kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কম টাকায় বেশি ছবি

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কম টাকায় বেশি ছবি

মনিটরে অপু বিশ্বাস, ‘ছায়াবৃক্ষ’ ছবির শুটিংয়ে

প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমতে কমতে অর্ধশতে এসে ঠেকেছে। তার ওপর করোনার প্রভাব বেশ ভালোই পড়েছে চলচ্চিত্রে। পুরনো প্রযোজকরা এখন অর্থ লগ্নি করতে নারাজ। টিকে থাকতে স্বল্প বাজেটে বেশি বেশি ছবি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন নির্মাতারা। এতে কি শেষরক্ষা হবে? লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

গত বছরের ব্যবসাসফল ছবি মালেক আফসারীর ‘পাসওয়ার্ড’ নির্মিত হয়েছিল প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে। সেই পরিচালক এখন ‘ধামাকা’ বানাচ্ছেন মাত্র ৭০ লাখ টাকায়। শুধু আফসারীই নন, কম বাজেটে ছবি বানাচ্ছেন অন্য নির্মাতারাও। সৈকত নাসির তাঁর প্রথম ছবি ‘দেশা দ্য লিডার’ করেছিলেন প্রায় দেড় কোটি টাকায়। সম্প্রতি তিনি ‘বর্ডার’ ছবির শুটিং শেষ করেছেন, যার বাজেট মাত্র ৬০ লাখ টাকা। নব্বই দশকের ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর। ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘কুলি’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘ডিসকো ড্যান্সার’-এর মতো বড় বাজেটের ছবি বানিয়েছেন। মাঝখানে কয়েক বছর ছবিখরায় ভুগছিলেন তিনি। মনের মতো বাজেট পাননি। ভেবেছিলেন আর ছবি নির্মাণ করবেন না। পেশা বদলের কথাও ভেবেছিলেন। চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রেক্ষাপটের কথা চিন্তা করে আকবর নিজের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন আবার। এখন ২৫ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বাজেটের মধ্যে নির্মাণ করছেন একের পর এক ছবি। ‘কম টাকায় বেশি ছবি’ নীতি মেনে এর মধ্যে শেষ করেছেন ‘কাজের ছেলে’ ও ‘আয়না’। নতুন ছবি ‘সীমানা’র শুটিং শুরু করবেন আগামী সপ্তাহে। সেটি শেষ করেই ধরবেন নাম ঠিক না হওয়া আরেকটি ছবির কাজ। এভাবে একে একে মার্চের মধ্যেই শেষ করতে চান ছয়টি ছবি।

আকবর বলেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৫০টির বেশি ছবি নির্মাণ করেছি ক্যারিয়ারে। ইন্ডাস্ট্রি আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, ইন্ডাস্ট্রির প্রতিও আমার দায়িত্ব আছে। দেশে ছবির অভাবে একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ কমে যাচ্ছে। তাই চাই বেশি বেশি ছবি হোক। অন্যরাও কম বাজেটে ছবি করুক।’

মাত্র ১৮ দিনে অপু বিশ্বাস ও বাপ্পী চৌধুরীকে নিয়ে ‘প্রিয় কমলা’ শেষ করেছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। ১৬ ডিসেম্বর চ্যানেল আইতে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারও হবে ছবিটির। অবশ্য ছবির বাজেটের পরিমাণ বলতে না চাইলেও জয় জানিয়েছেন, মুক্তির আগেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। কারণ ইউটিউব রাইটস ও বিভিন্ন স্পন্সর বাবদ বেশ টাকা ঘরে এসেছে। জয়ের মতে, করোনা পরিস্থিতি সারা বিশ্বকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এই অবস্থায় যার যার কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নিতে হবে। এখন মানুষ হলে যাবে না। তাহলে মাথায় রাখতে হবে, হল ছাড়া কিভাবে লগ্নিকৃত টাকা আসবে। ‘আমার ধারণা অনেক পরিচালক টাকা ফেরত পাওয়ার চিন্তা না করেই ছবি নির্মাণ করতে নেমেছেন। সেটা হলে ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা আরো খারাপ হবে। ৩৫ লাখ টাকাও কিন্তু কম নয়! ভালো গল্প, ভালো পরিচালক হলে শুধু টিভি রাইটস থেকেই ৩০ লাখ টাকা পাওয়া সম্ভব। এরপর ইউটিউব রাইটস তো আছেই। সঙ্গে যদি কয়েকটি স্পন্সর জুটে যায় তাহলে প্রযোজক লাভবান হবেন’, বললেন জয়।

