kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

কেমন হলো টিভি-ওয়েবের ঈদ

বিগত কয়েক বছরের ঈদ আয়োজনের প্রশংসিত নাটক-টেলিফিল্মের বেশির ভাগেরই নির্মাতা আশফাক নিপুণ ও শাফায়েত মনসুর রানা। কাকতালীয়ভাবে এবার টিভি ও ওয়েবের ঈদ আয়োজনে দুজনই ছিলেন অনুপস্থিত। রঙের মেলার আহ্বানে তাঁরা বনে গেলেন দর্শক। যা দেখেছেন টিভিতে-ওয়েবে, মন খুলে লিখেছেন

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



কেমন হলো টিভি-ওয়েবের ঈদ

‘চিরকাল আজ’-এ আফরান নিশো

নিপুণের চোখে সেরা ৫

আমার নির্মাণ জীবনের ১২ বছরে এই প্রথম দুই ঈদে টেলিভিশনে আমি অনুপস্থিত। ঈদুল ফিতরে ব্যস্ত ছিলাম হইচইয়ের ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর-’এর পোস্ট প্রডাকশন নিয়ে। ঈদুল আজহার প্রায় এক মাস আগে ‘মহানগর’-এর স্ট্রিমিং হয়। পরিকল্পনা ছিল এই ঈদে কিছু কাজ করব, কিন্তু লকডাউন বাস্তবতায় সম্ভব হয়নি। তবে নিজের কাজ না থাকায় এবার ঈদে নির্ঝঞ্ঝাট ছিলাম, চেষ্টা করেছি পুরনো ও নতুন কলিগদের কিছু কাজ দেখার। ক্রমানুসার না করে ভালো লাগা অনেক কাজ থেকে পাঁচটি নিয়ে বলতে চাই।

 

ঊনলৌকিক সিরিজ

পাঁচটি শর্টফিল্ম নিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকির’ একটি অ্যান্থলজি সিরিজ। এরই মধ্যে দুটি শর্টফিল্ম রিলিজ হয়েছে—‘মরিবার হলো তার স্বাদ’ ও ‘ডোন্ট রাইট মি’। শিবব্রত বর্মণের লেখা গল্প ও রবিউল আলম রবির নির্মাণে শর্টফিল্ম দুটি মুক্তি পেয়েছে ঈদের আগেই। কিন্তু গল্প, বিষয়বৈচিত্র্য, অভিনয়, নির্মাণ ও আঙ্গিকে এই সিরিজের রেশ এখনো রয়ে গেছে আমার ভেতরে। ‘মরিবার হলো তার স্বাদ’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে মোস্তফা মনোয়ারের অভিনয় দুর্দান্ত। রবির পরিচালনায় ঢাকা শহরকে এক অন্যরূপে দেখতে পেলাম। এর স্ক্রিপ্টিং, গল্প বলার ভঙ্গি, এডিটিং, ডিআই—সব কিছুই আমাকে আন্তর্জাতিক মানের একটা অনুভূতি দিয়েছে। ‘ডোন্ট রাইট মি’-এর সুবাদে বহুদিন পর পাওয়া গেল অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরকে। অনেক অনেক দিন পর কেয়ারফুলি কেয়ারলেস অভিনয়ের স্বাদ পেলাম ওনার কল্যাণে। ডার্ক কমেডিটিতে প্রবীণ অভিনেতা নূরের সঙ্গে নবীন সোহেল মণ্ডলের পাল্লা দিয়ে অভিনয় চোখে লেগে থাকবে বহুদিন।

 

