পরিচালনা করছেন। প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, দেব, বনি, কৌশানীরা অভিনয় করছেন তাঁর ছবিতে।



সাতদিনের সেরা