kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

ঘুরে দাঁড়ালেন মাহি

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুরে দাঁড়ালেন মাহি

ভেবেছিলেন, এই বুঝি সিনেমা ছেড়ে অন্য পেশায় নামতে হবে! হাতে ছিল না কোনো ছবিই। নতুন বছরের শুরুতে সমীকরণ আমূল বদলে গেল। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মাহিয়া মাহিতাঁকে নিয়ে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

করোনাকালের শুরুতে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। অবসাদ ঘিরে ধরেছিল। ছয় মাসের বেশি সময় কোনো ছবির প্রস্তাব পাননি। ঘরে বসে সময়ও কাটছিল না। তিনি নায়িকা, গ্ল্যামারটাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১০-১৫ বছরের বেশি সময় গ্ল্যামার ধরে রাখাটাও কঠিন। ক্যারিয়ারের ৯ বছর পার করেছেন এরই মধ্যে। নানা আলুথালু চিন্তা মাথায় ভর করছিল। কী করবেন, কী হবে—কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না মাহিয়া মাহি।

একসময় চলচ্চিত্রের ভাবনা ভুলে নিজের অনলাইন পোশাকের ব্যবসা ‘ভারা’র পেছনে সময় দিতে শুরু করেন। ধানমণ্ডি, মিরপুর, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের বাড়িতে নিজেই হাজির হয়েছেন। পৌঁছে দিয়েছেন পণ্য। অবশেষে সেপ্টেম্বরে মাহির কাছে আশীর্বাদ হয়ে আসে সরকারি অনুদানের ছবি মুস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘আশীর্বাদ’। এই ছবির শুটিং চলাকালেই কথা হচ্ছিল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার সঙ্গে। শুরুতে ব্যাটে-বলে মিলছিল না। ১৮ জানুয়ারি শেষ হলো অপেক্ষার পালা। হালে পানি পেলেন ‘অগ্নি’ কন্যা। একটি-দুটি নয়, প্রতিষ্ঠানটির চার-চারটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেন মাহি—শাহীন সুমনের ‘গ্যাংস্টার’, শামীম আহমেদ রনীর ‘নরসুন্দরী’, ‘বুবুজান’ ও ‘লাইভ’। এর কিছুদিন পরই হাতে এসেছে আরেক নতুন ছবি ‘যাও পাখি বলো তারে’। এর মধ্যে ‘লাইভ’ ছবির শুটিং শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। ‘গ্যাংস্টার’-এর শুটিং করবেন ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে। ১০ ফেব্রুয়ারি আবার ঢুকবেন ‘যাও পাখি বলো তারে’র সেটে। সব মিলিয়ে ‘ম্যাজিক মামণি’র বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে।

‘আমি বিশ্বাস করতে পারিনি এভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আসলে ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে কখনো বেকার থাকতে হয়নি। শিডিউল জটিলতায় বড় বড় নির্মাতাদেরও ফিরিয়ে দিতে হয়েছে একসময়। সেই আমিই কি না ছবিশূন্য ছিলাম! এমন পরিস্থিতি দাঁড়াবে কখনো ভাবিনি। নতুন বছরের শুরুটা আমার ক্যারিয়ারেরও নতুন শুরু এনে দিল’, বললেন মাহি।

সময়টাকে মাহি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস ভাবছেন। তাঁর ভাষায়, বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। ‘বুবুজান’-এ তিনি ধর্ষিতা নারী, তাঁর কোনো নায়ক নেই। ‘লাইভ’-এ তিনি বিবাহিতা নারী। স্বামী বড় বিজ্ঞানী। গবেষণা করতে বিদেশে যায়। তখন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মাহি, যে সম্পর্ক কেড়ে নেয় অনেক প্রাণ। পর্দায় মাহিকে আগে এমন সব চরিত্রে দেখা যায়নি। মাহি বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা কিন্তু চারপাশে অহরহ ঘটছে। দুই বছর আগেও হয়তো এ ধরনের ছবিতে অভিনয়ে রাজি হতাম না। করোনা পরিস্থিতি আমাকে অনেক শিখিয়েছে। আগে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজনসহ অন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট দেখা হতো না। স্বেচ্ছাবন্দি সময়টাতে অনেক কনটেন্ট দেখেছি। বাস্তব জীবনের গল্পই সেখানে বেশি উঠে আসে। আমারও মনে হয়েছে কাল্পনিক ঘটনার চেয়ে আশপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে তৈরি ছবি বা ওয়েব ফিল্ম দর্শকদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।’

ঘুরে দাঁড়ানোর পর এবার মাহি ঠিক করেছেন, যেকোনো ছবিতে কাজ করার আগে জেনে নেবেন নির্মাতা কে? প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংটাও দেখবেন। নির্মাতা ও প্রডাকশন মনমতো হলেই গল্প শুনতে চাইবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা