kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

১০০ ছবির ঘোষণা

বদলাবে ইন্ডাস্ট্রি?

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১৬ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০০ ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে হৈচৈ বাধিয়ে দেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া। কেউ বলছেন, এই দুর্দিনে কাজ পাবে শিল্পী-কলাকুশলীরা, বদলে যাবে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। কেউ বলছেন, কম বাজেটের এসব ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রের কোনো উন্নতিই হবে না। চলুন শুনি কারা কী বলছেন...


সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য

শাপলা মিডিয়ার এই ১০০ ছবি নির্মাণ প্রকল্প তদারকি করছেন পরিচালক শাহীন সুমন ও অপূর্ব রানা। শুনুন তাঁদের কথা

 

শাহীন সুমন

আমরা শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে একটা চুক্তিতে গেছি। একজন শিল্পী টানা তিন-চারটি ছবি করবেন। সে ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক কিছুটা কম দিতে পারছি। অহেতুক অনেক খরচও হয়। সেটা কমানোর চেষ্টা করেছি। প্রথম লটে ১০ ছবির শুটিং শুরু করেছি। এগুলো শেষ হতে হতে আরো ১০টা ইউনিট পাঠাব শুটিংয়ে। ১০ ছবির সবই পূর্ণাঙ্গ ছবি হবে এবং হলে রিলিজ হবে। এফডিসিতে এলে দেখবেন মানুষে গমগম করছে। অনেক দিন পর নতুন রূপে ফিরেছে এফডিসি। এফডিসির একজন চাওয়ালাও তো উপকৃত হচ্ছেন। শুধু চলচ্চিত্র নয়, টিভি নাটকের অনেকেই কাজ করছেন এখানে। পরিচালক সমিতির সদস্যদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে কাজটা করছি। বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে এমন ছবিই নির্মাণ করব আমরা।

যাঁরা এই প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত নন তাঁরাই বাজে মন্তব্য করছেন। চলচ্চিত্রের ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে গেছেন।

 

অপূর্ব রানা

দুই-তিন কোটি বাজেটের জন্য যদি বসে থাকি তাহলে বছরে কয়টা ছবি হবে এখন? কতজন পরিচালক, শিল্পী-কলাকুশলী কাজ করতে পারবেন এখানে? এসব প্রশ্নের উত্তর সবাই জানেন। তবু কেউ কেউ বিরোধিতা করতে হবে বলে কিছু বলছেন। একজন শিল্পী, কলাকুশলী যখন দিনের পর দিন বেকার বসে থাকেন, সেটা কত কষ্টকর তা শুধু তিনিই বোঝেন। একটা কাজের জন্য হাহাকার লেগে থাকে। আমরা তো এফডিসির মানুষ, এখানে এলে এসব আমরা দেখি-বুঝি। বাইরে থেকে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন, তিনি কিন্তু সহকর্মীদের এই অনুভূতি বুঝবেন না।

আমরা সবাই মিলে সমঝোতা করে পারিশ্রমিক কমাচ্ছি, কিন্তু পর্দায় কোথাও ফাঁকি দিচ্ছি না। ২৬ মার্চ ‘সিনেবাজ’ নামে আমাদের একটা অ্যাপও আসছে। হলে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি এই অ্যাপেও মুক্তি পাবে ছবিগুলো।

 


