kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

মুজিবুরের জীবন নাটকীয় উপাদানে ভরা ফিকশনের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি

২৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মুজিবুরের জীবন নাটকীয় উপাদানে ভরা ফিকশনের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি

শ্যাম বেনেগাল

দুই মাস হলো ভারতের মুম্বাইয়ে চলছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘বঙ্গবন্ধু’র শুটিং। সম্প্রতি শুটিং দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন সাংবাদিক তপন বকসি। ‘বঙ্গবন্ধু’ নিয়ে পরিচালক শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি, জানিয়েছেন শুটিং দেখার অভিজ্ঞতাও

পঞ্চাশ বছর আগের বাংলাদেশকে আবার দেখলাম চোখের সামনে। ২০২১ সালের মার্চ মাস। ভারতের মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটি স্টুডিওর পাঁচ নম্বর ফ্লোর। পুরো শুটিং ফ্লোরটি তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি। সেখানেই ঘটে চলেছে একের পর এক পারিবারিক ঘটনা। রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় ছেলে শেখ জামালের ভূমিকার অভিনেতা শরীফ সিরাজ। রয়েছেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধু রোমা (সাইখ খান), শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব (নুসরাত ইমরোজ তিশা), শেখ জামালের স্ত্রী রোজি জামাল (নাইরুস সিফাত), সুলতানা কামাল (নাজিবা বাশার)।

পাঁচ শ কুড়ি একর জায়গায় মন্দির, জেলখানা, আদালত, লেক, পাহাড়ি উপত্যকা, ঝরনা, গ্রাম, পিকনিক স্পট, বাগান, জলপ্রপাতসহ ৪২টি আউটডোর শুটিং লোকেশন আর ১৬টি নানা আকারের ইনডোর শুটিং ফ্লোর নিয়ে এই ফিল্ম সিটি। মুম্বাইয়ের শহরতলি গোরেগাঁওয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে এটি তৈরি হয় ১৯৭৭ সালে। সেখানকার পাঁচ নম্বর ফ্লোর যদি মুজিবুর রহমানের ধানমণ্ডির বাড়ির ভেতরের অংশ হয়, তাহলে ফিল্ম সিটির লেকের লোকেশন হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডির বাড়ির বাইরের অংশ।

‘বঙ্গবন্ধু’র শুটিংয়ের দুই মাসের মাথায় পরিচালক শ্যাম বেনেগালকে অনেকটা হালকা লাগছিল। এত বড় ক্যানভাসের ঐতিহাসিক, ঘটনাবহুল, আত্মজীবনীমূলক ছবির গুরুদায়িত্ব নিয়ে অনেক দিন পর আবারও স্বমহিমায় কিংবদন্তি ভারতীয় পরিচালক। তিনি যেন ৮৬ বছরের তরুণ। যাঁর প্রথম কাহিনীচিত্র ‘অঙ্কুর’ ৪৭ বছর আগে তিন-তিনটি জাতীয় পুরস্কার জিতে নেওয়া ছাড়াও ১৯৭৪-এর বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে মনোনয়ন পেয়েছিল। সুদীর্ঘ পরিচালক জীবনের ঝুলিতে রয়েছে পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, দাদা সাহেব ফালকের মতো আরো বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তিনি যেমন একদিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জওয়াহেরলাল নেহরুর জীবন নিয়ে ছবি করেছেন, তেমনি করেছেন সত্যজিৎ রায়ের তথ্যচিত্র। এবার এক ঐতিহাসিক দেশনেতার জীবনীনির্ভর ছবি পরিচালনার দায়িত্বে আসীন তিনি।

মার্চ মাসের এক বিকেলে শুটিং ইউনিট প্যাকআপের পর শিল্পী, কলাকুশলীদের সঙ্গে শ্যামবাবুর দীর্ঘদিনের লেখিকা শ্যামা জৈদি, লেখক অতুল তিওয়ারি, সহকারী সতীশ শর্মারা গল্প করছেন। কলাকুশলীদের কেউ সন্ধ্যাকালীন খাবার খাচ্ছেন। এ রকমই পরিবেশে শ্যাম বেনেগালের মুখোমুখি এই প্রতিবেদক।

 

একদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী—সব মিলিয়ে বায়োপিকের কাজ নিয়ে কতটা উৎসাহিত বোধ করছেন?