চিরকাল আজ

ভিকি জাহেদের রচনা ও পরিচালনায় ‘চিরকাল আজ’ ভালো লেগেছে মেহজাবীন ও আফরান নিশোর দুর্দান্ত অভিনয়ের কারণে। এত কমপ্লেক্স ক্যারেক্টারকে শরীরে ধারণ করে সাবলীল অভিনয় করে মেহজাবীন তাঁর অভিনয়জীবনের সেরা কাজের তালিকায় নিয়ে গেলেন ‘চিরকাল আজ’কে। অভিনেত্রী হিসেবে মেহজাবীনের বেড়ে ওঠা বলতে গেলে আমার চোখের সামনেই। সেই মেহজাবীন এই গল্পে আমাকে চমকে দিয়েছেন। সব সময় দেখেছি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র করার তীব্র ক্ষুধা তাঁর। সেই ক্ষুধা বহুবার উসকে দিয়েছি আমি, তবে এবার ভিকি জাহেদ সেটা এমনভাবে উসকে দেবেন, কাজটা দেখার আগে চিন্তাও করিনি। আফরান নিশোর কথা না বললেই নয়। সচরাচর অভিনেতারা ইনসিকিউরড হন। নিজের চরিত্র, গল্পে নিজের অবস্থান নিয়ে সারাক্ষণ খুঁতখুঁতে থাকেন এবং সেটা স্বাভাবিক। নিশো সেই বিরল অভিনেতাদের একজন, যিনি এই প্রভাব থেকে মুক্ত। এই গল্পেও তাঁর উদার প্রমাণ মেলে। মূল চরিত্রে মেহজাবীন থাকলেও বিন্দুমাত্র ইনসিকিউরড না হয়ে নিশো যেভাবে অভিনয় করে গেলেন পাশাপাশি; এই যুগলবন্দি যেকোনো দর্শকের চোখে তৃপ্তি দেবে। খুবই জটিল একটা বিষয়কে নির্মাণে জটিল না করে হৃদয় ছুঁতে পেরেছেন ভিকি। এটি অনেক বড় ব্যাপার। শুধু মনে হয়েছে, গানটি না থাকলেও খুব ক্ষতি হতো না।

 

আপন

কাজল আরেফিন অমি তরুণ দর্শকের কাছে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়। তাঁর ‘আপন’ দেখতে বসেছিলাম নিছক বিনোদনের জন্যই। কিন্তু খুবই প্রাসঙ্গিক এবং ম্যাচিওরড একটি বিষয়কে কত সহজভাবেই না উনি বলে গেলেন! আমি সব সময় বিশ্বাস করি শিল্পের কাজ হচ্ছে বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার সীমানাকে প্রসারিত করা। সমাজে যা যা ট্যাবু আছে সেটিকে প্রশ্ন করা, সেটিকে বারবার আঘাত করে ভেঙে দেওয়া। ‘আপন’ আমাদের বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার সে রকম একটি ট্যাবু নিয়ে বানানো, যেটি সচরাচর ড্রয়িংরুম মিডিয়ায় ঈদের মৌসুমে দেখে আমরা অভ্যস্ত নই। খুব সুন্দরভাবেই সেই বিষয়কে একেবারে আমাদের ড্রয়িংরুম, বেডরুম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন অমি, এটা খুবই প্রশংসনীয়।

 

জুজু

দীপ্ত টিভির ‘সাত দুগুণে চৌদ্দ’ শর্টফিল্ম সিরিজে সিজু শাহরিয়ারের চিত্রনাট্য ও নির্মাণে ‘জুজু’। আমার জানা মতে, নির্মাতার প্রথম কাজ এটি। এবং প্রথম কাজেই উনি চমকে দিয়েছেন আমাকে। অতিপ্রাকৃত গল্প খুব একটা দেখা যায় না আমাদের পর্দায়। কিন্তু সিজু তাঁর প্রথম নির্মাণেই এই অতিপ্রাকৃত কাজ দিয়ে প্রকৃতভাবেই ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন। অশোক ব্যাপারী একজন সিজনড অভিনেতা, তবে বহুদিন পর এ্যালেন শুভ্রর অভিনয় চোখে দাগ কাটল। অতিপ্রাকৃত গল্পে আবহসংগীতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিউজিক ডিরেক্টরকে ধন্যবাদ, তিনি হতাশ করেননি। সিজু শাহরিয়ারের পরের কাজের প্রতি আগ্রহ থাকল।

