kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পঞ্চাশে উজ্জল

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পঞ্চাশে উজ্জল

অভিষেক ছবি ‘বিনিময়’তে কবরী ও উজ্জল

১৯৭০ সালে সুভাষ দত্তের ‘বিনিময়’তে অভিষেক। এ বছর চলচ্চিত্রে পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হলো তাঁর। আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জলকে নিয়ে লিখেছেন মাহফুজুর রহমান

দেশের অন্য তারকা নায়কদের চেয়ে উজ্জল আলাদা কোথায়? উত্তরটা হলো, তাঁর ক্যারিয়ারে এমন বাঁকবদল আছে যা আর কারো নেই। আর কারো ক্যারিয়ার এমন স্পষ্ট দুই ভাগে ভাগ হয়নি। নায়ক থেকে খলনায়ক কিংবা খলনায়ক থেকে নায়ক হওয়ার ঘটনা আছে অনেকের। কিন্তু নায়ক হিসেবেই দুটি আলাদা অধ্যায়ের রচয়িতা একমাত্র উজ্জল। আর এটাই তাঁর পঞ্চাশ বছরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত দিক।

সুভাষ দত্তের পরিশীলিত ছবির ‘মার্জিত নায়ক’ হিসেবে যাত্রা শুরু। তবে বেড়ে ওঠা আজিজুর রহমান আর দীলিপ বিশ্বাসের মতো সামাজিক ছবির প্রধান দুই পরিচালকের প্রশ্রয়ে। আজিজুর রহমানের ‘সমাধান’, ‘অনুভব’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’ উজ্জলকে করে তোলে সামাজিক ছবির নির্ভরযোগ্য নায়ক। দীলিপ বিশ্বাসের ‘সমাধি’, ‘বন্ধু’, ‘দাবী’ তাঁকে দেয় তারকাখ্যাতি এবং পারিবারিক ছবির নিয়মিত দর্শকদের ভালোবাসা।

আশির দশকের শুরুতেই ঢাকাই ছবিতে শুরু হয় অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসি ছবির জোয়ার। সেসব ছবিতে সোহেল রানা, ওয়াসীম আর জসীমের আধিপত্য তখন স্পষ্ট। ঠিক তখনই উজ্জল তাঁর ক্যারিয়ারকে বইয়ে দেন সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে। ক্যাম্পাসের মঞ্চ, রেডিও, টেলিভিশন পেরিয়ে সেলুলয়েডে পা রাখা অভিনেতা বদলে যেতে থাকেন আপাদমস্তক। নিজেকে সোপর্দ করেন অ্যাকশন ছবির সফল নির্মাতা মমতাজ আলীর হাতে। নিজের পেছনে নিজেই পুঁজি ঢালেন। অর্থাৎ প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।

‘নালিশ’ দিয়ে নিরীক্ষার শুরু। ‘এই আমি ঘোড়া চালানো শিখলাম। শিখলাম বন্দুক চালানো। কোমল চেহারা নিয়ে অ্যাকশন ছবি করা যাবে না, তাই ব্যায়াম করতে শুরু করলাম। ফিটনেস বাড়াতে যা যা লাগে করলাম’, ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের স্মৃতি বললেন উজ্জল। আরো বলেন, ‘মমতাজ আলী একদিন আমাকে বললেন, ইউ আর ইন আ রং পাথ। আপনি প্রেমের ছবি করেন কেন? আপনার জন্ম হয়েছে অ্যাকশন ছবি করার জন্য।’

উজ্জলকে নিয়ে প্রথমে ‘নালিশ’ করলেন মমতাজ আলী। তারপর নতুনভাবে লিখলেন উজ্জলের ‘নসীব’। এখান থেকেই তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নব্বইয়ের দশকে প্রযোজক থেকে হলেন পরিচালক। নতুন প্রজন্মের নায়কদের সঙ্গে নিয়ে দিলেন ‘শক্তি পরীক্ষা’। অ্যাকশন ছবির ঘরানা আর ছাড়লেন না উজ্জল। কয়েক বছরের স্বেচ্ছাবিরতি দিয়ে ফিরে এলেন নতুন শতাব্দীর শুরুর দিকে। তখন তিনি চরিত্রাভিনেতা। পর্দায় শাকিব খানদের বাবা কিংবা বড় ভাই হলে কী হবে! পাকা চুল নিয়েই অস্ত্র হাতে পর্দায় দাপিয়েছেন, উচ্চৈঃস্বরে সংলাপবাজি করেছেন।

উজ্জল বিশ্বাস করেন, ১০ বছর পর পর সিনেমা হলে নতুন দর্শক ঢোকে। নতুন দর্শকের রুচি, ভাবনা এবং চাওয়া আগের দর্শকের মতো থাকে না। বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত হওয়া সহজ, সাফল্য ধরে রাখা কঠিন। প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে আবার গড়তে হয়। তারকার জীবনে একবার পরীক্ষায় সফল হলেই সব শেষ হয়ে যায় না। প্রতিদিন পরীক্ষা, প্রতিদিনই চ্যালেঞ্জ।’

পঞ্চাশ বছরের পথ একেবারে ফুলেল ছিল না, ছিল কাঁটাও। পরিচালক, প্রযোজক, সমালোচকের সমালোচনাই তাঁকে পঞ্চাশ বছরের মাইলফলক পেরোতে শক্তি জুুগিয়েছে। বাধার পর বাধা এসেছে, চ্যালেঞ্জের পর এসেছে চ্যালেঞ্জ। যখন যে কৌশল লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছে, সেটাকে ধারণ করে এগিয়ে গেছেন।

 

উজ্জলের এমনই এক কৌশল ছিল প্রেম-সমাজ-পরিবারধর্মী ছবির দুনিয়া থেকে নায়কসর্বস্ব ও অ্যাকশনধর্মী ছবির দুনিয়ায় ঝাঁপ। এই কৌশলের ফলে তাঁর ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে বেশ কিছু ব্যবসাসফল ছবি। দীর্ঘায়িত হয়েছে দর্শকপ্রিয়তাও। বড় বাজেট, বিশাল আয়োজন, বিদেশি নায়িকা—সব মিলিয়ে এক ঝলমলে তারকার জীবন উপভোগ করেছেন উজ্জল। সুপারহিট ছবির ‘মেগাস্টার’ হিসেবে যেমন, তেমনি ‘লালন’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ হিসেবেও চলচ্চিত্রের মাইলফলকে তাঁর নাম এখনো ‘উজ্জ্বল’।

 

ছবি : শেখ মেহেদী মোর্শেদ

মন্তব্য