kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

তৌসিফের ৫০

৮ বছর ধরে টিভি নাটকে অভিনয় করেন তৌসিফ মাহবুব। বিশেষ ভক্তশ্রেণিও তৈরি হয়েছে তাঁর। তবে ঈদে বরাবরই মোশাররফ করিম-চঞ্চল চৌধুরী বা অপূর্ব-নিশোদের তারকাদ্যুতির ছায়ায় ঢাকা পড়তেন তিনি। সেই তৌসিফের প্রায় ৫০টি নাটক-টেলিফিল্ম প্রচারিত হবে এই ঈদে। লিখেছেন ইসমাত মুমু

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তৌসিফের ৫০

তৌসিফ মাহবুব

সপ্তাহখানেক আগে করোনায় মারা গেলেন তাঁর দাদি। পরিবারের আরো কয়েকজন আক্রান্ত। এর আগে তৌসিফ নিজেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। করোনার ধকল এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। শারীরিক দুর্বলতা আছে এখনো। তৌসিফ থেমে থাকেননি। করোনা নেগেটিভ হয়েই শুটিংয়ে ফিরেছেন। চাঁদরাত পর্যন্ত চলবে শুটিং। এবারের ঈদে তৌসিফের অর্ধশত নাটক প্রচারিত হবে—এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা। সেসব দেখেছেন তৌসিফ। বলেন, ‘পঞ্চাশটাই প্রচারিত হওয়ার কথা। ৪৫টি নাটক জমেছে। এখনো ঈদের সপ্তাহখানেক বাকি। টানা শুটিং করছি, তত দিনে ৫০টা হয়ে যাবে। আমি হলফ করে বলতে পারি না সবই প্রচারিত হবে। কারণ প্রচারের ক্ষমতা তো আমার হাতে নেই। তবে সব নাটকের তালিকা আমার কাছে আছে।’

ঈদের সর্বোচ্চ নাটকের অভিনেতার ক্রেডিট নেওয়ার তেমন কিছু দেখেন না তৌসিফ। ‘হয়তো সিনিয়র অনেকে শুটিং করতে পারেননি বলে আমার নাটকের সংখ্যা বেড়েছে। ৭ এপ্রিল লকডাউন পড়লেও আমি খুব সীমিত পরিসরে অল্প কাস্ট ক্রু নিয়ে সাত-আটটা কাজ করেছি। এর আগের মাসে করেছিলাম ১৫টার মতো। সব মিলিয়ে ২০-২২টা প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বছরের ঈদ থেকে শুরু করে এ বছরের ভালোবাসা দিবস পর্যন্ত নানা কারণে অনেক নাটক প্রচারিত হয়নি। সেগুলোই এবার ঈদে প্রচারিত হবে’, বললেন তৌসিফ।

তৌসিফের পর এবার ঈদে সর্বাধিক নাটক প্রচারিত হবে মোশাররফ করিমের, ১৬-১৮টি। অভিনেতা এখন আছেন ভারতে, লকডাউনে আটকা পড়েছেন। আগে শুটিং করা এবং অপ্রচারিত নাটকগুলোই প্রচারিত হবে ঈদে। চঞ্চল-অপূর্ব-নিশো-তাহসানদের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের ঈদের নাটকের সংখ্যা ১০টির বেশি হবে না। অথচ তৌসিফের সমসাময়িক অভিনেতা জোভান-মনোজের ঈদ নাটকের সংখ্যাও ১৫টি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, টিভি চ্যানেলগুলো এবার বড় তারকাদের বদলে উঠতি তারকাদের প্রতিই আস্থা রাখতে চেয়েছে। উচ্চ পারিশ্রমিক ও শিল্পী সিন্ডিকেট থেকে বের হতেই হয়তো ‘লকডাউন’টাকে ঢাল করেছে চ্যানেলগুলো। গানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো নাটক নির্মাণ শুরু করার পর বড় তারকারা একে একে চড়া মূল্যে চুক্তিবদ্ধ হলেন সেখানে। সেসব প্রতিষ্ঠানের নাটক নামকাওয়াস্তে প্রচারিত হয় টিভিতে। তাদের মূল টার্গেট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। চুক্তির কারণে এবার অনেক টিভি চ্যানেলই নাটক নির্মাণ করতে গিয়ে অপূর্ব-নিশোদের পায়নি। তাই তারা তৌসিফ-মনোজ-জোভানদের কাছে টেনে নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলেন সিন্ডিকেটের কারণে এত দিন ঈদের নাটকে তুলনামূলক কম সুযোগ পেয়েছেন তৌসিফরা। তবে তাতে কান দিতে চান না অভিনেতা, ‘আমাদের সব কিছুতে কান দিতে হয় না। একটা তথ্য দিয়ে রাখি, ২০১৯ সালের কোরবানির ঈদেও আমার ৩৬টি নাটক প্রচারিত হয়েছিল।’

অনেকেই বলেন, শিল্পীদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রথম সারির অভিনেত্রীদের সঙ্গে অভিনয়েরও সুযোগ কম মেলে তৌসিফের। ‘আমি হয়তো প্রথম সারির নই। আমি কোন সারির সেই বিবেচনা আমি করতে পারি না। ব্যস্ততা ও চাহিদার দিক থেকে যাঁরা প্রথম সারির অভিনেত্রী তাঁদের সঙ্গে যে একেবারেই আমাদের কাজের সুযোগ হয় না তা নয়। ৪০ মিনিট নাটকে অনেক বেশি প্রমাণ করতে হয় নিজেকে। এক নাটকের সব চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ হয় না। স্বার্থপরের মতো অনেক সময়ই এমন কিছু গল্প বেছে নিই, যেটার গল্প আমাকে ঘিরেই। সেই গল্পে সব সময় প্রথম সারির অভিনেত্রীরা কাজ করতে রাজি হবেন না, এটা স্বাভাবিক। এবারের বেশির ভাগ নাটকে সাফা কবির, তাসনিয়া ফারিণ, কেয়া পায়েল, সারিকা সাবরিনরা আমার সহশিল্পী।’

ঈদের ৫০টা নাটকের মধ্যে আলাদা করে কোনগুলোর কথা বলবেন তৌসিফ? “কোন নাটকে কী চরিত্র করেছি সব বলতে পারব। এত কথা তো ছাপতে পারবেন না। দুই-একটার কথা বলি। যেমন একটা গল্পের নাম ‘উই আর ওয়েটার’। অনেক নাটকে নায়ককে এক-দুই দৃশ্যে ওয়েটারের চরিত্রে দেখেছি। কিন্তু এই নাটকটা ওয়েটারদের জীবন নিয়ে। তারপর ‘নাবিক’-এ জাহাজের ক্যাপ্টেন। রিকশাওয়ালার চরিত্রও করেছি। এবার এমন বৈচিত্র্যময় বেশ কিছু চরিত্রে দেখা যাবে আমাকে। এই চরিত্রগুলো আগে করা হয়ে ওঠেনি। গেটআপ তৈরিতে অনেক কাজ করেছি। সাধারণ একটা চরিত্রের জন্যও নতুন কোনো লুক আনার চেষ্টা করেছি। ‘হ্যালো লেডিস’ নাটকের গল্পের নায়ক প্লেবয়। এমন গল্প আমরা অনেক দেখেছি। কিন্তু এই গল্পটা নেওয়া হয়েছে একটা ভাইরাল ইস্যু থেকে। অ্যাকশন সিনও আছে। অনেকটা অ্যাকশন সিনেমা টাইপ হয়ে গেছে। হা হা হা।”



সাতদিনের সেরা