 

ইউটিউমার

আদনান আল রাজীব এই তল্লাটে আমার খুবই প্রিয় নির্মাতাদের একজন। বহুদিন পর তাঁকে পাওয়া গেল ওয়েব ছবি ‘ইউটিউমার’-এ। তাই আগ্রহও ছিল অনেক। ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে রাজনৈতিক গল্প, উপভোগও করেছি মন ভরে। আমাদের তরুণসমাজের একটি বিরাট অংশের যে উদ্দেশ্যহীন জীবনযাত্রা, লোভ আর কামনা—তার বড় একটি কারণ রাজনৈতিক। গত ৫০ বছরে আমাদের রাজনৈতিক অধঃপতন ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে সমাজব্যবস্থাকে। সমাজের একটি বড় অংশের তরুণ আর যুবা এই রাজনৈতিক সামাজিক অস্থিরতার স্বীকার। ‘ইউটিউমার’ তাই সময়ের প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি পলিটিক্যাল ফিল্ম, যার প্রভাব ভবিষ্যতে আরো প্রকটভাবে অনুভব করব আমরা। আদনানকে অভিনন্দন আমার সবচেয়ে প্রিয় জনরায় ছবি নির্মাণ করার জন্য এবং একটি ইমপর্ট্যান্ট পলিটিক্যাল ফিল্ম বানানোর জন্য।

 

কম কাজ হলেই ভালো

কলিগদের কাজ দেখা একই সঙ্গে আনন্দের এবং শিক্ষনীয়ও। কতগুলো নাটক-টেলিফিল্ম বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি দেখেছি গুনে সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারব না। ঈদে এত এত কাজ, সব তো দেখা সম্ভবও নয়! বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি কী দেখতে পারি। দেখতে বসে মনে হয়েছে এতগুলো প্রডাকশন থাকার কোনো দরকারই নেই। কম কাজ হলেই তার গুণগত মান ভালো হয়।

প্রথমেই বলব ১৪ জন নবীন নির্মাতাকে নিয়ে। মনোজ প্রামাণিকের তত্ত্বাবধানে প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল বানালেন ‘সাত দুগুণে চৌদ্দ’ সিরিজ। প্রযোজক বড় একটা রিস্ক নিয়েছেন এ জন্য অবশ্যই তিনি করতালি প্রাপ্য, সঙ্গে চ্যানেল দীপ্ত টিভিও। আমার মতে, এই ১৪টি কাজ ঈদের অন্য যেকোনো প্রডাকশনের চেয়ে অনেক গুণ এগিয়ে। কোনোটির সঙ্গে কোনোটির মিল নেই। যতজন অভিনয় করেছেন (পাসিং শটসহ), প্রতিটি ক্যারেক্টার সুপার লাইভ। আমি নিজে নির্মাতা, তাই ভালো করেই জানি পার্শ্ব চরিত্রগুলো মাঝে মাঝেই দুর্বল হয়ে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে এখানকার একটি প্রডাকশনেও এই দুর্বলতা পাইনি। সবার আগে বলব মেহেদী উল্লাহর গল্পে ইকবাল হাসান খানের ‘আনোয়ারা মনোয়ারা’র কথা। পারফেক্ট স্টোরি টেলিংয়ের পোয়েট্রি মনে হয়েছে এটিকে। এ ছাড়া ‘বিড়াল তপস্যা’, ‘জুজু’, ‘কাউয়া’সহ প্রতিটি শর্টফিল্মের নাম ধরে ধরে আলাদা বর্ণনা করতে ইচ্ছে করছে। প্রযোজক, মনোজ ও এই ১৪ নবীনকে লাল সালাম। যত্ন নিলে সামনে তাঁরা ভালো কিছু করবেন। আমি খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছি। অভিনয়ের দিক থেকেও কয়েকজনের নাম মেনশন করতে চাই। যেমন ‘আনোয়ারা মনোয়ারা’য় তাসনুভা তিশা ও খুশি আপা (শাহনাজ খুশি)। এখানে তিশা যে অন্ধের চরিত্রটি করেছে, তা খুবই বিশ্বাসযোগ্য। সে যে এত ভালো অভিনয় করে আমার জানা ছিল না। ‘বিড়াল তপস্যা’য় নেগেটিভ রোলে মাসুম বাশারকে খুবই ভালো লেগেছে। ‘কাউয়া’তে সোহেল মণ্ডল মেথড অ্যাক্টিংয়ের পরিশীলিত যে প্রদর্শনী দেখিয়েছেন সেটা অনবদ্য। মামুনুর রশীদ, এ্যালেন শুভ্র, অশোক ব্যাপারীসহ প্রত্যেকেই নতুনদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিনয় করেছেন। আমি আমার কথা বলতে পারি, সামনে প্রডাকশন বানালে এখানকার নতুন শিল্পী নেব। এখানে কোনো আহামরি স্টারকাস্ট নেই। প্রতিটি গল্পই স্টার। আশা করব টিভিতে প্রচার শেষে শর্টফিল্মগুলো যখন বায়োস্কোপে পাওয়া যাবে, তখন দর্শক যেন দেখে এবং এগুলো নিয়ে কথা বলে।