ভীষণ। এ রকম একজন দেশনেতার জীবনী নিয়ে কাজ করার মজাই আলাদা। যেকোনো সংবেদনশীল পরিচালক এ কথা বুঝতে পারবেন।

 

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি কিসের ওপর জোর দিয়েছেন?

মানবতাবাদী মুজিবুর রহমানের ওপর। আর একজন মানুষের জীবনের ওপর, যিনি একটি দেশের জনক।

 

কোনো ফিকশনের সাহায্য নিচ্ছেন? নাকি মুজিবুরের জীবনকে পুরোপুরি অনুসরণ করছেন?

মুজিবুরের জীবন এতটাই ঘটনাবহুল, এতটাই নাটকীয় উপাদানে ভরা যে আমাকে আলাদা করে কোনো ফিকশনের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজনই পড়েনি।

 

২০১৯-এর এপ্রিলে বাংলাদেশে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এই ছবি নিয়ে কী ধরনের আলোচনা হয়েছিল?

অনেক রকম আলোচনা হয়েছিল। বেশির ভাগ অংশে আমরা এই সিনেমা কিভাবে তৈরি করব, সে প্রসঙ্গই মূলত ঘুরেফিরে এসেছিল।

 

যদি করোনার মতো অতিমারি না হতো, তাহলে কি ছবির শুটিং বাংলাদেশেই শুরু করতেন?

ইয়েস। যদি অতিমারি না ঘটত তাহলে আমি ‘বঙ্গবন্ধু’র শুটিং বাংলাদেশ থেকেই শুরু করতাম।

 

‘বঙ্গবন্ধু’ ছবির শিল্পী নির্বাচনের কাজ কতটা কঠিন ছিল?  শিল্পী নির্বাচনে কত দিন সময় লেগেছে?

বেশ কয়েক মাস সময় লেগে গেছে। রিসার্চ ওয়ার্কের সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত শিল্পী বাছার জন্য সময় লাগে।

 

৫০ বছর আগের বাংলাদেশের সেই ছবি এখন অনেক পাল্টে গেছে। এত বছর আগেকার পটভূমি কিভাবে তৈরি করছেন?

সেই সময়কে ধরার জন্য আমরা ইনডোরের সেটের ডিটেইলিংয়ে জোর দিচ্ছি। সেই সঙ্গে নানা ঐতিহাসিক লোকেশনে শুটিং করছি।

 

বায়োপিক বানাতে বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ কতটা সাহায্য করেছে?

ভীষণ, ভীষণ সাহায্য করেছে। আমরা বাংলাদেশের কথ্য ভাষাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ঠিক যে ভাষায় বাংলাদেশের মানুষ কথা বলে, সেই ডায়ালেক্টে। যাতে পুরো সিনেমা জীবন্ত হয়ে ওঠে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো টিপস দিয়েছেন?

অনেক দিয়েছেন। সে কারণে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে গেছে।

 

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুজিবুর রহমান প্রথম ভারতে আসেন ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। ঐতিহাসিক সেই সমাবেশে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে ভাষণ দেন। এরপর ১৯৭৪-এর ১৪ মে মুজিবুরকে রিসিভ করেন প্রেসিডেন্ট ভি. ভি. গিরি। ভারত ছাড়া মুজিবুরের লন্ডন, রাশিয়া, আমেরিকা ও বিদেশ যাত্রার ফুটেজ কতটা থাকছে এই বায়োপিকে?

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না।

 

১৯৭১-এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৯৭২-এ ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মসমর্পণ ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিশ্চয়ই এই বায়োপিকে থাকছে?

ততটাই রাখছি যতটা এই বায়োপিকের জন্য দরকার হয়।

 

আপনার তৈরি নেতাজি সুভাষ, জওয়াহেরলালের মতোই কি রোমহর্ষক হবে মুজিবের বায়োপিক?

এই প্রশ্নের উত্তর দেব কিভাবে? বরং মুক্তির পর সিনেমা হলে দেখে নেবেন।

 

আপনি এবং প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) এই ছবি কোনো বিশেষ দিনে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছেন?

মুক্তি নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করতে পারব তখনই যখন ছবি তৈরির কাজ পুরো শেষ হবে।

 

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগের এই প্রযোজনা দুই দেশের মৈত্রীকে কত দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে?

আমার মনে হয় এই ছবি ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

 

তপন বকসি ভারতীয় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক



সাতদিনের সেরা