kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মন খারাপের দিন

‘অন্তর্জাল’-এর শুটিং পিছিয়ে গেল। এর মধ্যেই প্রিয় পোষা বিড়াল বার্বিকে হারালেন। বিদ্যা সিনহা মিমের মন খারাপের কারণ আছে আরো। লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মন খারাপের দিন

বিদ্যা সিনহা মিম। ছবি : রাফক্লিক

মঙ্গলবার দুপুর। একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং ইউনিটে আছেন মিম। চারপাশে অনেক মানুষ, এত ভিড়েও তিনি একা। মনটা তাঁর বিষণ্ন, বিভিন্ন তার কারণ। এ সপ্তাহেই করে এসেছেন ‘অন্তর্জাল’-এর শুটিং। বুধবার থেকে হওয়ার কথা ছিল দীপংকর দীপনের এই ছবির পরের লটের শুটিং। সে হিসেবে আজ তাঁর থাকার কথা ছিল ছবিটির শুটিংয়ে। সোমবার রাতে খবর পেলেন ছবির কলাকুশলীদের প্রায় সবাই অসুস্থ। তাই শুটিং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। ‘জ্বর-ঠাণ্ডা এসব কারণেই অসুস্থ হয়েছে যতটকু শুনলাম। এখনো জানি না ফের কবে শিডিউল পড়বে। আমার মোটামুটি ৭০ শতাংশ শুটিং শেষ। এই লটটা হলে আমার ৯৫ শতাংশের মতো শুটিং শেষ হওয়ার কথা ছিল।’

মিমের মন খারাপের বড় কারণ বার্বি [পোষা বিড়াল]। সোমবার না ফেরার দেশে চলে গেল চার মাস বয়সী বার্বি। ‘আমরা বাসায় ছিলাম না। আমার সহকারী ওকে খাওয়াতে গিয়ে একটু জোর করে, অসাবধানতাবশত মাথায় আঘাত লাগে। এতেই ওর ফুল বডি প্যারালাইজড হয়ে গেছে। চোখ আর মুখ ছাড়া শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ কাজ করছিল না। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছি, তিনি চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু...। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তারপর হার মেনেছে বার্বি। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আমার। এত্ত আদুরে ছিল বার্বি’, বললেন মিম।

জোজো ও ক্যান্ডি নামে আরো দুটি পোষ্য আছে মিমের। প্রথমটি কুকুর, দ্বিতীয়টি বিড়াল। মিমের অবসরের একটা বড় সময় কাটে এদের সঙ্গেই। সময় পেলেই ওদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন। এসব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন তিনি। সেখান থেকে মজার ছবিগুলো ভক্ত-দর্শকের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ইনস্টাগ্রামে নতুন একটি আইডিও খুলেছেন মিম। এখানে মিমের কাজ ও ব্যক্তিগত কোনো ছবি নেই, আছে শুধু তাঁর পোষ্য কুকুর-বিড়ালের ছবি। মিম বলেন, ‘তাকাতে বললেই ওরা ক্যামেরার দিকে তাকায়। আমি নিজেই তাদের ছবি তুলি। আমার সঙ্গের ছবিগুলো মা এবং আমার সহকারী তুলে দেন।’

ইনস্টাগ্রামে ওদের জন্য আইডি খোলার আইডিয়াটা দিয়েছে মিমের ছোট বোন প্রজ্ঞা সিনহা মমি। পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আছেন প্রজ্ঞা।

মিমের মন খারাপের গল্প আছে আরো। বলিউডের অফার পেয়েও কাজ করা হলো না। ‘মকবুল’, ‘ইশকিয়া’, ‘কামিনে’, ‘হায়দার’, ‘ওমকারা’খ্যাত বিশাল ভরদ্বাজের ওয়েব ছবি ‘খুফিয়া’য় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন, যদিও পরে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো তাঁকে। চরিত্র পছন্দ হলেও পুরো গল্প পড়ে ছবিটিতে অভিনয় করতে রাজি হননি তিনি। তাঁর মতে গল্পে বাংলাদেশের রাজনীতি ও আরো কিছু বিষয় সঠিকভাবে আসেনি। বিশাল ভরদ্বাজের মতো পরিচালককে ‘না’ বলার দুঃখবোধ অনেক দিন থাকবে মিমের, ‘প্রথমবার বলিউডের ছবির প্রস্তাব পেয়ে ফিরিয়েছি, খারাপ তো লাগবেই। বলিউডে কাজ করতে কে না চায়! জুতসই প্রস্তাবের অপেক্ষায় থাকব।’

বলিউড না হোক, টালিগঞ্জে নিয়মিত সিনেমা করার সুযোগ আছে মিমের। কিন্তু মিম সেভাবে চান না, ‘ওরা চায় পুরো সময়টা যেন ওখানে দেই। কিন্তু আমি তো বাংলাদেশের ছবিকে প্রাধান্য দিতে চাই। মাঝেমধ্যে ওখানে ছবি করতে পারি, তবে একেবারে সেখানে গিয়ে উঠতে চাই না।’

মিম অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র মুক্তির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। একটি ‘পরাণ’, অন্যটি ‘দামাল’। আটকে আছে ‘ইত্তেফাক’ ছবির শুটিং। তিনটিরই পরিচালক রায়হান রাফি। নতুন দুটি ছবি ও ওয়েব সিরিজের প্রস্তাব আছে, এখনো চুক্তি করেননি।

লকডাউনে ওজন বেড়ে ৫৬ থেকে ৬৫ কেজি হয়ে গিয়েছিলেন। শুটিংয়ে ফেরার আগে আগে ফের ১০ কেজির মতো ওজন কমিয়েছেন। শুটিং থাকলেও প্রতিদিন এক ঘণ্টা সময় তিনি শরীরচর্চায় ব্যয় করেন।



সাতদিনের সেরা