kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এলিটার প্রিয় ৫ গান

কেবল শ্রোতাপ্রিয়তার বিচারে নয়, গেয়ে নিজেও তৃপ্তি পেয়েছেন এমন পাঁচটি গানের গল্প শুনিয়েছেন এলিটা করিম

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এলিটার প্রিয় ৫ গান

 

মিথ্যা

কথা : জুবায়ের হোসেন ইমন

কণ্ঠ : জন কবির ও এলিটা, ব্যান্ড : ব্ল্যাক

অ্যালবাম : আমার পৃথিবী [২০০২]

‘ব্ল্যাক’ তাদের প্রথম এই অ্যালবামে আমাকে অতিথি শিল্পী হিসেবে নিয়েছিল। জন ভাইয়ের সঙ্গে দ্বৈত এই গানের চারটি লাইন গেয়েছি। গানটি আমার কাছে স্পেশাল, কারণ এটির মাধ্যমেই রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। রেকর্ডিং হয়েছিল সাউন্ড গার্ডেনে। রেকর্ডিস্ট ছিলেন দূরে ভাই। প্রথম রেকর্ডিং, স্বভাবতই ভীষণ নার্ভাস ছিলাম। ব্ল্যাকের তখনকার সব সদস্য ছিলেন সেখানে। তাঁদেরও কোনো অ্যালবাম বের হয়নি। কিন্তু কনসার্ট করে তত দিনে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। সেদিনই প্রথম রেকর্ডিংয়ের সময় হেডফোনের ব্যবহার শিখি। তার আগে শিখেছি, গলা ছেড়ে গাইতে হবে। রেকর্ডিংয়ে গলা পুরোটা ছেড়ে না দিয়ে অনেক কাজ করতে হয়। স্মৃতিময় এই গানটি এ কারণেই আমার প্রিয়।

 

কোথায়

কথা :  আশিক, ব্যান্ড : রাগা

অ্যালবাম : রাগা [২০০৫]

গানের প্রথম লাইন, ‘হঠাৎ দুজনে কেন হারালাম’। হৃদয়স্পর্শী কথাগুলো লিখেছেন আশিক ভাই। রাগা ব্যান্ড তৈরিতে তিনিই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিলেন। রাগার যাত্রা শুরুর আগেই গানটি রেকর্ড করছিলাম, দেখতে চেয়েছি প্রথম গান কেমন হয়। রেকর্ডিংয়ের জন্য আমি আর আশিক ভাই প্রথমে গিয়েছিলাম বালাম ভাইয়ের কাছে। গানটি শুনে তিনি আমাদের নিয়ে গেলেন হাবিব ভাইয়ের স্টুডিওতে। তখন হাবিব ভাইয়ের মাত্র ‘কৃষ্ণ’ অ্যালবাম রিলিজ হয়েছে। গানগুলো তুমুল জনপ্রিয়। মজার ব্যাপার হলো, সেদিন আমরা হাবিব ভাইয়ের স্টুডিওর গেট দিয়ে ঢুকতে পারছিলাম না। কোনো একটা কাজ চলছিল স্টুডিওর গেটে। আমাদের দেয়াল টপকে যেতে হয়েছে স্টুডিওতে। হাবিব ভাই এখনো বলেন, এলিটার সঙ্গে ফার্স্ট মিটিংটাই হয়েছে দেয়াল টপকে, সোজা রাস্তায় না। গানটি এখনো অনেকে পছন্দ করেন। এখনো মঞ্চে এই গানের অনুরোধ আসে। নিয়মিতই গাইতে হয় আমাকে।

 

যখনই নিবিড় করে [রিমেক]

কথা : আহমেদ ইউসুফ সাবের

সুর : ফোয়াদ নাসের বাবু

অ্যালবাম : বন্য [২০০৭]

ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে আমার প্রথম গান। নিলয় দাসের অদ্ভুত সুন্দর এই গানটির সুর করেছেন ফোয়াদ নাসের বাবু। ফুয়াদ যখন বলল, এই গানটি রিমেক করব, তুমি গাইবে, তারপর গানটা যে কতবার শুনেছি, গুনে বলতে পারব না। রাতে শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছি, ভার্সিটি থেকে ফিরে আবার শুনেছি। নিলয় দাসের গলায় একটা ‘র’ ব্যাপার আছে। অনেক আবেগ দিয়ে গেয়েছেন। শুনেছি, গানের বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর জীবনের ঘটনার অনেক মিল। রেকর্ডিংয়ের আগে নিজেকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি, নিলয় দাসের ১০ শতাংশ আবেগ দিতে পারলেই হবে। আশাহত হতে হয়নি, শ্রোতারা আমার কণ্ঠেও গানটি পছন্দ করেছেন।

 

মিনতি

কথা :  তানভীর সজীব, সুর ও সংগীত : অর্ণব,

অ্যালবাম : অকারণ [২০১০]

বাপ্পা মজুমদার, পার্থ বড়ুয়া, অর্ণব আর আমার মিক্সড অ্যালবাম। অতিথি শিল্পী ছিলেন মাশফিক ও শাওলী। অ্যালবামের পরিকল্পনা করেছিলেন বাপ্পাদা। এটার বিশেষত্ব হলো, একজন আরেকজনের জন্য গান তৈরি করবেন। অ্যালবামে আমার দুটি গান—একটা বানিয়েছেন বাপ্পাদা, আরেকটা অর্ণবদা। অর্ণবদার ‘মিনতি’ আমার কাছে খুবই স্পেশাল, কারণ তাঁর সঙ্গে এটাই আমার একমাত্র কাজ। অর্ণব স্টাইলেরই গান। লাইভে খুব একটা গাওয়া হয়নি, আমার অবশ্য অনেক ভালো লাগে গানটি। লিরিকে নাম গেছে তানভীর সজীবের। তবে সজীবের লিরিকটা ভেঙে নতুন করে লিখে সুর করেছেন অর্ণবদা।

 

আমি উড়ে যেতে চাই

কথা ও সুর : ফুয়াদ আল মুক্তাদির

অ্যালবাম : এলিটা [২০১৫]

আমার প্রথম সলো অ্যালবামের গান। লিরিকটা আমি নিজে লিখে ফুয়াদের কাছে নিয়ে যাই, কিন্তু ওর একদমই পছন্দ হয়নি। ও বলে, ‘কী আজেবাজে লিরিক নিয়ে আসছ, কিছুই হয়নি। আগামী সপ্তাহে আসো, তোমার জন্য একটা কিছু রেডি করতেছি।’ পরে দেখি ফুয়াদ আমার লিরিকটা ভেঙে অন্য রকম ডিজাইন করে সুর করে রেখেছে। গানটা যখন স্টেজে গাওয়া শুরু করলাম, খুব ভালো সাড়া পেলাম। গান বাংলার ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ অনুষ্ঠানে এই গান এবং তপুর ‘এক পায়ে নূপুর’ নিয়ে একটা ম্যাশআপ করি, যেটা নতুন করে বেশ সাড়া ফেলেছে।

 

[আরো একটা গানের কথা বলতেই হবে—‘ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম’। আশফাক নিপুণের একই নামের ফিকশনে গেয়েছিলাম। এটা অনেকটা ‘ফ্যামিলি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস প্রডাকশন’-এর মতো। ফিকশনের অভিনেতা তাহসান ভাই, মিথিলা আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ। লিখেছেন বন্ধু অনিক খান। সুর করেছেন শাকের রাজা। স্টেজে আমার সঙ্গে শ্রোতারাও গায় এই গান, তখন খুব ভালো লাগে]

 

অনুলিখন : মীর রাকিব হাসান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা