kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

এবার কী হবে

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



এবার কী হবে

‘অন্তরাত্মা’য় শাকিব খান

করোনার কারণে গত বছর দুই ঈদে ছবি মুক্তি পায়নি। এবার রোজার ঈদে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে বড় বাজেটের চারটি চলচ্চিত্র। এরই মধ্যে বেড়েছে করোনার প্রকোপ, বন্ধ হচ্ছে একের পর এক সিনেমা হলও। এ অবস্থায় ছবি মুক্তি দিয়ে পুঁজি তুলতে পারবেন প্রযোজক? সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত চার ছবি—‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘শান’, ‘অন্তরাত্মা’ ও ‘বিদ্রোহী’। এর মধ্যে ‘মিশন এক্সট্রিম’ ও ‘শান’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল গত বছর ঈদে। করোনার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ‘বিদ্রোহী’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল আরো আগে, ২০১৯ সালে। তবে শাকিব খান অভিনীত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবির জন্য ‘বিদ্রোহী’ পিছিয়ে নেওয়া হয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছিল, ২০২০ সালের রোজার ঈদে মুক্তি পাবে। করোনার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। এ বছরের শুরুতে নতুন করে ঘোষণা আসে রোজার ঈদে মুক্তি পাবে ‘বিদ্রোহী’। সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে ছবির তিনটি গানও প্রকাশিত হয়েছে। শাকিবের নতুন ছবি ‘অন্তরাত্মা’র মহরতেই ঘোষণা দেওয়া হয় রোজার ঈদে মুক্তি দেওয়ার। শুধু তাই নয়, কোরবানির ঈদে ‘অন্তরাত্মা ২’ মুক্তি পাবে বলেও জানান পরিচালক ওয়াজেদ আলী সুমন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে চারটি ছবি নিয়েই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন নির্মাতা ও প্রযোজকরা।

 

মিশন এক্সট্রিম-এ আরিফিন শুভ

‘মিশন এক্সট্রিম’-এর দুই পরিচালকের একজন সানী সানোয়ার। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন হল কমছে। এর মধ্যে সিনেপ্লেক্স ফের বন্ধ হয়ে গেল। রোজার ঈদে করোনা পরিস্থিতি কী হয় সেটা আগাম বুঝতেও পারছি না। আমাদের ছবিটির সিক্যুয়ালও প্রস্তুত। দুই কিস্তি মিলিয়ে অনেক টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। গত একটা বছর আমরা ছবি দুটি মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আছি। তবে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কোনোমতেই ছবি মুক্তি দেব না।’

‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির জন্য দীর্ঘ ৯ মাস বিশেষ পরিশ্রম করেছেন আরিফিন শুভ। নতুন করে শরীর গঠন করেছেন। শুধু তাই নয়, এই সময়ে প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো ছবি করেননি। শুভর এমন পরিশ্রমের প্রতিদান দিতে চান সানী। বলেন, ‘আমরা চাইলেই ছবিটি যখন-তখন মুক্তি দিতে পারি। কিন্তু শুভর কথা ভাবতে হবে। অনুকূল সময়ে ছবিটি মুক্তি দিলে দর্শক দেখার সুযোগ পাবে। ছবিটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ আমরা বারবার টের পেয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তি দিলে দর্শক চাইলেও হলে যেতে পারবে বলে মনে হয় না।’

তবে ‘ব্যবসা’ নিয়ে অতটা চিন্তিত নন ‘শান’ পরিচালক এম রাহিম। তিনি ছবির কোয়ালিটির বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিতে চান। ব্যবসা কী হবে, না হবে সেটা নিয়েও অতটা মাথা ব্যথা নেই তাঁর। তবে করোনা পরিস্থিতি এই অবস্থায় থাকলে ছবিটি মুক্তি দিতে চান না ‘শান’ প্রযোজক ও পরিচালক। রাহিম বলেন, ‘সবাই জানে বাংলাদেশে বড় বাজেটের ছবির লগ্নি ফেরত পাওয়া কঠিন। ফলে এক ধরনের ঝুঁকি নিয়েই ছবি নির্মাণ করেছি। টাকা উঠুক, না উঠুক আমি চাই দর্শক একটা ভালো ছবি দেখুক। কিন্তু করোনার যে পরিস্থিতি সেখানে টাকা তো দূরে থাক, দর্শকের হলে যাওয়া নিয়েই সংশয়। এমন অবস্থায় আমিও তো আমার পরিবারকে কোনো বাজার বা লোকসমাগমে যেতে দেব না! পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে যদি আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয় আমরা রাজি। আগেও তো একটা বছর নষ্ট করলাম! আরেকটা বছর না হয় দেখি।’