এর বাইরে ভিকি জাহেদের তিনটি কাজ দেখেছি। আলাদা করে বলব ‘চিরকাল আজ’-এর কথা। থ্রিল, ইমোশনের প্রপার কম্বিনেশন। একটি জায়গা আছে মেহজাবীন স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। নিশোর সঙ্গে তার লম্বা কাটের একটা শটে দেখা যায় কিছুক্ষণ পর পর সে ভুলে যাচ্ছে আবার মনে পড়ছে। এক্সপ্রেশন চেঞ্জ করে মেহজাবীন ও নিশো যে অভিনয়টা করেছে সেটা আমার দেখা অন্যতম সেরা দৃশ্য। নিশো আসলেই একজন ভালো অভিনেতা। সাবেরি আলমও দারুণ। মায়ের চরিত্রেও যে গল্পে ইমপ্যাক্ট তৈরি করা যায় সেটি তিনি দেখিয়েছেন। ‘কায়কোবাদ’, ‘পুনর্জন্ম’ও ভালো কাজ, গুড থ্রিলার। ভিকি আমার অনেক পছন্দের পরিচালক। সেখান থেকেই একটি কথা বলব, যখন একই আর্টিস্ট তার কাজে ঘুরেফিরে আসে তখন মজাটা নষ্ট হয়ে যায়। গল্পে যেহেতু দম আছে, সব জায়গায় একই শিল্পী না নিলেও চলে। হয়তো এটি তার কমফোর্ট জোন, কিন্তু দর্শক হিসেবে কথাটা বললাম। সব গল্পে নিশো, মেহজাবীন, তানজিন তিশা থাকলে সেটি কিন্তু দর্শকের একঘেয়েমির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তখন গল্পে দম থাকলেও মন টানে না।

এরপর বলতে পারি ‘অনাত্মীয় দম্পতি’র কথা। এখানে মোশাররফ করিম ও তারিন বাস্তবসম্মত অভিনয় করেছেন। গল্পের বিষয়বস্তুও ইমপ্রেসিভ। সোহেল হাসানের পরিচালনায় প্রেজেন্টেশনটাও রিয়ালিস্টিক।

মিজানুর রহমান আরিয়ানের কয়েকটি কাজের মধ্যে ‘যদি কোনোদিন’ বেশি ভালো লেগেছে। এখানে অপূর্বকে অনেক আন্ডারটোন, সফট একটা জায়গায় খুব সুন্দরভাবে পেয়েছি। তাঁর সংলাপ ডেলিভারি, এক্সপ্রেশনে পরিমিতবোধ নজর কেড়েছে। মেহজাবীনও ভালো তবে চোখে পড়ার মতো ছিলেন অপূর্ব। ‘হ্যালো শুনছেন’-এ তানজিন তিশাকে তার অন্য অনেক নাটকের চেয়ে আলাদা মনে হয়েছে। 