প্রতিক্রিয়া

যেখানে পাশের দেশের ছোট্ট মালয়ালাম ইন্ডাস্ট্রি এখন ৩০০ কোটি রুপির সিনেমা বানাচ্ছে, সেখানে আমরা নাকি ১০-২০ লাখে নেমে এসেছি! যাঁরা সিনেমাকে এ অবস্থায় নামিয়েছেন তাঁরা বলছেন, ‘ভাই না খেয়ে মরছে ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। তাদের আমি কাজ দিচ্ছি।’ আমার কথা স্পষ্ট, ‘তোমার কাজ দেওয়ার দরকার নাই। তুমি কে কাজ দেওয়ার?’ আমার ১০০-৫০০ ছবির দরকার নেই। একটা ভালো ছবিই ঘুরিয়ে দিতে পারে ইন্ডাস্ট্রির চাকা। অনেকেই জানেন, আমার এমনও অনেক ছবি আছে যেটা এক মাস চালিয়ে ছয় মাসের লোকসান পুষিয়ে নেন হল মালিকরা। আমাদের সেই ছবিটি দরকার। আমার ছবি শুধু (সিরাজগঞ্জের) চালার ‘সাগরিকা’য় চলবে, সেই স্বপ্ন দেখলে এখন আর হবে না। সঙ্গে প্যারিসের স্বপ্নটাও দেখতে হবে।

‘লিডার—আমিই বাংলাদেশ’ ছবির মহরতে অভিনেতা শাকিব খান

 

মতিন রহমান

চলচ্চিত্র পরিচালক

নির্মাতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বিষয়টিকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাব। ছবিগুলো সঠিকভাবে নির্মিত হলে একটা নবজাগরণ হতেও পারে। কিন্তু ১০০ ছবি নির্মাণ করে শাপলা মিডিয়া কী করতে চায়? সিনেমার বাঁকবদল, নাকি এটা পলিটিক্যাল কোনো স্ট্যান্ড—সেটা কিন্তু জানি না। তবে চিত্রনাট্যের চাহিদামাফিক বাজেট না হলে সেটা অবশ্যই পর্দায় ফুটে উঠবে। আগে দুই কোটি খরচ করে যে ছবি হতো, সেটা ৩০ লাখে বানাতে গেলে কিছুই হবে না। কিছুদিন আগে শাবানা, ওয়াহিদ সাদিক আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁরাও ব্যাপারটি জানেন। জানতে চেয়েছেন, ‘বলো তো কী হচ্ছে? এটা কি ধর তক্তা মার পেরেক হচ্ছে, নাকি প্রপার প্ল্যানিংয়ে এগোচ্ছে? বিনিয়োগটাকে কিন্তু কাজে লাগাতে হবে। চলচ্চিত্রের জন্য এটা ঘুরে দাঁড়ানোর বড় একটা সুযোগও হতে পারে।’

 

বদিউল আলম খোকন

পরিচালক সমিতির মহাসচিব

আমি তিন কোটি টাকার ছবিও করেছি। এখন যদি ২০-৩০ লাখ টাকার বাজেট পাই, ছবি করতে পারব না! তবে একজন পরিচালক হিসেবে এটাও বলতে পারি না, এই বাজেটে ছবি হবে না। এই বাজেটেও পর্দায় একটা সুন্দর গল্প বলা যায়, দর্শকের সেটা ভালো লাগতেও পারে। এসব ছবি ইন্ডাস্ট্রির কতটা লাভ-ক্ষতি করবে—সেটা সময়ই বলে দেবে। শাপলা মিডিয়ার উদ্যোগটাকে সাধুবাদ জানাই, অনেক লোকের কর্মসংস্থান যে হচ্ছে, এটা তো অস্বীকার করা যাবে না।

 

ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ

হল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি, ‘মধুমিতা’ হলের কর্ণধার

শাপলা মিডিয়ার ছবিগুলোর মান ভালো না হলে তো আমরা হলে চালাতে পারব না। আমরা এখনো সিনেমা হল বন্ধ রেখেছি। খুললেই মাসিক মিনিমাম আট লাখ টাকা খরচ। একটা শাকিব খানের সিনেমা এলে আমাদের পুষিয়ে যায়। তাঁর বিকল্প ভাবতে হলে শক্তভাবে আগাতে হবে। হয় তারকা জোর, নয়তো গল্পের জোর থাকতে হবে। ‘দেবী’, ‘আয়নাবাজি’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর মতো সিনেমা দিয়ে কিন্তু ব্যবসা সম্ভব হয়েছে। এখন কনটেন্ট বেইজড ছবি করতে হবে। শুধু গান, নাচানাচি জুড়ে দিলেই হবে না।

মন্তব্য