kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

এই মহানগরে মম

হইচইয়ে আশফাক নিপুণের ‘মহানগর’ মুক্তি পাবে কাল। ওয়েব সিরিজটিতে প্রথমবার নিপুণের সঙ্গে কাজ করলেন জাকিয়া বারী মম। এই সিরিজ ও অভিনেত্রীকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই মহানগরে মম

‘মহানগর’-এ কেন যুক্ত হলেন? গতানুগতিক উত্তরটাই দিলেন মম, ‘কারণ গল্পটা আলাদা।’  পরক্ষণেই ব্যাখ্যা করলেন, বললেন আরো কিছু কারণ, ‘প্রথমত এটির পরিচালক আশফাক নিপুণ। তাঁর কাজের প্রশংসা নিয়মিতই শুনি। নিজেও তাঁর কাজের নিয়মিত খোঁজখবর রাখি। প্রথমবারের মতো তাঁর কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে ভাবলাম, আর যা-ই হোক নতুন কিছু একটা হবে। গল্পটা শুনলাম, এরপর জানলাম কারা অভিনয় করবেন এখানে। আমার চরিত্রটা পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। এএসপি শাহানা হুদার চরিত্রে আমি। পুলিশ কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোনো চরিত্রের প্রতি বরাবরই আমার ফ্যাসিনেশন আছে। এই চরিত্রগুলো অনেক বেশি চরিত্র ফেস করে। কাজটি করেও বেশ আরাম পেয়েছি।’

এএসপি হওয়ার জন্য চুল কেটে ছোট করেছেন মম। পরিচালক অবশ্য তেমন কিছু বলেননি। চরিত্রটা জানার পর মমর মনে হলো, চুল কেটে ছোট করলে পর্দায় আরো বেশি মানানসই ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে। বললেন সহশিল্পীদের নিয়েও, ‘মোশাররফ করিম ভাই, শ্যামল মাওলা, ইমরান নূর, খায়রুল বাশার—তাঁরা প্রত্যেকেই পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করেন। এতটা দিন একটা পেশায় থাকার পরও কিভাবে নিজেকে আরো বেশি ইমপ্রুভ করা সম্ভব সারাক্ষণ সেটার পেছনে ছোটেন।’

“‘মহানগর’ সিরিজটির শুটিং হয়েছে রাতে। বিকেলে যেতে হতো। মেকআপসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে সন্ধ্যার পর শুটিং, চলত ভোর অবধি। দিনে বিশ্রামে থাকতাম। শুটিংয়ের পুরোটা সময়ই ভালো কেটেছে। মোশাররফ ভাই, শ্যামল, নিপুণ ভাই মিলে আড্ডা দিতাম। অভিনয় নিয়ে কথা বলতাম, জীবন নিয়ে কথা বলতাম। এমন সুযোগ জীবনে সব সময় আসে না। আমরা তরমুজও খেয়েছি পাল্লা দিয়ে। সারা রাত জেগে তরমুজ খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলত। শুটিংয়ের দিনগুলো ভোলার নয়”, বলেন মম।

রাতের এই ঢাকা মহানগরীর অনেক অন্ধকার গল্পই আমরা জানি। এর বাইরেও কিছু গল্প থাকে, সেগুলোই সিরিজে তুলে ধরেছেন আশফাক নিপুণ। এক রাতের সাত ঘণ্টার গল্প নিয়ে সিরিজের আটটি পর্ব।

বছর দুই আগেও অভিনয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের ব্যস্ত ছিলেন মম। ক্রমেই যেন ব্যস্ততা কমে যাচ্ছে। সেটা নাকি তিনি ইচ্ছে করেই করছেন। বলেন, ‘একটা সময় কিন্তু মনে প্রশ্ন আসেই, আমি আসলে কী করছি? একই চরিত্র কেন বারবার করব? একই ধরনের কাজ বারবার করতে চাই না বলেই কাজ কমাচ্ছি। এখন এমন কাজ করতে চাই যেটা আমাকে কষ্ট দেবে, ভাবাবে, কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দেবে। সেই চ্যালেঞ্জটাই নিতে চাই।’

চলতে চলতে থামতেও জানতে হয়, বিরতি নিতে হয়। মমর কাছে এই বিরতির গুরুত্ব আছে, “কিছু না করাতেও ‘বিউটি’ আছে। যখন কিছু করছি না তখনো আমি মনে মনে কিছু একটা করছি, ভাবছি, প্রস্তুত হচ্ছি বড় কিছুর জন্য।”

এখন আর সপ্তাহে সাত দিন অভিনয়ের ব্যস্ততা নেই। তিন মাস ধরে তাই বাগান নিয়ে মেতেছেন। উত্তরার বাসা ও ছাদে তাঁর লাগানো গাছ এখন শখানেক। নানা জাতের ফুলের গাছ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে হরেক রকম সবজি এবং পছন্দের কিছু গাছ। বাগানটা তাঁকে অন্য রকম একটা সুখ দিচ্ছে।

অরেকটা কাজ করেছেন মম। “অভিনেত্রী সুষমা সরকার ও চিত্রশিল্পী লিটন কর দম্পতিকে নিয়ে একটা ফেসবুক পেজ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি—উইন্ড স্টোরিজ। জীবন যেখানে প্রতিনিয়তই মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে, রংহীন জীবনটায় যদি একটু রং দিতে পারি খারাপ কী। সে জন্য আমরা আমাদের মতো করে কিছু শৈল্পিক ফটোশুট করছি। এগুলো মনের শান্তির জন্য। আর এই করোনায় ‘মহানগর’, ‘কন্ট্রাক্ট’ তো যোগ হলোই ক্যারিয়ারে। এই তো বেশ চলছে”, বলেন মম।

বেশ চলছে কী? সংসারজীবন নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। বললেন, ‘কাজটাই আমার সংসার।’ এটা এড়িয়ে যাওয়া, গুঞ্জনের উত্তর নয় কিছুতেই। এবার গান শোনালেন মম, ‘আজ নয় গুনগুন গুঞ্জন প্রেমে/চাঁদ, ফুল, জোছনার গান আর নয়...আর নয় নিষ্ফল ক্রন্দন, শুধু নিজেরই স্বার্থের বন্ধন।’ হেসে পরক্ষণেই বললেন, ‘গুঞ্জন চলুক গুঞ্জনের মতো। আমি কিছু জানাব না। এটুকু বলব, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি কোনো মুশকিলে নেই। জীবন সুন্দর, সরল; জীবন কারো জন্য কখনো থেমে থাকে না। মৃত্যু পর্যন্ত জীবন সুন্দর। ওই পর্যন্ত আমার ফোকাসের জায়গা শুধু কাজ। তা ছাড়া আমাকেই কেন জিজ্ঞেস করছেন? আরেকজন আছেন তাঁকেও জিজ্ঞেস করুন। উনি অ্যাকটিভ মানুষ, আমি অতটা নই। যার যার সম্মান তার তার কাছে।’

অন্য কিছু কী?

—‘না না না। আর কিছু বলব না।’



সাতদিনের সেরা