kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

দুই গায়িকার তথ্যচিত্র

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই গায়িকার তথ্যচিত্র

ডেমি লোভাটো

ব্রিটনি স্পিয়ার্স ও ডেমি লোভাটোকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র মুক্তির পরপরই ঝড় তুলেছে। একটির বিষয় ব্রিটনির গায়িকা হয়ে ওঠা, আরেকটি লোভাটোর মাদকগ্রহণের ঘটনা নিয়ে। লিখেছেন মামুনুর রশিদ

১৯৯৯ সাল। বিশ্বসংগীত দুনিয়া কাঁপিয়ে দিলেন ১৯ বছরের এক তরুণী। তাঁর ‘...বেবি ওয়ান মোর টাইম’ সারা দুনিয়ায় ঝড় তুলল। অখ্যাত একজন থেকে ব্রিটনি স্পিয়ার্স রাতারাতি হয়ে উঠলেন তরুণদের নয়নের মণি। পরের বছর আরেকটি অ্যালবাম ‘ওপস!...আই ডিড ইট অ্যাগেইন’ দিয়ে ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়। এর পর থেকে গেল দুই দশকে সম্পর্ক, বিয়ে, বিচ্ছেদ আর গান নিয়ে নিয়মিতই খবরে থেকেছেন এই পপ তারকা। তাঁর তারকা হয়ে ওঠার গল্প নিয়েই তথ্যচিত্র ‘ফ্রেমিং ব্রিটনি স্পিয়ার্স’, মুক্তি পায় ৫ ফেব্রুয়ারি। তথ্যচিত্রটির অন্যতম বিষয় গেল এক যুগের বেশি সময় ধরে আলোচিত ব্রিটনি ও তাঁর বাবা জেমস পারনেল স্পিয়ার্সের সম্পর্ক। ২০০৮ সালে দ্বিতীয় স্বামী কেভিন ফেডেরলিনের সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ব্রিটনি। আদালতে ব্রিটনির অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পান তাঁর বাবা। এ নিয়ে গেল ১৩ বছরে নানা দ্বন্দ্বের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। যার পুরো সংকলন আছে তথ্যচিত্রটিতে। স্বভাবতই ব্রিটনির এই তথ্যচিত্র ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দেয়। এফএক্স চ্যানেলে প্রচারের প্রথম দিনই দুই লাখ ৬৫ হাজার ভিউ পায়। প্রায় একই সংখ্যক দর্শক দেখে একই দিন স্ট্রিমিং সাইট ‘হুলু’তে মুক্তির পরেও। তথ্যচিত্রটি সামনে আনে ব্রিটনির অজানা অনেক কথা। সম্পর্কে থাকার সময় গায়ক জাস্টিন টিম্বারলেকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিলেন ব্রিটনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠার পরে এক দীর্ঘ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্রিটনির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান গায়ক। বাবার সঙ্গেও দীর্ঘ ‘যুদ্ধ’ চলে ব্রিটনির। মানসিক নির্যাতন, অনুমতি না নিয়ে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তাঁর বাবার বিরুদ্ধে। এ সময় ব্রিটনির ভক্তরাও হ্যাশট্যাগ ‘উইআরসরিব্রিটনি’ লিখে প্রচারণা চালায়।

যাঁকে নিয়ে তথ্যচিত্র সেই ব্রিটনি অবশ্য ছবিটি দেখেছেন অনেক পরে, তাও পুরোটা নয়। তথ্যচিত্রে নিজের ফেলে আসা জীবনের দিকে তাকিয়ে খুবই মন খারাপ হচ্ছে তাঁর। ৩০ মার্চ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘পুরোটা দেখিনি। যতটা দেখেছি তাতেই সহ্য করতে পারিনি, বিব্রত লেগেছে। দুই সপ্তাহ ধরে কেঁদেছি। এখনো মাঝেমধ্যে কাঁদি।’

ব্রিটনির থেকে ডেমি লোভাটোর তথ্যচিত্রটি অবশ্য একটু আলাদা। ‘ডেমি লোভাটো—ডান্সিং উইথ দ্য ডেভিল’ তথ্যচিত্র সিরিজটি গায়িকার মাদকাসক্তের ঘটনা নিয়ে। ২০১৮ সালে অতিরিক্ত মাদক গ্রহণ করে মরতে বসেছিলেন। দীর্ঘদিন হাসপাতাল, পুনর্বাসনকেন্দ্রে কাটিয়ে পরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন। ঘটনার তিন বছর পর ইউটিউব অরিজিনাল ডকুমেন্টারিতে ডেমি জানান, মাদকাসক্তের সেই ঘটনার পর তিন-তিনবার ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার কথা। জানান, ১৫ বছর বয়সে একবার ও দ্বিতীয়বার অচেতন অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাও। চার পর্বের তথ্যচিত্রটির শেষটি প্রচারিত হয় ৬ এপ্রিল। এই অকপট বয়ানে ভক্তদের দারুণভাবে পাশে পান ডেমি। ২৩ মার্চ প্রথম পর্ব ‘লুজিং কন্ট্রোল’ প্রচারের পর থেকেই সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নেন। ‘আমি মাত্রা ছাড়িয়েছিলাম। তিনবার ব্রেন স্ট্রোক, একবার হার্ট অ্যাটাক হয়। ডাক্তার বলেন, পাঁচ থেকে দশ মিনিট বাঁচব। সেখান থেকে ফিরেছি। তবে ব্রেন ড্যামেজের মূল্য চুকাতে হচ্ছে। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে বারবার,’ বলেন ডেমি।

তথ্যচিত্র মুক্তির পর ২ এপ্রিল প্রায় একই নামে মুক্তি পায় ডেমির সপ্তম অ্যালবাম ‘ডান্সিং উইথ দ্য ডেভিল...দ্য আর্ট অব স্টার্টিং ওভার’। ‘স্পটিফাইতে (মিউজিক স্ট্রিমিং সাইট)’ রেকর্ড গড়ে অ্যালবামটি। এ বছর সাইটটিতে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিমিং হওয়া গায়িকার খেতাব পান ডেমি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা