kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

অতঃপর ঊনপঞ্চাশ বাতাস

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অতঃপর ঊনপঞ্চাশ বাতাস

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল সিনেমা বানাবেন, ঘোষণার পর থেকেই আলোচিত ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে কাল মুক্তি পাবে ছবিটি। প্রধান দুই চরিত্রের শিল্পী শারলিন ফারজানা, ইমতিয়াজ বর্ষণ ও পরিচালক উজ্জ্বলের কথা শুনেছেন মীর রাকিব হাসান

‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’, নামটা অনেকের কাছে দুর্বোধ্য। পরিচালক উজ্জ্বল অভিযোগটাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিতে চান না। বলেন, ‘ঊনপঞ্চাশ বাংলা শব্দ, বাতাসও তাই। দৈনন্দিন নানা কাজে শব্দ দুটো তো আমরা উচ্চারণ করি! দুটো শব্দ মিলে কিন্তু একটা বাগধারা, ঊনপঞ্চাশ বায়ু।’ একটু থেমে উজ্জ্বল আরো বলেন, ‘প্রশ্নটা অনেকবার শুনেছি। খুব কম সাধারণ মানুষ পেয়েছি, যিনি নামটা নিয়ে প্রশ্ন করেননি। নামটা কিন্তু সার্থক। কয়টা সিনেমার নাম নিয়ে মানুষ এভাবে প্রশ্ন করে? তার মানে নামটা কৌতূহল তৈরি করতে পেরেছে। কেউ যদি বিরক্ত হয়ে থাকেন সেটাও এক ধরনের কৌতূহল। ঊনপঞ্চাশ বায়ু মানে পাগলামি। বাগধারাটা এসেছে ঋগ্বেদ থেকে।’

‘পাঁজর করোটি স্কন্দের মালা’ নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন উজ্জ্বল, ২০০৭ সালে। ২০১৬ সালে সেটি ছাপা হয় ‘আনন্দধারা’য়। উপন্যাসটির কিছু অংশের সঙ্গে নতুন ভাবনা যোগ করে ছবির চিত্রনাট্য করেন উজ্জ্বল। গল্পের নায়িকা নীরা, চরিত্রটি করেছেন শারলিন ফারজানা। ছোটপর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর দ্বিতীয় ছবি এটি। ঠিক ১০ বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি ‘জাগো’। এই ছবিতে যুক্ত হওয়ার নেপথ্য কাহিনি বললেন শারলিন, “উজ্জ্বল ভাইয়ের টেলিফিল্ম ‘দাস কেবিন’ করেছিলাম। শুটিংয়ের সময় জেনেছি, তিনি প্রথম সিনেমা করার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তাঁকে বলেছি, একটা ভালো গল্পের সিনেমার জন্য অপেক্ষা করছি। সম্পৃক্ত থাকতে চাই। অডিশনে তিনি অনেককেই ডেকেছিলেন। আমি সাত দিন অডিশন দিয়েছি বিভিন্ন চরিত্রের জন্য। মেকআপ ছাড়া, মেকআপসহ, একগাদা মানুষের সামনে—নানা রকমভাবে অডিশন নেওয়া হয়। তারপর জানলাম, কেন্দ্রীয় চরিত্রে আমিই নির্বাচিত হয়েছি।”

পাঁচ বছর আগে ওয়াহিদ তারেকের ‘আলগা নোঙর’-এ অভিনয় করেছিলেন বর্ষণ। এখনো মুক্তি পায়নি ছবিটি। ওয়াহিদ তারেকের রেফারেন্সেই পরিচালক উজ্জ্বল তাঁকে ফোন দেন। সেটা অবশ্য আরেকটি সিনেমার জন্য। ছবিটি অবশ্য হয়নি। ২০১৭ সালে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’-এর অডিশনে আবার ডাকা হয় বর্ষণকে। এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতীর কথা’ ছবিতেও কাজ করেছেন এই অভিনেতা।

কে কম পরিচিত, কে বেশি পরিচিত শিল্পী—এসব মাথায় আনেননি উজ্জ্বল। তিনি শুধু চরিত্রের সঙ্গে মানানসই অভিনয়শিল্পী খুঁজেছেন। মূল চরিত্রের দুজন শিল্পী যথেষ্ট ব্যস্ত না হওয়াতে বরং লাভ হয়েছে, দীর্ঘ ছয় মাস রিহার্সেলের জন্য সময় পাওয়া গেছে।

‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ কেমন ছবি? উত্তর দিলেন পরিচালক, “এটা হলিউড-বলিউড বা কলকাতার ছবির মতো না। এটা বাংলাদেশের একদম নতুন ধারার ছবি। জনরা বলতে হলে বলব ‘বিজ্ঞানমনস্ক রোমান্টিক’। এটাকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বলব কি না জানি না, কারণ সারা বিশ্বে এই ধারার ছবির যে ধরন, আমার ছবিটি ঠিক তেমন না। প্রযুক্তির ভারে আবেগ অনুভব করতে কষ্ট হবে না এখানে। এককথায় বলব, বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত  আবেগী ছবি।”