‘কাজের ছেলে’ ছবিতে সাইমন ও আঁচল

স্বল্প বাজেটে ছবি নির্মাণ আগেও হয়েছে। তবে এখন যেন হিড়িক পড়ে গেছে। সায়মন তারিকও টানা সাত ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’, ‘রোড নাম্বার সেভেন’, ‘দেবর কতো আপন’ ছবিগুলোর বাজেটও কম।

সায়মন বলেন, ‘আমরা চাইলেই কম বাজেটে নিয়মিত ছবি নির্মাণ করতে পারি। টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের সহযোগিতা করতে হবে। আমি যে ছবিগুলো করছি তার প্রতিটিতে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের সহযোগিতা পেয়েছি। এটা অব্যাহত থাকলে আমি একাই বছরে ছয়টি ছবি করতে পারব।’

টেকনিশিয়ানরা এখন বেশির ভাগ ছবিতে দিন চুক্তিতে কাজ করছেন। করোনার বিরতি কাটিয়ে হলে ফেরা প্রথম ছবি মুকুল নেত্রবাদীর ‘সাহসী হিরো আলম’। কম বাজেটের এই ছবিটির চিত্রগ্রাহক এস এম আজাহার। তিনি শাকিব খান অভিনীত অনেক বড় বাজেটের ছবিরও চিত্রগ্রাহক। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে আগে ছবি হোক, পরে সম্মানীর কথা চিন্তা করব। মুকুল যখন ছবিটির প্রস্তাব দিয়েছেন আমি একবাক্যে রাজি হয়েছি। মনে হয়েছে একটা ছবি তো অন্তত হচ্ছে। মানুষ প্রশংসা না করুক সমালোচনা করার জন্যও তো একটা কনটেন্ট পাবে।’

বেশি বেশি ছবি হোক সেটা এখনকার নায়ক-নায়িকারাও চান। আঁচল যেখানে এক ছবিতে পারিশ্রমিক দাবি করতেন পাঁচ লাখ টাকা, সেখানে মাত্র দুই লাখ টাকায় এখন ছবি করছেন। সাইমন সাদিক সাত লাখ টাকা থেকে নেমেছেন দুই লাখ টাকায়। পারিশ্রমিক কমিয়েছেন অপু বিশ্বাস, বাপ্পী চৌধুরী, এমনকি শাকিব খানও। আঁচল বলেন, ‘এখন হলে দর্শক ফিরিয়ে আনাটাই প্রথম চ্যালেঞ্জ। আমি সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়া মানুষগুলোর সঙ্গে শামিল হয়েছি। আমি তো নায়িকা—মেকআপ, ড্রেস কিংবা আনুষঙ্গিক খরচেই একটি ছবিতে চলে যায় দেড় লাখ টাকা। নিচ্ছি মাত্র দুই লাখ টাকা। তাহলে থাকছে কত? তবু কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি অন্যরাও সেটা করবেন।’

‘কম টাকায় বেশি ছবি’র স্লোগানে মিশেছেন সংগীত পরিচালকরাও। আগে যেখানে চলচ্চিত্রের গান মানেই লাখ টাকা বাজেট। এখন সেখানে মাত্র ২৫ হাজার টাকার প্যাকেজে তৈরি হচ্ছে গান। সবার একটাই কথা, আগে ছবি হোক পরে সম্মানীর কথা চিন্তা করা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা