kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

প্রিয় ৫ দেশের গান

২৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রিয় ৫ দেশের গান

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সর্বশেষ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দেশাত্মবোধক গানটির সুরকার সুজেয় শ্যাম। এর আগে-পরেও অনেক গানের সুর করেছেন তিনি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে নিজের সুর করা প্রিয় পাঁচটি দেশাত্মবোধক গানের নেপথ্যের গল্প বললেন তিনি। লিখেছেন আতিফ আতাউর

 

রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম

গানটির গীতিকার আবুল কাশেম সন্দীপ। আমরা যে বিল্ডিংয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কাজ করতাম সেটি ছিল দোতলা। একদিন সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছি, তখনই সন্দীপ ভয়ে ভয়ে বলল, দাদা একটা গান লিখেছি। ভয়ে সমরদাকে দিই নাই। আপনি একটু দেখেন না। গানটা দেখে আমি খুব খুশি হলাম। বললাম, আমার রেকর্ডিং পরশু দিন। ওই দিন তোমারটা করে দেব। আমি সুর করলাম। নির্দিষ্ট দিনে গানটি রেকর্ড হলো। গানটি শুনে সন্দীপ খুব খুশি হয়েছিল।

 

আয়রে চাষী মজুর কুলি

এ গানটি কবি দিলওয়ার সাহেবের লেখা। স্বাধীন বাংলা বেতারে আমার প্রথম গান ছিল এটা। ১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনের সময় সিলেটের রেজিস্ট্রি মাঠে এই গানটি করেছিলাম। স্বাধীন বাংলা বেতারে এটাই আগে দিয়েছিলাম।

 

মুক্তির একই পথ সংগ্রাম

আমার বন্ধু শহিদুল ইসলাম গানটি লিখেছে। সেও স্বাধীন বাংলা বেতারে কাজ করত। একদিন আমাকে বলল, একটা গান লিখেছে, সুর করে দিতে হবে। গানটি হাতে পাওয়ার পর কথা খুব পছন্দ হলো। যত্ন করে সুর করলাম। রেকর্ড করে প্রচারের পর বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল। গানটির কথাগুলো খুব কঠিন। সুর করার পর ভাবছিলাম শিল্পীরা তুলতে পারবেন কি না। আমার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তাঁরা খুব ভালোভাবেই গানটি গেয়েছিলেন। আসলে ওই সময় আমাদের কারো কাছেই কোনো কিছু কঠিন ছিল না। সব কিছুই ডাল-ভাতের মতো মনে হতো। এর পেছনে একটিই কারণ, সেটি ছিল কবে আমরা দেশে ফিরব। এ জন্য যা-ই করতাম, সবাই মন ডুবিয়ে করতাম, যে কারণে গানগুলোর কথা, সুর, সংগীত ও গায়কি সুন্দর হয়েছে। এখন যদি করতে চাই তাহলে আর সেই সময়ের মতো হবে না।

 

বিজয় নিশান উড়ছে ওই

এই গানটিরও গীতিকার শহিদুল ইসলাম। ১৬ই ডিসেম্বর গীতিকার শহিদুল ইসলামকে একটি গান লিখতে বলা হয়। সুর করার দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর। শহিদুল তত্ক্ষণাৎ গানটি লিখে দিল। আমি সুর করার পর রেকর্ড হলো। পুরো গানটি তৈরি হতে ২৫ মিনিটের মতো লেগেছিল। গানটির প্রধান কণ্ঠশিল্পী ছিলেন অজিত রায়। মজার ব্যাপার এই গানটি সুর করার সময় কোনো হারমোনিয়ামও আমার কাছে ছিল না। এক জায়গায় বসে মনে মনে সুর করি। শিল্পীদেরও ওভাবেই সুর বুঝিয়ে দিই। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, ওই দিনই মিত্র বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। আমার মনে নেই, তবে সম্ভবত ৪টা ১ মিনিটে রেডিওতে ঘোষণা করা হয় আমরা আজ থেকে স্বাধীন। গানটির কথা এত দ্রুত ফলে যাওয়ায় সবাই খুব খুশি হয়েছিলাম।

 

আজ রণ সাজে বাজিয়ে বিষাণ

এই গানটির গীতিকার আমার ভারতীয় বন্ধু বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এই গানটিও প্রচারের পর মুক্তিযোদ্ধাদের মনে বেশ সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।



সাতদিনের সেরা