কোলাহলপূর্ণ বেশ কিছু দৃশ্য আছে ছবিতে। এসব দৃশ্যের শুটিং করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। লোকজনকে বুঝতে দেওয়া হয়নি এখানে শুটিং হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপাকে পড়তে হয়েছে। বর্ষণ বলেন, ‘ট্রেলারে দেখেছেন নিশ্চয়ই, আমার বাইকের সামনে হঠাৎ একজন শ্রমজীবী লোক এসে পড়েন। তাঁর কাধে একটা বস্তা। বস্তাসহ তিনি আমার কাঁধে এসে পড়লেন। বড় একটা দুর্ঘটনা হতে পারত। এই ঘটনার কারণে অনেকক্ষণ শুটিং বন্ধ ছিল।’

শার্লিন বলেন, ‘ঋতু ধরে শুটিংয়ের পরিকল্পনা করেছেন পরিচালক। শীতের সকালের কিছু দৃশ্য দরকার ছিল, তা শীতকালেই করেছেন। আমরা আবার অপেক্ষা করেছি গ্রীষ্মের, ছয় মাস পর আবার শুটিং। প্রথম দিনের শুটিং ছিল বৃষ্টির। আমরা যেন বৃষ্টির অনুভব নিতে পারি সে জন্য সারা দিন রেইন মেশিন চালিয়ে রাখা হয়েছিল।’

আগে টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন বর্ষণ। তবে সিনেমা করার পর আর নাটক করেননি। অমিতাভ রেজার একটা শর্ট ফিল্ম করেছেন শুধু ‘বন্ধু অথবা বন্দুকের গল্প’। চট্টগ্রামের নাটকের দল ‘অ্যাভাগার্ড’-এর সদস্য বর্ষণ। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানেই।

শারলিনকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। ছবির দুই শিল্পীকে নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, ‘নিজের সিনেমা বলে বলছি না, দুজনই অসাধারণ অভিনয় করেছে। এর চেয়ে ভালো অভিনয় কী হতে পারত সেটা আমি জানি না।’

ছবিতে নায়ক-নায়িকার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য আছে। দৃশ্যায়ণের সময় বেশ বিপাকে পড়েছিলেন বর্ষণ। কারণটা বললেন শারলিন, ‘ও খুবই লাজকু এবং চুপচাপ। খুব অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিল। পরে স্পটের সবাইকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।’

প্রচারণা কেমন হচ্ছে? ‘আমি দর্শকের ওপর বিশ্বাস রাখি। তারা ভালো সিনেমা দেখতে চায়। আমরাই তাদের দেখার ব্যবস্থা করে দিতে পারছি না। আমি বরাবরই সুষ্ঠু বিনোদনে বিশ্বাসী। আশা করি সুষ্ঠু বিনোদনে বিশ্বাসী দর্শক এই ছবি দেখবে। প্রপাগান্ডা তৈরি করার হাজারটা আইডিয়া আমার মাথায়ও আছে, যেটা দিয়ে সিনেমার জোরদার প্রচার চালানো সম্ভব। কিন্তু সিনেমার ব্যাপারে আমি শতভাগ সৎ, তাই কনটেন্টের আশপাশেই প্রচারণাটা রাখতে চাই’, বললেন উজ্জ্বল।

শারলিনের কণ্ঠে পাওয়া গেল অন্য সুর, “উজ্জ্বল ভাই কিছুটা প্রচারবিমুখ মানুষ। একটি গণ্ডিবদ্ধ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেই তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা বেশি হয়। তবে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’-এর গল্পটা সব শ্রেণির দর্শকের জন্যই। আমি আর বর্ষণ চেষ্টা করছি উজ্জ্বল ভাইকে প্রচারণায় বের করে আনার।”

গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুপিসারে বিয়ে করেছিলেন শারলিন। ছবি মুক্তির আগের সপ্তাহে সেই খবর গণমাধ্যমে জানিয়ে হৈচৈ ফেলে দিলেন নায়িকা। এটাও কি এক ধরনের প্রচারণার কৌশল? এ বিষয়ে অবশ্য উজ্জ্বলের কোনো উদ্বেগ নেই। বলেন, “ও তো আমাকে ‘গুরু’ সম্বোধন করে। বিয়ের সময় আমার কাছ থেকে দোয়া নিয়েছে। ব্যক্তিগত কিছু কারণে ও তখন কাউকে জানাতে চায়নি, আমিও কাউকে বলিনি। বিয়েটা একদমই ওর নিজস্ব ব্যাপার। খবরটা জানানোও ওর নিজস্ব ব্যাপার। আমি বিজ্ঞাপন করা মানুষ। প্রমোশনের অনেক উপায়ই বের করতে পারি। আগেও বলেছি, একদমই কোনো কৌশলে যাইনি। চেয়েছি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুধু সিনেমাটা নিয়েই আলোচনা করুক।”

ছবির গান এরই মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। পরিচালক নিজেই এখানে সংগীত পরিচালক। শুধু তাই নয়, ছবির গানগুলোতে বেশির ভাগ বাদ্যযন্ত্র উজ্জ্বলেরই বাজানো। তিনটি গানের কথা ও সুর করেছেন, একটি গানে কণ্ঠও দিয়েছেন। আরেকটি গানের সুর করেছেন সিনেমার নায়ক বর্ষণ। 

বারবার মুক্তির তারিখ ফেলেও পিছিয়ে যাওয়া ছবিটি অবশেষে কাল মুক্তি পাবে। স্টার সিনেপ্লেক্সের হলগুলো চালু হবে এই ছবি দিয়েই।  চলবে চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনেও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা