kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

নুহাশের কানকথা

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নুহাশের কানকথা

নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুভিং বাংলাদেশ’ নির্মাণ করছেন নুহাশ হুমায়ূন। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ৭৪তম কান চলচ্চিত্র উত্সবের মার্শে দ্যু ফিল্মে আমন্ত্রিত হয়েছে ছবিটি। এ বিষয়ে কথা বলেছেন  নুহাশ হুমায়ূন

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কানের ‘আঁ সার্তে রিগা’য় নির্বাচিত হওয়ার দুদিনই পরই পাওয়া গেল আরেকটি ভালো খবর। কানের বাণিজ্যিক শাখা মার্শে দ্যু ফিল্মে আমন্ত্রিত হয়েছে নুহাশ হুমায়ূনের ‘মুভিং বাংলাদেশ’। এই দুটি খবরের পার্থক্য বুঝতে পারেনি সাধারণ মানুষের অনেকেই। এমনকি অনেক সংবাদমাধ্যম শিরোনাম করে, ‘কানে নির্বাচিত নুহাশের মুভিং বাংলাদেশ’। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। অনেকেই অভিনন্দন জানান নুহাশকে। কিন্তু খবরটি পুরোপুরি সঠিক নয়। এতে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যান নুহাশ, ‘এ রকম শিরোনাম পত্রিকাগুলো কেন করে আমি জানি না। ছবিটি এখনো বানানোই হয়নি। এ ধরনের টাইটেল শুনলে মনে হয় কানের অফিশিয়াল সিলেকশন।’

বড় বড় চলচ্চিত্র উত্সবের বাণিজ্যিক শাখা থাকে; যেখানে প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক, কলাকুশলীসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষেরা একত্রিত হন। তাঁরা বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে প্রযোজনা, পরিবেশনা ও নির্মাণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সিনেমাটি নির্মাণ ও বিপণনে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। কান চলচ্চিত্র উত্সবের বাণিজ্যিক শাখা হলো এই মার্শে দ্যু ফিল্ম।

ভারতের এনএফডিসি ফিল্ম বাজার থেকে এ বছর সাতটি প্রকল্প মার্শে দ্যু ফিল্মে আমন্ত্রিত হয়েছে। এর একটি ‘মুভিং বাংলাদেশ’। আগে বাংলাদেশের আরো বেশ কিছু ছবি মার্শে দ্যু ফিল্মে গেছে। তবে অতীতের চেয়ে নুহাশের অর্জনে কিছুটা ভিন্নতা আছে। নুহাশ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেকেই নিজেদের উদ্যোগে মার্শে দ্যু ফিল্মে যান, আবার অনেকে কানে একটা হল ভাড়া করে তাঁদের ছবি দেখান। তারপর নিউজ করানো হয় যে এই ছবি কানে দেখানো হয়েছে। এটাও কিন্তু ঠিক নয়। যে কেউই কানে গিয়ে সিনেমা হল বুকিং দিয়ে সিনেমা দেখাতে পারেন, এর সঙ্গে কান উত্সবের কোনো সম্পর্ক নেই। আর আমাদের প্রকল্পের বিষয়টি একটু ব্যতিক্রম। আমরা সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছি। গত বছর গোয়া ফিল্ম বাজারে আমাদের ছবিটি নির্বাচিত হয়। ওখানকার সেরা প্রজেক্টগুলো কানের মার্শে দ্যু ফিল্মে আমন্ত্রিত হয়েছে।’

‘মুভিং বাংলাদেশ’ ছবির বাংলাদেশি প্রযোজক ‘মাটির প্রজার দেশে’খ্যাত আরিফুর রহমান ও বিজন ইমতিয়াজ। এটি ছাড়াও প্রযোজকদ্বয়ের আরেকটি ছবি এবার মার্শে দ্যু ফিল্মে আমন্ত্রিত হয়েছে—‘সলো’। পরিচালক ভারতের সুমন সেন। আরিফুর রহমান জানালেন, ভিসার জন্য তিনি ও বিজন আবেদন করেছেন, আশা করছেন পেয়েও যাবেন। তবে নুহাশ যাবেন না কানে।

প্রায় এক বছর ধরে ‘মুভিং বাংলাদেশ’ ছবির চিত্রনাট্য করছেন নুহাশ, এখনো শেষ করতে পারেননি। জানালেন, করোনার প্রকোপ কমে এলে সামনের বছর শুটিং করবেন। খুব শিগগির ছবির পাত্র-পাত্রীর নাম জানাবেন।

ঢাকার তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে কিভাবে একদল তরুণ তৈরি করে অ্যাপ ‘পাঠাও’, সেই গল্পই উঠে আসবে ‘মুভিং বাংলাদেশ’-এ। সত্য ঘটনা অবলম্বনে ছবি, তাই কাজটাকে বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন নুহাশ। তিনি বলেন, ‘সত্যিকারের ঘটনা অবলম্বনে হলেও এটা কোনো তথ্যচিত্র না। এক বছর ধরে গবেষণা চলেছে। এই ছবির মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটু অন্যভাবে দেখাতে চাই। সাধারণত সবাই যেভাবে দেখে না। এটা অনুপ্রেরণার গল্প।’



সাতদিনের সেরা