 

শান-এ সিয়াম আহমেদ

‘শান’ ছবির টিজার প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। দর্শক পছন্দ করেছে টিজারটি। ফলে ছবিটি নিয়ে আশাবাদী নায়ক সিয়াম আহমেদ। বলেন, ‘ক্যারিয়ারে এমন ছবি পাওয়া যেকোনো অভিনেতার জন্যই সৌভাগ্যের। আমি চাই না এমন দুঃসময়ে ছবিটা মুক্তি পাক, আর দর্শক বঞ্চিত হোক। নির্মাতা ও প্রযোজকের উচিত হবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছবিটি মুক্তি দেওয়া।’ তবে ‘অন্তরাত্মা’ মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে এখনো আশাবাদী পরিচালক ওয়াজেদ আলী সুমন। প্রযোজকও চান নির্ধারিত সময়ে ছবিটি মুক্তি পাক। সুমন বলেন, ‘হল খোলা থাকলে এবং সরকারি কোনো বিধি-নিষেধ না থাকলে আমরা ছবি মুক্তি দেব। অনেক দিন হলো হলে শাকিব খানের নতুন ছবি নেই। দর্শকও অপেক্ষায়। আমরা তাদের অপেক্ষার মূল্য দিতে চাই।’

হল খোলা থাকলেও দিন দিন হলের সংখ্যা কমছে। এত বড় বাজেটের ছবি মুক্তি দিয়ে কি টাকা ফেরত আসবে? ‘অর্ধশত হল যদি আমরা পাই তাহলে নিশ্চিত পুঁজি উঠে আসবে। কারণ শাকিব খানের ছবি মানেই হল মালিক ও দর্শকের কাছে উৎসব। দেশের সবচেয়ে বড় সুপারস্টারকে নিয়ে ছবি বানিয়ে টাকা ফেরত পাব না, এটা হতে পারে না’, বললেন সুমন।

অবশ্য এবার ঈদে হল খোলা থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে পরিবেশক সমিতি। সংগঠনটির সাবেক সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘এ সপ্তাহ থেকে সারা দেশের অনেক হল বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার যে পরিস্থিতি দেখছি তাতে ঈদে খুলবে কি না সন্দেহ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেড় শতাধিক হল খোলার সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে অবশ্য বড় বাজেটের চার-চারটি ছবি মুক্তি পেলে লগ্নি উঠে আসাটা কষ্টকর হবে। আমার অনুরোধ, নিজেদের মধ্যে সমাঝোতা করে রোজার ঈদে, আর কোরবানির ঈদে দুটি করে ছবি মুক্তি দিক নির্মাতারা।’

এই মুহূর্তে দেশের বেশির ভাগ হল হাতে রয়েছে ‘বিদ্রোহী’ প্রযোজকের। গত সপ্তাহে ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ মুক্তি দিয়েছিলেন অর্ধশত হলে। সে ক্ষেত্রে শাকিব খানের ছবি আরো বেশি হল পাবে—এ রকম আশা করছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। ‘বিদ্রোহী’ পরিচালক শাহীন সুমন বলেন, ‘হল মালিকরা এরই মধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন। আমরা কিছু হল চূড়ান্তও করেছি। যদি করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ না হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি হলে আমার ছবিই মুক্তি পাবে। এটি শাকিব-বুবলী জুটির ছবি। তাঁদের রসায়ন আগেও দর্শক উপভোগ করেছে, এবারও ব্যতিক্রম হবে না। আর সেটি হলে লগ্নীকৃত টাকা ফেরত আসতে বাধ্য।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা