kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

প্রশংসিত দেশি ২

সিনেমাটিকে মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফির ‘জানোয়ার’ ও হইচইয়ে মুক্তি পাওয়া আশফাক নিপুণের ‘কষ্টনীড়’-এ মজেছে দেশীয় দর্শক। দুই ওয়েব ছবি নিয়ে পরিচালক বলেছেন তাঁদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথা

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রশংসিত দেশি ২

আলোচনায় ‘জানোয়ার’ ওয়েব ছবির এই পাঁচ ‘মন্দ লোক’

রিলিজের দিনই হুলুস্থুল পড়ে গেল

রায়হান রাফি

করোনার ঘরবন্দি সময়ে গাজীপুরে ঘটা মর্মান্তিক ঘটনাটি পত্রিকায় পড়ি। এক রাতে একটা পুরো পরিবার তছনছ হয়ে গেল! ভীষণ ইমোশনাল হয়ে যাই। সিদ্ধান্ত নিলাম, ছবি বানাব। যাঁরা এখানে কাজ করেছেন তাঁদের প্রায় সবাই আগে কোনো না কোনো প্রজেক্টে আমার সঙ্গে কাজ করেছেন। সবাই আন্ডাররেটেড অভিনয়শিল্পী। বড় তারকাশিল্পী নিতে পারতাম; চেয়েছি তারকা নয়, দর্শক গল্পটা দেখুক। আন্ডাররেটেড শিল্পীদের কাছ থেকে নির্ভেজাল অভিনয়টাও পেয়েছি। ভেবেছিলাম, ধীরে ধীরে হয়তো ছবিটা মানুষ দেখবে। দ্বিধায় ছিলাম, একটা নতুন অ্যাপে দর্শক কি আসলেই টাকা দিয়ে ছবিটা দেখবে! হলো উল্টোটা। রিলিজের দিনই হুলুস্থুল পড়ে গেল চারদিকে। তিন দিনেই ছবির নির্মাণব্যয়ের দ্বিগুণ টাকা উঠে এলো। তার চেয়েও বড় কথা, মানুষ ছবিটার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আহ্বান এলো, কেউ পাইরেটেড কপি দেখবে না। টাকা দিয়েই দেখবে। দুই টাকা তো খুব বেশি কিছু না। 

আমাদের উদ্দেশ্যটা সৎ। চেয়েছি, নারীরা যেন আর নির্যাতিত না হয়। চেষ্টা করেছি অশালীন কিছু না দেখিয়েই ঘটনার ভয়াবহতাটা বোঝাতে।

শুটিংয়ের আগে তদন্তকারী ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে ওই লোকগুলোর মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছি। রিসার্চ করে যা পেয়েছি সেটাই তুলে ধরেছি। শুটিংয়ের সময় কোনো অভিনয়শিল্পীই বাসায় যেতে পারেননি। কারণ তাঁরা চরিত্রের মধ্যেই ছিলেন। ছবির অভিনেতা অপু, লিমন ভাইদের ছোট্ট মেয়ে আছে। তাঁরা কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, ছবিটা তাঁরা করছেন, যেন তাঁদের কন্যা এ ধরনের সিচুয়েশনের মুখোমুখি না হয়। এডিটর সিমিত রায় অন্তর নিজের মেয়ের কথা ভেবে অনেকবার কেঁদেছেন। ছবিটা হিট হবে এটা নিশ্চিত হলাম যখন সন্ধির কাছে সাউন্ড করতে দিয়েছিলাম। ছবি দেখে হাউমাউ করে কেঁদে সন্ধি বলল, ‘আমি কাজটা করতে পারব না।’ বারবার নিজের মেয়ের ছবিটা চোখের সামনে ভাসছিল তাঁর। তিন দিন পর নিজেই ফোন দিয়ে বললেন, ‘ভাই, ছবিটা করতে চাই। আমার মেয়ের ভবিষ্যতের জন্যই করতে চাই।’

 

হইচইয়ের প্রথম ফ্যামিলি ড্রামা

আশফাক নিপুণ

ঈদুল আজহার পরপরই ভারত থেকে কল করে হইচই টিম। আমাকে দিয়ে তাঁরা ফ্যামিলি ড্রামা বানাতে চায়। এর আগে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সবার সুখ-দুঃখের গল্প বলেনি হইচই। একটা গল্প শুনিয়েছি, তাতেই ওরা রাজি। পরিবারে দুজন সদস্যও যদি রাখতাম, তা নিয়েও তাদের আপত্তি ছিল না। আমিই চাচ্ছিলাম, পরিবারে যেন অনেক ক্যারেক্টার থাকে। আমার সর্বশেষ কয়েকটা কাজে সে চেষ্টাও করেছি। এবার যখন স্বাধীনতা পেয়েছি, সেটা আরো বেশি করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও মা-বাবাকে নিয়ে পরিবার। পাঁচজন পাঁচ রকম মানসিকতার। রাষ্ট্র, সমাজ—সব কিছুই আছে এই গল্পে। গল্পের প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে এখানকার ভূ-রাজনৈতিক মিল আছে। আমি মনে করি, পরিবারের সমস্যার ভেতর দিয়ে বড় কিছু কথা বলতে পেরেছি। ‘কষ্টনীড়’ অনেক প্রথমের জন্ম দিয়েছে। তারিক আনাম খান, রুনা খান, সাঈদ বাবু, শ্যামল মাওলাদের সঙ্গে প্রথম কাজ আমার। এঁদের অনেকের হইচইয়ে অভিষেক হলো ‘কষ্টনীড়’ দিয়ে। সাত দিন শুটিং হয়েছে। এই সাত দিনে শুটিং ইউনিটের সবাই পরিবার হয়ে উঠেছে। শুটিংয়ের আগে আমি এটাই চেয়েছিলাম। এমনও হয়েছে, সাবেরী আপার একদিন শুটিং ছিল না। আগের দিন তিনি আমাকে বলেন, ‘কালও তো শুটিং আছে, আমি যাদি আসি কোনো সমস্যা হবে?’ আমি বলেছি—না, আপনি চলে আসুন।

এ পর্যন্ত যত ফিকশন বানিয়েছি, কোনোটার বেলায়ই প্রত্যাশা রাখিনি। প্রত্যাশা রাখলেই চাপে পড়ে যেতে হয়। তবে ‘কষ্টনীড়’ প্রচারের পর ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছি। কেবল বাংলাদেশের দর্শকই নন, ভারতের দর্শকও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। উপমহাদেশের যেকোনো পরিবারের সঙ্গেই গল্পটাকে মেলাতে পারছেন দর্শক। পরিচালক, অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে যাঁরা ফিল্ম নিয়ে লেখালেখি করেন কিংবা ফিল্ম নিয়ে পড়ান—সবার কাছ থেকেই ইতিবাচক রেসপন্স পেয়েছি। গল্পে কিছু বিষয় ঊহ্য রেখেছি, সমালোচকরা সেটা বুঝে নিয়েছেন এবং সেটা প্রকাশ করছেন তাঁদের কথায় ও লেখায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা