kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

ওয়েবের তমা

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওয়েবের তমা

রায়হান রাফির ‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’ দিয়ে ওয়েব ছবিতে অভিষেক হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া অভিনেত্রী তমা মির্জার। প্রথম দানেই মাত! চারদিকে তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা।  লিখেছেন ইসমাত মুমু

কর্মব্যস্ত দিনের ঢাকা যানজটের শহর। রাতের যানজটহীন শহরটা কেমন? সেই ঢাকা শহরের খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে রায়হান রাফি ও সিমিত রায় অন্তরের ওয়েব ছবি ‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’তে। এখানে পাঁচটি গল্প; চারটি নির্মাণ করেছেন রাফি, অন্যটি অন্তর। ১০ জুন আই থিয়েটার অ্যাপে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। দর্শক দারুণ পছন্দ করেছে ক্রাইম থ্রিলারটি। তমা মির্জা, নাফিজা তুষি, মনোজ প্রামাণিক, রাশেদ মামুন অপুরা দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তমা মির্জা। মাদক কারবারির চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন অভিনেত্রী।

‘ওয়েবে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। রাফির সঙ্গেও এটা আমার প্রথম কাজ। এই সময়ের পরিচালকদের মধ্যে রাফি নামি ও প্রশংসিত নির্মাতা। করোনার এই সময়ে আমরা সকলে মিলে যে কষ্টটা করেছি তার ফলও পাচ্ছি। যাঁরা দেখেছেন সবাই ভালো বলেছেন’, বললেন তমা। 

রাফির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে ছবির সব নারী চরিত্রের বিস্তারিত শুনেছেন তমা। সব শুনে রাফিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোনটার জন্য আমাকে ভাবছ?’ ‘ও আমাকে বলেছিল শান্তা চরিত্রটার কথা (পরে যেটা তুষি করেছে)। কিন্তু তুমি যেহেতু আর্টিস্ট, তোমার পছন্দের একটা জায়গা আছে। আমি পরিচালকের ওপরই ছেড়ে দিলাম। বললাম, তুমি যেটা দেবে সেটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব’, বলেন তমা।

শুটিংয়ের আগে তমা কোনো প্রস্তুতিই নেননি। রাফিকে বলেছেন তমা, ‘ধরে নাও আমি অভিনয় পারি না। আমাকে শেখাও। আমি তোমার কাছ থেকে একদম নতুনভাবে শিখতে চাই। পরিচালকদের সব সময় এ কথাটা বলি আমি। যদি আমি এটা-সেটা বোঝাতে যাই, পরিচালক আমার ওপর ছেড়ে দেবে। তখন ভালো কিছু না-ও হতে পারে।’

তমার চরিত্রের শেষ চার মিনিটের দৃশ্যের শুটিং এক টেকে ‘ওকে’ হয়েছে। এখানেও কৃতিত্বটা পরিচালককেই দিলেন তমা, ‘একজন অভিনয়শিল্পী পুরো গল্পটা সব সময় নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারেন না। গল্পের পুরোটাই থাকে পরিচালকের নখদর্পণে। আমি হয়তো ইম্প্রোভাইস করতে পারি, কিন্তু দৃশ্য ও চরিত্র পরিচালককেই বোঝাতে হবে। এই বন্ডিংটা রাফির সঙ্গে সব অভিনয়শিল্পীরই ছিল, যে কারণে ছবির কোনো জায়গাতেই গল্পটা ঝুলে যায়নি। দর্শকও টানটান উত্তেজনা নিয়ে শেষ পর্যন্ত বসে দেখেছে।’

তমা আরেকটি ওয়েব ছবি ‘আনন্দী’র ডাবিং শেষ করেছেন সম্প্রতি। ‘ফ্রম বাংলাদেশ’ ছবিরও সব কাজ সম্পন্ন। দুটিই মুক্তি পাবে সামনে।

তমা বলেন, ‘আমি একসঙ্গে অনেক কাজ করতে পারি না। একটা কাজ পাব, সেটা ভালো করার চেষ্টা করব। তারপর আরেকটা করব। অনেকেই আছেন কখন কোন কাজ করেন সেটার খবর পরে নিজেই রাখতে পারেন না। একটা সময় হয়তো আমারও এমন চিন্তা-ভাবনা ছিল। পরে যখন বুঝতে শিখেছি তখন দেখলাম আস্তে আস্তে মানসম্পন্ন কাজের সংখ্যা বেড়েছে। আমার সাম্প্রতিক কাজগুলো দেখলেই সেটা অনেকে বুঝতে পারবেন।’

তথাকথিত ‘বাণিজ্যিক’ সিনেমার প্যাটার্ন বদলেছে। তাই আগ্রহও বেড়েছে তমার। তাঁর মতে, “আপনি যদি সাম্প্রতিক কিছু বাণিজ্যিক সিনেমা দেখেন, দেখবেন উপস্থাপনা বেশ ব্যতিক্রমী। যেমন—‘নবাব এলএলবি’। শাকিব ভাই ‘অন্তরাত্মা’র শুটিং করে এলেন, এর পরিবেশনাটাও দেখবেন আলাদা হবে। আগেও ‘পোড়ামন’ হয়েছে, তবে গেল কয়েক বছরের তুলনায় এ ধরনের ছবির সংখ্যা বাড়ছে। অভিনেত্রী হিসেবে এসব আমাকে ভীষণ আকৃষ্ট করছে। একটা সময় সবার ধারণা ছিল লাউড অ্যাক্টিং করলেই সেটা বাণিজ্যিক সিনেমা হয়ে যাবে, সেই ধারণাটা কিন্তু বদলাচ্ছে। আফসোস, যখন জোয়ারটা এলো তখনই কভিডের হানায় প্রচেষ্টাগুলো বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”

গত বছর বিয়ে, স্বামী-সংসার নিয়ে বেকায়দায় পড়েছিলেন। গণমাধ্যমে তা নিয়ে অকপটে বলেছেন। ক্যারিয়ারেও তার প্রভাব পড়েছে। তবে ব্যক্তিজীবনের সেই অধ্যায়ের পরিণতি কী সেটা এখন আর জানাতে ইচ্ছুক নন তমা, ‘কখনোই চাইনি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাইরে আলোচনা হোক। পরিস্থিতির কারণে সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। অস্থির একটা অবস্থা পার করেছিলাম। অনেক কিছুই তখন সামনে চলে এসেছে, আটকাতে পারিনি। যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে, এখন আর চাই না আমার ব্যক্তিগত কোনো কিছু প্রকাশ পাক।’



সাতদিনের সেরা