কাজল আরেফিন অমি যে ধরনের কাজ করে থাকেন তার বাইরের চেষ্টা ‘আপন’। অমি যেটি বলতে চেয়েছেন, সেটি অনেক বিশ্বাসযোগ্য লেগেছে। তারিক আনাম খানের চরিত্রটি বিয়ে করতে চায়। একবারও মনে হয়নি লোকটি এই বয়সে বিয়ে না করলেও তো পারে। তারিক ভাইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন নিশো। নিশো তাঁর হবু মা মনিরা মিঠুর সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলার সময়টা বেশ উপভোগ্য।

সঞ্জয় সমদ্দারের ‘শোকসভা’র কনসেপ্ট ভালো। কিন্তু কেন যেন প্রথম দিকে শোকসভা শব্দটা বারবার এসেছে এবং একটু বেশি কানে লেগেছে। একটা জীবিত মানুষের মূল্যায়ন আমরা হয়তো সেভাবে করি না, কিন্তু মৃত্যুর পর হা-হুতাশ করি। এটি নিয়েও যে আমরা একটি মুখোশ পরে থাকি, সেটি দেখিয়েছে নাটকে। এখানে আলাদা করে মনিরা মিঠুর অভিনয় নিয়ে বলব। উনার সংলাপ দরকার হয়নি। শিল্পী পাওয়ারফুল হলে অনেক সময় সংলাপ জরুরি হয় না। উনার স্বল্প সময়ের উপস্থিতি ও অভিনয় এই নাটকটির প্রাণ। মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘নিকষিত’ তাঁর অন্য কাজের চেয়ে আলাদা। এখানে স্ট্রং সংলাপ আছে, সংলাপ বিন্যাসও একটু আলাদা। সেতু আরিফের ‘হাসনাত ও বস’-এর গল্পটি বেশ ভালো। দুটি ভিন্ন শ্রেণির মানুষের সুখ-দুঃখের পাওয়া না পাওয়ার গল্প। ইরেশ যাকের ও রওনক দুজনই ভালো করেছেন। আদনান আল রাজীবের ওয়েব ফিল্ম ‘ইউটিউমার’-এর বিষয়বস্তু বেশ ভালো। তবে তাঁর কাছে এক্সপেকটেশন আরো বেশি। আমার ধারণা, আদনান নিজেও বিষয়টি জানেন। বায়োস্কোপের ‘বউ’ সিরিজে মৌটুসী বিশ্বাসের অভিনয়ও চোখে পড়ার মতো। এত এত ভালো কাজের মধ্যেও ‘ঘটনা সত্য’তে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, বিনোদন জগতের বাসিন্দা হিসেবে আমি এতে লজ্জিত, মর্মাহত। এই ঘটনা আমাদের বহু অর্জনকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, তেমনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে পুরো সিস্টেমটিকে।

টিভি চ্যানেলের কাছে বিনীত অনুরোধ, দয়া করে বিভিন্ন ধরনের গল্প বলায় উত্সাহিত করুন। নিশ্চয়ই প্রেম-ভালোবাসা ছাড়াও অনেক গল্প আছে চারপাশে।  সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে। দয়া করে সংখ্যা নয়, মানের ওপর জোর দিন। বিজনেস মডেল আপনাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। এই ভারসাম্যহীনতার কারণেই কিছু কনটেন্ট নিয়ে প্রশ্নবাণে পড়তে হয়, বিব্রত হতে হয়। পরিশেষে বলব, পৃথিবী সুন্দর হোক, বিনোদন জগতে মিথ্যা চাটুকারিতা লোপ পেয়ে আসুক সত্য সুন্দর আলো।

 



সাতদিনের সেরা